অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

কিংবদন্তি সংগীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
বাংলা সংগীত জগতের কিংবদন্তি পুরুষ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তার সামির আহমেদ জানান, রাতে হার্ট অ্যাটাকে বাসায় বাবার মৃত্যু হয়। পরে তাকে চেকাপের জন্য মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। কবে, কখন, কোথায় মরদেহ দাফন করা হবে সে বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান। তবে তিনি এখনই চাইছেন না সাংবাদিকরা এটা নিয়ে কিছু করুক। তিনি বলেন, ‘আমরা চাইছি না এখনই সাংবাদিকরা আমার বাসায় এসে ভীড় করুক। আমাদের কিছু প্রাইভেসি প্রয়োজন। সময় হলে আমি নিজ থেকে সব জানাব।’ আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা, বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। সত্তর দশকের শেষ লগ্ন থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই নক্ষত্র মানুষ। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
বরেণ্য সংগীত শিল্পী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন তার অমর সৃষ্টি অসাধারণ সব গান। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে অমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অন্যান্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
চলে গেলেও কিংবদন্তি এই সংগীত ব্যক্তিত্বকে বাংলার মানুষ মনে রাখবে তারা সৃষ্টি হাজারো গানের জন্য। ১৯৭৮ সালে মেঘ ‘বিজলি বাদল’ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন বুলবুল। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ বাংলাদেশী প্রায় সকল জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীতও পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করে দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, এগারো বার বাচসাস পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পান।
অসংখ্য গানে সুর করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, যার অধিকাংশ গানই তাঁর নিজের রচিত। বুলবুলের সৃষ্টি কয়েকটি জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- সব কটা জানালা খুলে দাও না, ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে, একাত্তুরের মা জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন, পড়ে না চোখের পলক, ও ডাক্তার, ও ডাক্তার …, আমার বুকের মধ্যেখানে..।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক:
বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক জগতের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তার অসামান্য সৃষ্টিকর্মের জন্য চিরদিন মানুষ তাকে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মরহুম আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.