অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে মহররম, ১৪৪১ হিজরী

খোলস পাল্টানোর কৌশলে জামায়াত

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
বিচার এড়াতে নতুন কৌশলে জামায়াত। বিলুপ্ত হয়ে নতুন নামে রাজনীতিতে ফিরতে চায় যুদ্ধাপরাধী দলটি। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দলের এক নেতা। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামায়াত খোলস পাল্টানোর চেষ্টা করলেও বিচারের মুখোমুখি তাদের হতেই হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামায়াতকে রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে বয়কটের পরামর্শ তাদের।
স্বাধীনতা বিরোধী দল জামায়াতকে ‘অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকে দাবি ওঠে জামায়াতকেও বিচারের মুখোমুখি করার। কিন্তু তদন্ত শেষ হলেও আইনি জটিলতায় আটকে আছে এ বিচার। সরকার যখন জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে ঠিক তখনি বিচার এড়াতে দল হিসেবে জামায়াত নিজেদের বিলুপ্ত করার গুঞ্জন চলছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিলুপ্ত করার আলোচনা স্থিমিত হলেও জামায়াতের সহকারী-সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগের পর আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির বেশ কয়েকজন নেতা স্বীকার করলেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। যদিও বিষয়টি টেলিফোনে অস্বীকার করেছেন জামায়াত নেতা মতিউর রহমান আকন্দ। সাবেক আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, নাম পরির্বতন বা বিলুপ্ত যাই করা হোক না কেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল হিসেবে তাদের বিচারে কোনো বাধা থাকবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘জামায়াত কি কি করেছে সেগুলো জানার দেশবাসীর অধিকার আছে। বিচার হলে সেগুলো বিস্তারিত জানতে পারবে দেশবাসী।’ সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তারা একটি নতুন দল করলো উদ্দেশে পূরণ করতে এটা হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।’ প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত মনে করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে জামায়াতকে।
বাংলাদেশে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল জামায়াত। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর আবার রাজনীতির সুযোগ পায় তারা। তাই আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাহী আদেশে জামায়াত নিষিদ্ধ না করে জামায়াতকে বিচারের মুখোমুখি করলেই চিরতরে নিষিদ্ধ হবে দলটি।

জানা গেছে, রাজনীতিতে টিকে থাকতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসছে জামায়াত। এ জন্য একাধিক বিকল্প পথে এগিয়ে যেতে চাচ্ছে তারা। প্রথমত একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে জামায়াত নামে রাজনীতি করা যায় কি না। দ্বিতীয়ত দলের নীতি-আদর্শে আমূল সংস্কার করে নতুন নামে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন গ্রহণ। অন্যথায় কোন সামাজিক সংগঠনের প্লাটফর্মে গোপনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া।

সূত্র জানায়, বর্তমান ধারার রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে জামায়াত দেশের মাটিতে আর রাজনীতি করতে পারবে না এমনটি আঁচ করেই কৌশল পরিবর্তন করে দলটি। এ জন্য প্রথমেই নানা মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে একাত্তরের ভূমিকার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে জামায়াত নামেই রাজনীতি করা যায় কিনা সে চেষ্টা করবে। কিন্তু এ চেষ্টায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর আদালতের রায়েও দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। আবার কেউ বলছে বড় ধরনের সমাবেশ ডেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলে সে ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার এবং স্বাধীনতাকামী মানুষ ক্ষমা করেও দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতেরই রাজনৈতিক ও নীতিগত পরাজয় হবে।

দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে জামায়াত দলের নীতি-আদর্শে আমূল সংস্কার এনে নতুন নামে দলের নিবন্ধন নেয়ার চেষ্টা করবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক ইসলামী দলগুলোর অনুসরণে দলের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবে। এছাড়া এখন আর তারা স্বাধীনতার বিপক্ষের রাজনৈতিক দল নয় তা প্রমাণ করতে বিভিন্ন সময়োপযোগী কর্মসূচী পালন করবে। দলের অধিকাংশ তরুণ নেতা এমনটিই চায় বলে জানা গেছে। তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে যা কিছুই করুক না কেন অতীত কর্মকান্ডের জন্য জামায়াত দেশের মানুষের কাছ থেকে কখনও সহানুভূতি পাবে না। শেষ পর্যন্ত বর্তমান নামে কিংবা নতুন নামে নিবন্ধন নিয়ে রাজনীতি করতে না পারলে জামায়াত কোন সামাজিক সংগঠনের নিবন্ধন নিয়ে ওই প্ল্যাটফর্মে গোপনে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। তবে এ ক্ষেত্রেও তারা আগের মতো আর সুসংগঠিত থেকে কাজ করতে পারবে না বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। কারণ, জামায়াত নেতাকর্মীদের কর্মকান্ডের প্রতি কঠোর নজরদারি থাকবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.