অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটে মালদ্বীপ, পার্লামেন্ট ভবন সিলগালা

Print

অনলাইন ডেস্ক : সেনাবাহিনী মালদ্বীপের পার্লামেন্ট দখল নিয়েছে। গ্রেপ্তার করেছে বিরোধী দলের দুই এমপিকে। কারান্তরীন রাজনীতিকদের মুক্তি দিতে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়া শুরু করে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, বিরোধী দল এদিন পার্লামেন্টে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও শীর্ষ প্রসিকিউটরকে অপসারণের জন্য পিটিশন দাখিল করে পার্লামেন্টে। এর কিছুক্ষণ পরেই সেনারা পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে ফেলে।
বিরোধী দলের অভিযোগ, নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দÐাদেশ পাল্টে সুপ্রিম কোর্ট তাদের মুক্তির যে রায় দিয়েছে তা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রসিকিউটর।
শীর্ষ আদালতের রায় নতুন করে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের জন্য এটা নতুন একটি ধাক্কা। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। এসব অভিযোগ অবশ্য তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আদালতের রায়ে পার্লামেন্টের ১২ সদস্য পুনর্বহাল হওয়ায় ৮৫ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায় বিরোধী দল। তবে, ওই ১২ জনের দুজন কয়েক মাস পর দেশে ফিরলে তাদের বিমানবন্দরে আটক করা হয়। আব্দুল্লাহ সিনান ও ইলহাম আহমেদ নামের ওই দুই নেতাকে ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ এক মুখপাত্র।
বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা ইব্রাহীম মোহাম্মদ সোলিহ এক বিবৃতিতে তাদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান। অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল গতকাল টিভিতে প্রচারিত এক বক্তব্যে অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার চেষ্টা করছে। এরপরই তাকে অপসারণের জন্য পার্লামেন্টে বিল আনে বিরোধী দল। ওই বক্তব্যে অনিল বলেছিলেন, ‘আমি সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলেছি, এমন অবৈধ আদেশ যেন তারা না মানেন।’
দেশটির সেনাপ্রধান আহমেদ শিয়াম বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী অনিলের পরামর্শ অনুসরণ করবে এবং দেশকে সংকটের দিকে ধাবিত হতে দেখার জন্য অপেক্ষা করবে না।’
ওদিকে, দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদ টুইটারে দেয়া এক পোস্টে অনিলের বিবৃতিকে ‘অভ্যুত্থানের সমতুল্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
৮৫ আসনবিশিষ্ট মালদ্বীপের পার্লামেন্টে বিরোধীদলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। গত বছর দেশটির ক্ষমতাসীন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পার্লামেন্টের ১২ সদস্যের পদ বাতিল করা হয়। পরে পুনরায় তাদের স্বপদে বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্ট।
মালদ্বীপের প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লা সাইদ ও বিচারপতি আল হামিদ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ঘুষের তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানানোর পর তিনি টেলিভিশনে ভাষণ দেন। রোববার দেশটির চিফ জুডিশিয়াল প্রশাসককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানায় পুলিশ। এদিকে, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল ও প্রধান প্রসিকিউটরের ওপর আস্থা নেই বলে তাদের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ সচিবালয়ে পিটিশন দিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। দেশটির বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লা শহীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.