অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪০ হিজরী

কালবৈশাখীর তান্ডবে ৭ জন নিহত

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
বৈশাখ আসতে এখনও ১২ দিন বাকি। অথচ রবিবার সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেল এই মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী। কালবৈশাখী ঝড় এবং বজ্রপাতের কবলে পড়ে এ দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ৭ জনের মৃতের খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে গত কয়েকদিন ধরেই সারাদেশে ওপর দিয়ে গুমোট ও বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। এদিন সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। সারাদেশের পাশাপাশি রাজধানীতে সন্ধ্যায় বয়ে যায় এই কালবৈশাখাী ঝড়। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সন্ধ্যা থেকে ঝড়োহাওয়া, বিজলী চমকানোসহ শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। ঢাকায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ভবন থেকে ইট পড়ে এক চা দোকানি এবং গাছ ভেঙ্গে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন।
সংসদ ভবন এলাকায় গাছ ভেঙ্গে পড়ে এক নারী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও ঝড়ের সময় পুরানা পল্টন মোড়ে চায়ের গলিতে উঁচু ভবন থেকে ইট পড়ে নিহত হন মোঃ হানিফ (৪৫) নামে এক চা দোকানি। এদিকে কালবৈশাখীর ঝড় ও বজ্রপাতে মৌলভীবাজারের দুই সহোদর শিশু, নেত্রকোনায় একজন কৃষক এবং কিশোরগঞ্জের ইটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার সময় ঢাকার আকাশ কালো করে নামে ঝড়, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল। এতে বিভিন্ন স্থানে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। এছাড়াও এদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানের ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়।

এবার শীত শেষে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুর হয় বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি কারণে মধ্য মার্চ পর্যন্ত হালকা শীতের আমেজ ছিল। মধ্য মার্চের পর থেকে সারাদেশে হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেই সঙ্গে গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করে। আবহাওয়া অফিস বলছে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে বিগত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রমেঘের আনাগোনা বাড়ছিল। বজ্রমেঘের কারণে মার্চের প্রথম দিকেই দেশের সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেতও প্রদান করা হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে গত কয়েকদিন ধরেই প্রকৃতিতে ছিল ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি। রবিবার সকাল থেকে রাজধানীর আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে। এরপর প্রচন্ড রোদ দুপুরে ভ্যাপসা গরম। বিকালে হতেই পশ্চিম আকাশে কালবৈশাখী মেঘ ঘনিয়ে আসে। এরপরেই শুরু হয় ধুলিঝড়ের। সন্ধ্যায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। কালবৈশাখী জড়ের কারণে মগবাজারে একটি বেসরকারী হাসপাতালের দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া ঝড় চলে প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে। এরপর হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে আরও কিছুক্ষণ।

সন্ধ্যার হঠাৎ এই কালবৈশাখীর ঝড়ের কারণে অনেক পথচারী এবং অফিস ফেরত যাত্রীরা বিপাকের মধ্যে পড়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে অনেকে ভিজে একাকার হতেও দেখা গেছে। ঝড়ো বাতাসের কারণে যে যার মতো নিরাপদ আশ্রয়েও অবস্থান নেন। বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় পানি জমতে দেখা গেছে। সড়কে স্থবির হয়ে পড়ে যানবাহন। তবে হঠাৎ এই কালবৈশাখীর সঙ্গে বৃষ্টিপাতের কারণে স্বস্তিও মিলেছে। ভ্যাপসা গরমের কারণে কিছুদিন ধরে নগরজীবনের অস্থিরতা চলছিল। তার সমাপ্তি হয় রবিবার সন্ধ্যার বৃষ্টিপাতের কারণে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে এই কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছে। এই মৌসুমে এই ঝড়বৃষ্টি স্বাভাবিক। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশের পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ- হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্য এলাকায় পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.