অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১লা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

চীনে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

Print

ঢাকা: চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ প্রস্তাব করেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুদেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ২৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সেখান থেকে ফিরে তিনি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এতে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চীন বিশ্বের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। তা আঞ্চলিক এবং অর্থনৈতিক, দুই দিক থেকেই। সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের দেশে এসেছেন, এটা বড় অর্জন। তার এ সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ২৬টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এটি আমাদের জন্য ইতিবাচক। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রপতির নিকট বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধার প্রস্তাব করেছেন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ক্ষেত্রে চীনের রাষ্ট্রপতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।’

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব করেছেন বলে বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখন প্রায় ৮৮৪ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করেছে ৮০ কোটি ৮১ লাখ ডলারের পণ্য। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে ৯৬৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-চায়না বিজনেস ফোরামের বৈঠক শেষে চীনের ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি হবে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হবে।’

বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীনের প্রতিনিধিদলের এই সফর সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে।’

বৈঠকে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের ভাইস চেয়ারম্যান চেন ঝো বলেন, ‘টেক্সটাইল, অটোমোবাইল, যন্ত্রাংশ, জাহাজ নির্মাণ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।’

বিকেলে শুরু হওয়া এই বৈঠকটি চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে দুই দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান পরস্পরের সঙ্গে চুক্তিপত্রে সই করেন।

দৈনিকচিত্র.কম/এম




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.