অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী

টাঙ্গুয়ার হাওর অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
প্রকৃতির নিসর্গরূপের কী নেই সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে। বিস্তৃত নীল জলরাশি। পানিতে দাঁড়ানো কড়–ই-করছের সারি। স্বচ্ছ জলে হাজারো বিচিত্র মাছের ছুটে বেড়ানো। পাখির কলকাকলি। শ্যামল লতাগুল্ম কিংবা গাছপালা। দিগন্ত ঘেঁষা সবুজ পাহাড়শ্রেণি। নদী। সূর্যাস্তের অপূর্ব রূপ।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে বিপুল সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের ডালা সাজিয়ে বসে আছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি ‘মাদার ফিশারিজ’ খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তে ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত এই রামসার সাইট।

দেশের এই প্রান্তিক জনপদে বিধাতা যেন অকৃপণ হাতে বিলিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির অফুরন্ত সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। হাওরের হিজল, করছ, বল্লা, ছালিয়া, নলখাগড়া আর নানা প্রজাতির বনজ ও জলজ প্রাণী হাওরের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই রূপসুধা আহরণে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিদেশ থেকেও ছুটে আসেন প্রতিদিন হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী।

বর্ষা আর শীত- দুই মৌসুমে নানা রূপের দেখা মেলে টাঙ্গুয়ার হাওরে। তবে শীতের বাড়তি আকর্ষণ পরিযায়ী পাখি। সুদূর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপালসহ শীতপ্রধান দেশ থেকে হাজারো প্রজাতির অতিথি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে এসে নামে বিশাল টাঙ্গয়ার হাওরের বুকে। এসব অতিথি পাখির কলকাকলি, কিচিরমিচির ধ্বনি, হাজার হাজার পাখির ঝাঁক নীল আকাশে ওড়ার দৃশ্য, হাওরের বুকে ডুব দিয়ে মাছ শিকারের চিত্র কাছ থেকে দেখে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যায়।

শীতের রাতে পূর্ণিমা কিংবা রাতের আলো-আঁধারে আকাশে অতিথি পাখির ডাকে এক ভিন্ন রকম অনুভূতির জন্ম দেয়।

সীমান্ত ঘেঁষা মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এ হাওর উপজেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫২টি হাওরের সমন্বয়ে ৯৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের অবস্থানের কারণে জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি এটি। জলময় মূল হাওর ২৮ বর্গ কিলোমিটার এবং বাকি অংশ গ্রামগঞ্জ ও কৃষিজমি।

শুষ্ক মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরের অন্তগর্ত ৫১টি জলমহলের আয়তন ৬ হাজার ৯১২ একর হলেও বর্ষায় তার বিস্তৃতি প্রায় ২৪ হাজার একর, যেন সীমানাবিহীন বিশাল সমুদ্র। টাঙ্গুয়ার হাওরের একটি প্রবাদ আছে- ছয় কুড়ি বিল আর নয় কান্দার সমম্বয়ে গঠিত হাওর পাড়ের মানুষের জীব বান্ধা। হাওরপারে ৮৮টি গ্রামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস।
এমএইচ/




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.