অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

আবারো টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার : আবারো বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্ব ফিরে পেলেন সাকিব আল হাসান। ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দেশের তিন ফরমেটেই অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তবে ব্যর্থতার দায়ে নেতৃত্ব হারান। সেবারই অধিনায়ক করা হয় মুশফিকুর রহীমকে। তারপর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ পর্যন্ত মুশফিকই টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেন। যদিও এর মাঝে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হারালেন টেস্টের নেতৃত্বও। এবার সাকিবের ডেপুটি হিসেবে রাখা হয়েছে মুশফিকের ভায়রা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। আজ বিসিবির নবনির্বাচিত কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘একটা ইস্যু ছিল। আমার মনে হয় এটাই আপনাদের কাছে মেইন ইস্যু হবে। আমরা টেস্ট অধিনায়ক পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পরের সিরিজে টেস্ট অধিনায়ক হচ্ছে সাকিব আল হাসান। আর সহ-অধিনায়ক হচ্ছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।’
বেশ কয়েকদিন ধরেই সাকিবের টেস্ট খেলার মানসিকতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকাতে টেস্ট সিরিজে তিনি ছুটি নিয়ে খেলতে যাননি তখন থেকে। সদ্য বিদায়ী প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের পদত্যাগের একটি কারণও ছিল সাকিবের এভাবে ছুটি নিয়ে টেস্ট খেলতে না যাওয়া। এ নিয়ে শনিবার রাতেই নাজমুল হাসান পাপন বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে জানান। ঠিক তার পরদিনই সেই সাকিবকেই করা হয়েছে টেস্ট দলের অধিনায়ক। কেন মুশফিকুর রহীমকে নেতৃত্ব থেকে বাদ দেয়া হলো! এ বছর বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ থেকেই শুরু হয় মুশফিকের সঙ্গে বোর্ডের দ্ব›েদ্বর গুঞ্জন। প্রকাশ্যেই সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে মুশফিক নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে কোচের সঙ্গেও দ্ব›েদ্ব জড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন টেস্ট অধিনায়ক। এরপর বিসিবি ও মুশফিকের দূরত্ব আরো বাড়তে থাকে। মুশফিকের এমন মন্তব্যকে দায়িত্ব জ্ঞানহীনও বলেন বোর্ড সভাপতি। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল হয়তো শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগেই টেস্ট অধিনায়ক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। শুধু বোর্ডের সঙ্গেই নয় সাকিব মুশফিকের সঙ্গে অভিমান করেই টেস্ট খেলতে যাননি বলেও গুঞ্জন ছিল। তবে আজ বিসিবি সভাপতি জানান, মুশফিকের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে চাপ মুক্ত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, একেবারেই নির্দিষ্ট কারণ আছে তা না। আর থাকলেও সেটা সব সময় বলা যাবে না। বেসিক্যালি আমরা মনে করেছি এখানে একটা পরিবর্তন হওয়া দরকার। মুশফিকুর রহীমের সেরা ব্যাটিং আমরা চাইছি। আমরা মনে করছি সে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিক। তাকে চাপমুক্ত করতে চাচ্ছি। ওভারঅল আমরা যে প্ল্যান করেছি; শুধু এখনকার দেখলে তো হবে না। আগামী চার পাঁচ বছরে, সেই প্ল্যান অনুযায়ী সেট করার জন্য তারই একটা পদক্ষেপ। অন্যান্য জায়গাতেও চেঞ্জ আসবে।’
সাকিব আল হাসান ২ বছর অধিনায়ক থাকা অবস্থাতে ৯ টেস্টে নেতৃত্ব দেন। সেখানে জয় মাত্র একটি। এছাড়াও বাকি সবগুলোতেই হারে দল। তার নেতৃত্বে শেষ সফর ছিল জিম্বাবুয়েতে। এছাড়াও সাকিবের নেতৃত্বে ৫০ ম্যাচে সেখানে জয় পেয়েছে দল ২৩ ম্যাচে। একই সময়ে চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিলেও হেরেছেন সবক’টিতে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাকিব হয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। সেখানেও তার নেতৃত্বে দল আরো দুটি ম্যাচে হারে। সাকিবের সময়েই দলে ভয়ঙ্কর রকমের বিশৃঙ্খলা ছিল। এমনকি আচরণের কারণে সাকিবকে ৬ মাস নিষিদ্ধও করেছিল বিসিবি। সেই সাকিবকেই হঠাৎ অধিনায়ক করাতে ক্রিকেট বোদ্ধাদের মধ্যেই নয় ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এছাড়াও যে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে শততম টেস্টেই দলে রাখা হয়নি তাকে করা হয়েছে সহ-অধিনায়ক।
অন্যদিকে মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশ টেস্ট দল ছিল দারুণ সফল। দেশে বিদেশে টেস্ট জয়ের দারুণ সফলতাও ছিল। ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ৭ জয় ও ৯ ড্র উপহার দেন। এর মধ্যে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট হারানো ও শ্রীলঙ্কান মাটিতে ১০০তম টেস্ট জয় বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। এমন সফল অধিনায়ককে কেন হঠাৎ সরানো হয়েছে সেটি এখনো ধোঁয়াটে প্রশ্ন হয়ে থাকবে।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.