অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

ইয়াবার প্রধান গডফাদার বদি আত্মসমর্পন করছেন!

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
ক্রেজি ড্রাগ নামে পরিচিত মরণনেশা ইয়াবার প্রধান গডফাদার আব্দুর রহমান বদি আত্মসমর্পন করতে যাচ্ছেন। ভুল বুঝতে ইয়াবা ব্যবসা থেকে তিনি নিজেকে আগেই গুটিয়ে রেখেছেন। তবে বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ধ্বংস করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীর তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করতে ইতোমধ্যে মাদককে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাই সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবার সরকারের চাপে পড়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যে তিনি প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে একটি সূত্র দৈনিক চিত্রকে নিশ্চিত করেছে।

জীবন একটাই। দুঃখ, কষ্ট, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা সব কিছু মিলে মিশেই আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবন। সুখ যেমন দীর্ঘস্থায়ী নয় তেমনি দুঃখও চিরকাল থাকে না। কিন্তু ছোট ছোট অনেক ভুল স্টেপ এর কারনে জান্তে কিংবা অজান্তে আমরা আমাদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলি। মেঘ সরে গিয়ে আকাশ যখন পরিষ্কার হয়ে যায়, চারিদিকটা কত ঝলমলে হয়ে উঠে। কিন্তু, মেঘের সাথে সাথে নিজেকে হারিয়ে ফেললে একসময় স্বচ্ছ নীল আকাশে ওঠা রংধনুটাকে আর দেখা হয় না । তাই ভুল বুঝে সঠিক পথে আসাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণের প্রথমিক শর্ত হিসেবে বদির ৩ ভাই-বোন ও ভাগিনাসহ পরিবারের ২০ জন সদস্য পুলিশ হেফাজতে চলে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ সাবেক সংসদ বদি ও তার ভাই দেশের অন্যতম শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আব্দুর শুক্কুর আত্মসমর্পণ করবেন বলেও সূত্র জানায়।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এতদিন ধরে বদি তার পরিবারের সদস্যদের ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে এলেও এবার নিজেই দোষস্বীকার করে ভাই-বোনদের আত্মসমর্পণ করাচ্ছেন। বদির ভাই-বোনসহ স্বজনদের ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকর কথা স্বীকার করে নেওয়ায় এবার তাকেই আত্মসমর্পণ করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হয়েছে। দেশে ইয়াবাপাচার বন্ধের জন্য ইয়াবার ‘গডফাদার’ আব্দুর রহমান বদি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা তালিকার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আব্দুর শুক্কুরকে সরকার আত্মসমর্পণ করতে বলেছে। সরকারের চাপে পড়ে আত্মসমর্পণ করতেই দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়া আব্দুর শুক্কুর কয়েকদিন আগে দেশে ফিরেছেন বলেও সূত্র জানায়।

জানা গেছে, আত্মসমর্পণ করতে এরইমধ্যে সরকারের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখাও করেছেন বদি। আত্মসমর্পণের পর যেন দ্রুত মুক্তি পান, সেটিও নিশ্চিত করতে চান তিনি। এই লক্ষ্যেই বদি এখন ঢাকায় অবস্থান করে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত জামিনের নিশ্চয়তা পেলে চলতি মাসেই আত্মসমর্পণ করবেন বলে তার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়। তবে, আত্মসর্পণের আগে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিতে চান বদি। একটি সূত্র জানায়, আব্দুর রহমান বদি সংসদ সদস্য থাকার সময় তার বা তার স্বজনদের ইয়াবা কারবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি তিনি। তাই বদির হাতে এখন আর আগের ক্ষমতা নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অনমনীয় মনোভাবের কারণে অবস্থা বুঝে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিজের ভাই ফয়সাল রহমান, শফিক রহমান, বোন শামসুন নাহার, ভাগিনা শাহেদ কামাল নিপুসহ ২০ জন নিকট আত্মীয়কে আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশের হেফাজতে পৌঁছে দিয়েছেন বদি নিজেই।

তবে, এখনপর্যন্ত নিজের আত্মসমর্পণের বিষয়টি স্বীকার না করলেও ভাই-বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের আত্মসমর্পণের কথা স্বীকার করেছেন বদি। দুবাই পালিয়ে যাওয়া তার ভাই আব্দুর শুক্কুরও আত্মসমর্পণ করতে দেশে ফিরে এসেছেন বলে বদি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সরকারের তৈরি করা ইয়াবা কারবারিদের তালিকায় আমার ভাই-বোন, ভাগিনাসহ স্বজনদের নাম রয়েছে, তাই আমি নিজেই তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছি।’

প্রতিটি তালিকায় তার নাম আছে, তাহলে তিনিও কি আত্মসমর্পণ করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বদি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুসারেই আমি কাজ করছি।’

ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয় এতদিন কেন অস্বীকার করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বদি বলেন, ‘আমরা একান্নবর্তী পরিবার। বিশাল পরিবারের সবাইকে পাহারা দেওয়া একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার অজান্তেই পরিবারের অনেকেই বিপথে জড়িয়ে গেছেন।’

বদি ও তার স্বজনদের আত্মসর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, ‘শর্ত সাপেক্ষে ইয়াবা কারবারিদের সরকার স্বাভাবিক জীবনে সুযোগ দিতে চায়। এরইমধ্যে অনেক শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে। এরমধ্যে টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির আত্মীয়-স্বজনও আছে।’ বদির ভাই শুক্কুর তার দল-বল নিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য দেশে ফিরেছেন বলেও তিনি জানান।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘তালিকাভুক্ত বা তালিকার বাইরের যত ইয়াবা কারবারি আছে, তাদের সবাইকে আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়েছে।’ যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করবে, তাদের শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.