অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১১ মার্চ

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান।

আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের তফসিলে বলা হয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও আবাসিক হলগুলোতে ডাকসু নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা সংশোধনী এবং ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন বিতরণ। ২৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ও মনোনয়ন বাছাই। এছাড়া ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৮ ফ্রেুয়ারি। ১১ মার্চ সোমবার নির্বাচন। এরমধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন কিংবা ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের আড্ডায় আলোচনার শীর্ষে রয়েছে ডাকসু নির্বাচন।

ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক থাকলে তারা সবাই নির্বাচনে অংশ নিবে। এজন্য ছাত্র সংগঠনগুলো ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং নিজেদের ভাগে ভোট টানতে সমমনাদের নিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ছাত্র সংগঠনগুলো পাঁচটি প্যানেলে ভাগ হতে পারে। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য এবং কোটা আন্দোলনের বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তবে বিকল্প হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং বাম সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোটা আন্দোলন সংগঠন মিলে তিনটি জোট হতে পারে। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এর মধ্যে বিএনপি জোটের সঙ্গে থাকা ছাত্র সংগঠনগুলো এক হয়ে কাজ করবে। অন্যদিকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মধ্যে ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ বিএসএল, ছাত্র সমিতি, ছাত্র আন্দোলন এক হয়ে কাজ করবে।

তবে বিতার্কিত দুই ছাত্র সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র সমাজ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার না। সমপ্রতি এই সংগঠন দুটি ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, ১৯৯০ সালে পরিবেশ পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে- এমন সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। একইসঙ্গে এরশাদের স্বৈরাচারী ভূমিকার কারণে ছাত্র সমাজও নিষিদ্ধ হয়। এরপর থেকেই ধর্মকে ব্যবহারকারী সংগঠনসমূহ ও ছাত্র সমাজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাসে কাউকে সামপ্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রসমাজ ক্যাম্পাসে নৈতিকভাবেই নিষিদ্ধ। তারা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করবে।

একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি সংগঠন ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এবারের নেতৃত্বে নারীরা গুরুত্ব পাবে। কারণ মোট ভোটের ৩৭ শতাংশ নারী। এজন্য নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া সংগঠনগুলোর চোখ মেয়েদের হলগুলোতে। মেয়েদের ভোট টানতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল উভয় ছাত্রসংগঠনই গুরুত্বপূর্ণ পদে মেয়েদের রাখার কথা ভাবছে। মেয়েদের হলগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কাজও করছে সংগঠনগুলো। জানা যায়, সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালে। ভিপি এবং জিএস নির্বাচিত হন যথাক্রমে আমান উল্লাহ আমান এবং খায়রুল কবির খোকন। এরপর ২৮ বছর পার হয়ে গেলেও ডাকসু নির্বাচন আর হয়নি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.