অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৫ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

এই হারের দুঃখ আজীবন মনে থাকবে: মুশফিক

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার : ২০০৯ সালের পর ২০১২-স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কেঁদেছিল গোটা দেশ। চার বছর পর ২০১৬ এশিয়া কাপ, সেবারও ব্যর্থ বাংলাদেশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ফাইনালে আরও একবার ব্যর্থতা। নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার মাটিতেও পঞ্চমবার সুযোগ একেবারে কাছে এসেছিল। কিন্তু শেষ বলে দিনেশ কার্তিকের ছক্কায় আবারও হতাশায় মুষড়ে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। গত রোববার প্রেমাদাসায় এমন হতাশার গল্প আরও একবার রচিত হলো। সেই হারের বেদনা নিয়ে সোমবার দুপুরে দেশের মাটিতে পা রাখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক মুশফিক বিমানবন্দরে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। জানান, এই হারের বেদনা আজীবন মনে রাখবেন। তবে এখান থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘খারাপ লাগাই তো স্বাভাবিক। জয়ের এত কাছে এসে ট্রফি হাতছাড়া হওয়াটা ভয়াবহ রকমের মানসিক যন্ত্রণার। তবে আগামীতে এমন পরিস্থিতি এলে আমরা যেন মানসিক স্থিতিটা শক্ত রাখতে পারি, এটাই লক্ষ্য থাকবে। এবার ফাইনালে হারার কষ্টটা মনে রাখবো, এখান থেকে যেন আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারি সেই চেষ্টাই করবো।’

ম্যাচ হারার পেছনে সৌম্যকে খলনায়ক বানাতে চান না মুশফিক। ম্যাচ হারের দায় থাকলে দলের সবার ওপর বর্তায় বলেই মনে করেন মুশফিক, ‘এটা শুধু একজনের জন্য হয়েছে, এটা আমি মনে করি না। বোলাররা মিলে কয়েকটা রান কম দিলেই হয়ে যেত কিংবা ব্যাটসম্যানরা যদি আরও ১০টা রান বেশি করতো তাহলেও সমস্যা হতো না। এটা টিম গেম, একজনের ব্যর্থতা মানে সবারই ব্যর্থতা। আমরা চেষ্টা করবো ভুলগুলো কাটিয়ে উঠতে। সৌম্যর এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা। পরে আবার যখন সুযোগ আসবে, আশা করি তখন এরচেয়ে ভালো করবে।’

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। প্রথম পাঁচ বলে সাত রান তুলে নেওয়া ভারতের শেষ বলে প্রয়োজন ছিল পাঁচ রান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি মুশফিকদের, কার্তিকের ওভার বাউন্ডারিতে ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। আর তাতেই ভারতকে হারানোর বড় একটি সুযোগ হাতছাড়া করে সাকিবরা। মুশফিক কলেন, ‘আমাদের সুযোগ ছিল, কিন্তু হাতছাড়া করেছি। ভারতকে হারানোর সুযোগ বারবার আসে না। এই টুর্নামেন্টে দুবার সুযোগ পেয়েছিলাম। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে কাজে লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবো।’

ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন সংস্করণের সবক’টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। এমন ভগ্ন হৃদয় নিয়েই নিদাহাস ট্রফি খেলতে গিয়েছিল দল। তবে টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে পেরে দারুণ খুশি মুশফিক। ২০ ওভারের ক্রিকেটে এখান থেকেই বাংলাদেশের নতুন পথচলা শুরু বলে মনে করে তিনি বলেন ‘এই কয়টা দিন আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলেছি, ম্যাচ জিতেছি। পুরো বাংলাদেশ দল কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হোম সিরিজে টি-টোয়েন্টিতে যেভাবে হেরেছিলাম, এরপর ওদের মাটিতে এভাবে জেতা অনেক বড় প্রাপ্তি। পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমরা ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলেছি। যেটা আগে করতে পারিনি। এটাই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস, এই টুর্নামেন্টের পর ২০ ওভারের ক্রিকেটেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হবো।’

১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ ১ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন। পরের ওভারে রুবেল ২২ রান দিলে ম্যাচটা কঠিন হয়ে যায়। শেষ ওভারে সৌম্য যখন বোলিং প্রান্তে, ভারতের তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২ রান। কিন্তু শেষ বলে ছয় মেরে ভারত ম্যাচ জেতার পর রুবেলকেই সবাই কাঠগড়াতে দাঁড় করাচ্ছে। এ ব্যাপারে মুশফিক বলেন, ‘মোস্তাফিজ তার এক ওভারে মেডেন উইকেট নিয়েছে (আসলে ১ রানে এক উইকেট), এটা কেউই বিশ্বাস করেনি। ঠিক একইভাবে রুবেলের ওভারটাতে এত রান হবে এটা বিশ্বাস হয়নি। ক্রিকেট খেলায় এটা হয়েই যায়। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.