অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

আইএমইডিকে শক্তিশালী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের তদারকি নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যয়ন বিভাগকে (আইএমইডি) শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে আইএমইডির অফিস স্থাপন,জনবল ও যানবাহন বৃদ্ধি এবং কারিগরি প্রকল্পের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব গঠনের পরামর্শ দেন।
মঙ্গলবার এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বর্তমানে দেশের অর্থনীতির যে আকার তাতে আইএমইডির পক্ষে সরাসরি প্রকল্পের তদারকি করা সম্ভব নয়।এ জন্য তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে আইএমইডির অফিস স্থাপন, জনবল ও যানবাহন বৃদ্ধি এবং কারিগরি প্রকল্পের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের যে গতি বা হার তাতে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান। তবে এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আরো অগ্রগতি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই পিসিআর বা প্রকল্প সমাপ্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।এছাড়া তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের গাড়ী, অফিস ও অন্যান্য সরঞ্জাম জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ফসলী জমি বা জলাধার ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় অবস্থান এবং একটি প্রকল্পের জন্য একজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশেষ ক্ষেত্রে কোন প্রকল্পে কারিগরি লোক পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে অনুমোদন সাপেক্ষে দু’জন পিডি থাকতে পারবেন। প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশে যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এনইসি সভায় ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়।

১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন:

যোগাযোগখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদ (এনইসি)। একইসাথে স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ৯৬২০ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি চেয়ারপরসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন,সংশোধিত এডিপিতে দারিদ্র বিমোচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি,কৃষিভিত্তিক শিল্প,বিদ্যুৎ,যোগাযোগ,আইসিটি ও কমসৃজন সহায়ক প্রকল্প প্রাধিকার পেয়েছে।
তিনি জানান,মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছিল স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থার বরাদ্দ ছাড়া ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা,সেখান থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।এর মধ্যে মূল এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা অংশে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা।সেখান থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে সরকারি তহবিলের (জিওবি) অংশে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। তবে এসবের বাইরে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব অর্থায়নসহ মূল এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনের ৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরে মোট সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
মান্নান জানান,সংশোধিত এডিপিতে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকল্পসহ মোট বরাদ্দসহ অন্তর্ভূক্ত প্রকল্প রয়েছে ১৯১৬টি। মূল এডিপিতে মোট প্রকল্প সংখ্যা ছিল ১৪৫১টি প্রকল্প। প্রকল্প বাড়ছে ৪৬৫টি। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে ৯৮৭টি নতুন প্রকল্প অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।সেই সঙ্গে বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির সুবিধার্তে ২৫৬টি বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বরাদ্দ হচ্ছে,সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুকুলে ২৪ হাজার ৪৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকুলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৩ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেয়েছে ১৯ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.