অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৬ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

উত্তপ্ত শিক্ষাঙ্গন: ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে কয়েক বছর ধরে শান্ত শিক্ষাঙ্গন এখন অশান্ত। অনেক ছাত্র-ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, তারা (ছাত্রলীগ) সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়াকে কোনো ক্রমেই মানতে পারছে না। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেটে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী।
গত মঙ্গলবার ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে ‘নিপীড়নবিরোধী’ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বুধবার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট বিক্ষোভ মিছিল করে। সেই বিক্ষোভ মিছিলে আবারও হামলা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাম ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ২০/২৫জন আহত হয়। ফলে সারাদেশে ক্রমেই ফুঁসে উঠছে শিক্ষাঙ্গন।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন- তারা সব সময় ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কাছে অবহেলিত। তারা দাবি-দাওয়া নিয়ে গেলে কোনোভাবেই তাতে সাহায্য করছে না। বরং উল্টো তাদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন সরকারের ছাত্র সংগঠন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের কারণে সব সময় নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে লিপ্ত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি তাদের কাছে বিতর্কিতই মনে হয়। এরফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে জোট বদ্ধ হয়ে বড় আন্দোলনের দিকে যায়। আর তখনই ক্যাম্পাস অশান্ত হয়ে উঠে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী ও ডক্টর সদরুল আমিন মনে করেন আন্দোলন ও দাবি আদায়ের জন্য বা তা প্রতিরোধ করতে সহিংসতার আশ্রয় নেয়া কাম্য নয়। এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, উপাচার্যের অফিসের তিনটা গেট ভেঙ্গে অবরুদ্ধ করতে যাবে এটা কখনোই কাম্য নয়। আবার বিক্ষোভে হামলা চালানো হবে এটাও কাম্য নয়। ডক্টর সদরুল আমিন বলেন, ভিসি চাইলে তাকে রক্ষা করার অনেকেই আছে। কোনো পার্টি বা পেটোয়া বাহিনীর দরকার নেই।
শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে মত তাদের। অপরাধীদের প্রশ্রয় না দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, প্রশ্রয় পায় বলেই এগুলো চলছে। এটা খুবই অসম্মানজনক ব্যাপার। যারাই আইনকে হাতে তুলে নেবে তাদের শাস্তি দেয়া উচিত।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কার্যালয়ে ‘নিপীড়নবিরোধী’ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তার আগে ২৬ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংহতি সমাবেশ এবং ২৮ জানুয়ারি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর এই জোট। বুধবার মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে জোটের নেতা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের একাংশের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর সেখানে যাওয়া ছাত্রলীগের ‘দায়িত্ব’ ছিল বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলছেন, ছাত্রলীগের কোনো দোষ থাকলে তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু যারা ভিসি কার্যালয়ের ফটক ভেঙেছে, তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিৎ। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.