অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৬ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

ঢাকা ফাঁকা

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভাঙচুর, বোমাহামলার ভয়ে রাজপথে নামেনি গণপরিবহণ কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি। পাল্টে গেছে রাজধানীর সেই চিরচেনা চেহারা। নেই যানজট, কোলাহল কিংবা অফিসে যাওয়া-আসার ক্লান্তি। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাদের নিয়ে এতো শঙ্কা, তল্লাশি বা বিশেষ নিরাপত্তা, তারাই ছিলো না রাজপথে। ফাঁকা ছিলো রাজপথ। নিরাপত্তার কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ছিলো সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে রাজধানীবাসীর। সারাদিনই রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের মধ্যে ছিলো আতঙ্ক। ফলে জরুরি কাজ ছাড়া কেউই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বের হননি। রাস্তায় অফিসগামীদের ভিড় দেখা গেলেও দেখা যায়নি গণপরিবহণ। রাজধানীর ধানমÐি, তেজগাঁও, পান্থপথ, শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেইট, মহাখালী, বনানী, কুড়িল, মিরপুরসহ পুরো ঢাকা ছিলো একেবারেই ফাঁকা।
সব ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। নগরজুড়ে টহল দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রায় ঘিরে ঢাকার প্রবেশমুখে, ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট ও ঢাকায় আসার পথে মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়েছে। এমন আতঙ্কে সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তাঘাটে বের হননি। গাবতলী এবং সায়েদাবাদ টার্মিনালে ঢাকার বাইরের জেলা থেকে ছেড়ে আসা বাস পৌঁছলে পুলিশকে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে ওঠার মুখে এবং যাত্রাবাড়ী মোড়ে দুটি স্থানে পুলিশ চেকপোস্টে যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এতে দ‚রপাল্লার বাসের যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন।
অফিসে যেতে ৪০ মিনিট রাজধানীর পান্থপথে দাঁড়িয়ে থেকে বাস পাননি আব্দুল আলিম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে রাজনৈতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কখনো বিরোধী দলের হরতাল, জ্বালাও-পোড়াওয়ে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানবাহনশূন্য থেকেছে রাজপথ। আবার কখনো সরকারের প্রশাসনের অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় রাজধানী ঢাকা সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এবারো একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো। এছাড়াও দুপুরের পর রাজধানীর ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে কমে গেছে গাড়ি চলাচল। অধিকাংশ বাসে হাতেগোনা যাত্রী দেখা গেছে। জরুরি কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন রাব্বানী হক। পল্টন মোড়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, জরুরি কাজে পল্টন এসেছিলাম। শুনলাম খালেদা জিয়ার জেল হয়েছে। তাই আর এক মুহূর্ত এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না। জানি না কখন কি ঘটে। তাই রিকশা নিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছি।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দেখা যায়, হয় গাড়ি ভাঙচুর করছে আন্দোলনকারীরা, না হয় পেট্রোলবোমা মেরে পুড়িয়ে মারছে সাধারণ মানুষকে। অতীতের এমন ঘটনাগুলোকে স্মরণ করে মানুষ বাসা থেকে বের হননি সাধারণ মানুষ।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.