অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

ইন্না প্রামাণিকের পেঁপে চাষ

Print

বগুড়া: শীতকালীন সবজি চাষের পাশাপাশি এবার পেঁপে চাষে সাফল্য এনেছেন আদর্শ কৃষক ইন্না প্রামাণিক। বয়স যখন ২৫ বছর তখন থেকে যুবক ইন্না কৃষি কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। তার পেঁপে ক্ষেত ও চাষের কলাকৌশল দেখে গাবতলীর শিক্ষিত বেকার যুবকেরা পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ইন্না প্রামাণিক ইতোমধ্যে মরিচ, টমেটো, পটল, ফুলকপি, শিম চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন।

বগুড়া জেলার গাবতলী নেপালতলীতে এ বছর তিনি ৭০ শতক জমিতে উন্নতজাতের দেশীয় শাহী জাতের পেঁপের চাষ করেছেন। পেঁপের চারা, সার, ওষুধ, শ্রমিকসহ ব্যয় হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। পেঁপে ধরার পর বাগানেই দাম হয়েছে ৩ লাখ টাকা। তবুও তিনি পেঁপেবাগান বিক্রি করেননি। তবে চুরির হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি রাত জেগে বাগান পাহাড়া দিচ্ছেন।

ইন্নার এ সাফল্যের পেছনে গাবতলী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম সার্বিকভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এমনকি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের পরামর্শে নেপালতলী ইউয়িনের প্রায় পাঁচ শতাধিক বেকার যুবকসহ কৃষকরা সারা বছর নানা ধরনের সবজী ও পেঁপে চাষ করছেন। ফলে, এ এলাকার প্রায় কৃষক এখন স্বাবলম্বী।

পেঁপে চাষী ইন্না প্রামাণিক বলেন, “ভবিষ্যতে আমি একটি কৃষি খামার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এলাকার বেকার যুবকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য পেঁপে চাষের আহ্বান রইল।”

তিনি আরো বলেন, “আমি প্রথমে ৮ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করে লাভ করেছি ২৫ হাজার টাকা। এরপর গতবছরে ৩৬ শতক জমি থেকে লাভ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। এ বছর ৭০ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করেছি। আশা করছি, পেঁপে বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা লাভ হবে। এছাড়াও আমি একই জায়গার ১৮ শতক জমিতে আদা ও ২২ শতক জমিতে ওলকচুর চাষ করেছি। এ দু’টি সাথী ফসল থেকে ১ লাখ টাকা লাভ আশা করছি।”

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইন্না একজন আদর্শ কৃষক। কৃষি অধিদপ্তর সব সময় তাকে সহযোগিতা করে আসছে। তার হাত ধরে নেপালতলী ইউনিয়নে পেঁপে চাষে বিপ্লব ঘটেছে।

একই গ্রামের সবজি চাষী মমিন, সেন্টু, শাহীন, জিয়াউর, ডালিম, রেজা জানান, আমাদের এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের তথ্য-পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় কৃষিকাজে আমাদের সফলতা ও সাফল্য এসেছে। খবর পেয়ে পেঁপে বাগান দেখতে যান উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান জাহিদ।

অপরদিকে, নোপালতলী আমতলীপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক নুরুল ইসলাম উজ্জল এক বিঘা, আকন্দপাড়া গ্রামের রতন ২২ শতক, শাহীন ৮০ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করে সফল হয়েছেন। পেঁপে চাষের পাশাপাশি নেপালতলীর আকন্দপাড়া, ডওর, ডি-ডওর, আমতলীপাড়া, মমিনহাটা, মহিষবাতান ও কাগইলের মীরপুর গ্রাম এখন সবজি গ্রাম হিসেবে বেশ পরিচিত।

গাবতলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহরাব হোসেন জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁপে চাষ লাভজনক। ইন্না তার দৃষ্টান্ত। এজন্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আহসান শহীদ সরকার বলেন, পেঁপে চাষে লাভ বেশি। কৃষকদের পেঁপে চাষে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। এজন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তথ্য ও পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি, আগামীতে পেঁপে ও শীতকালীন সবজি চাষ ও উৎপাদন আরো বাড়বে।
দৈনিকচিত্র.কম/এম




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.