অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

জামায়াত ক্ষমা চাইলেও বিচারের হাত থেকে রক্ষা পাবে না

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরগরম আলোচনা। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে লন্ডন থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি একাত্তরের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করা এবং দলের নাম ও নীতি পরিবর্তনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনিচ্ছার কথা উল্লেখ করেছেন। রাজ্জাকের এই পদত্যাগ শুধু জামায়াতকে ধাক্কা দেওয়ার মধ্যে সীমিত থাকবে, না পুরো রাজনীতিতে ওলটপালট ঘটাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর জামায়াত এখন ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি কেনো সামনে নিয়ে আসছে, এটা ঘোলাটে। তাদের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। যদিও অফিসিয়ালি তারা এখনও কিছু বলেনি। তবে ক্ষমা চাইলেও যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার চলছে, সেটা বন্ধ হবে না।

শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে সদ্য পদত্যাগ করা দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত যদি নতুন নামে আসে, তাহলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, নতুন নামে জামায়াত। নতুন বোতলে পুরাতন মদ যদি আসে, তাহলে পার্থক্যটা আর কী। নতুন নামে পুরাতন আদর্শই যদি তাকে, তাহলে তো একই কথা। এ সময় আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবসরের কথা বলেছেন। এর আগেও তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের দাবির মুখে তিনি পারেননি। আগামীতেও নেতাকর্মীরা তাকে ছাড়বে কি-না সেটা ভবতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী প্রভৃতি দল নিষিদ্ধ করা হয়। সংবিধানে বলা হয়, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো দল করা যাবে না।’ কিন্তু পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন এবং জাতীয় সমঝোতার নামে ধর্মীয় রাজনীতির লাইসেন্স দেন। আর সেই সুযোগে জামায়াত কখনো বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে, কখনো অন্যের ছায়ায় নিজের অবস্থান সংহত করেছে। আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের কয়েকজন নেতার বিচার করেছে।
নিবন্ধনহীন জামায়াতে ইসলামী এবার স্বনামে নির্বাচন করতে পারেনি। জামায়াতের ২২ জন প্রার্থী বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেন এবং কোনো আসন পায়নি। উল্লেখ্য, ভোটের হিসাবে, জামায়াত এখনো দেশের চতুর্থ বৃহত্তম দল। দলটি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ১০টি, ১৯৯১ সালে ১৮টি, ১৯৯৬ সালে ৩টি, ২০০১ সালে ১৭টি এবং ২০০৮ সালে ২টি আসন পায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.