অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

তামিম ঝড়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
ফাইনাল ম্যাচে এসে এমনই ব্যাটিং ঝড় তুললেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ওপেনার তামিম ইকবাল, তাতে পুড়ে ছারখার হলো ঢাকা ডায়নামাইটস। ভিক্টোরিয়ান্সদের কাছে উড়ে গেল ডায়নামাইটসরা। তামিমের ৬১ বলে ১০ চার ও ১১ ছক্কায় করা অপরাজিত ১৪১ রানের ইনিংসে কুমিল্লা চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেল। ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারিয়ে তৃতীয় আসরের পর দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপাও ঘরে তুলল কুমিল্লা। আবারও রানার্সআপ হলো ঢাকা ডায়নামাইটস। শিরোপা জয় নিশ্চিত হতেই কুমিল্লার ক্রিকেটারদের সে কী আনন্দ। উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে যান।

শিরোপা নির্ধারণীর মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে ঢাকা ডায়নামাইটস। ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ‘প্লে-অফে’র প্রতিটি ম্যাচেই যে দল আগে ব্যাটিং করেছে, তারাই হেরেছে। কিন্তু তামিমের অসাধারণ ব্যাটিং তান্ডবে এবার তা বদলে গেছে। তামিমের টর্নেডো ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৯৯ রান করে কুমিল্লা। জবাব দিতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৮২ রান করে ঢাকা। রনি তালুকদার ৬৬ রান করেন। ওয়াহাব রিয়াজ ৩ উইকেট নেন। সাইফউদ্দিন ও পেরেরা ২ উইকেট করে নেন।

কুমিল্লা যে বড় স্কোর গড়ে, তাতেই মানসিকভাবে ঢাকা ডায়নামাইটস ব্যাটসম্যানদের পিছিয়ে পড়ার কথা। চাপ যে তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু রানের খাতা খোলার আগেই সুনীল নারাইন রান আউট হলেও কী দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকেন উপুল থারাঙ্গা ও রনি তালুকদার। ৬ ওভারেই দলের স্কোরবোর্ডে ৭১ রান জমা হয়ে যায়। রনিতো বিধ্বংসী ব্যাটিং করতে থাকেন। একই তালে এগিয়ে যেতে থাকেন থারাঙ্গাও। ২৬ বলেই ৫০ রান করে ফেলেন রনি। কোন বোলারকেই পাত্তা দেন না। থারাঙ্গা ও রনি মিলে মুহূর্তেই ১০০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। যখন দলের রান ১০২ হয়, দুইজনের জুটিও তাই হয়, তখন ২৭ বলে ৪৮ রান করা থারাঙ্গাকে আউট করে দেন থিসারা পেরেরা। এ জুটি ভাঙ্গা কুমিল্লার জন্য খুব দরকার ছিল। তা ভাঙ্গেও। তাতে যেন কুমিল্লা শিবিরে স্বস্তিও ফিরে।

দলের ১২০ রানে গিয়ে সাকিবকে (৩) আউট করে দেন ওয়াহাব রিয়াজ। যখন আর ১ রান স্কোরবোর্ডে যোগ হতেই ৩৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রান করা রনিও রান আউট হন, তখন কুমিল্লা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলে। কুমিল্লাকে ভালই ভোগান রনি।

পেরেরা যে একটি দলের জন্য কতটা উপকারী তা ভালভাবে আবারও বোঝা গেল। শুরুতে থারাঙ্গাকে আউট করে বড় জুটি ভাঙ্গেন। এরপর দলের ১৩২ রানের সময় আন্দ্রে রাসেলকে (৪) সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচ পুরোই যেন কুমিল্লার দখলে এনে দেন পেরেরা। দলের ১৪১ রানের সময় যখন ওয়াহাবের বলে তামিমের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন কাইরন পোলার্ড (১৩) তখন কুমিল্লার ম্যাচ জেতা যেন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তামিম ক্যাচটি ধরে যে উত্তেজনা দেখালেন, তাতেই যেন উৎসবের ছোঁয়াও মিলে গেল। নাটকীয় কিছু না ঘটলে ঢাকার আর কোন জয়ের আশাই থাকে না। ১৪৩ রানে গিয়ে শুভাগতও সাজঘরে ফেরেন। এরপরও ১৮তম ওভারের শেষ দুই বলে মাহমুদুল হাসান দুটি ও ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নুরুল হাসান সোহান যখন একটি ছক্কা হাঁকান, তখন একটু উত্তেজনা তৈরি হয়ে যায়। তৃতীয় বলে গিয়ে সোহানের (১৮) আউটে সেই উত্তেজনার সমাপ্তিও দ্রুতই ঘটে। শেষ ৬ বলে গিয়ে ঢাকার জিততে ২২ রানের প্রয়োজন পড়ে। দ্বিতীয় বলে গিয়ে মাহমুদুলও (১৫) আউট হয়ে যান। শেষপর্যন্ত শেষ ওভারে ৪ রান নেয়া যায়। রুবেল ৫ রানে ও কাজী অনিক ১ রানে অপরাজিত থাকেন। কিন্তু ঢাকা ম্যাচ হারে।

কুমিল্লা শুরুতেই বিপাকে পড়ে যায়। দলের ৯ রানেই সেরা ব্যাটসম্যান এভিন লুইসকে এলবিডাব্লিউ করে দেন রুবেল হোসেন। ‘রিভিউ’ নিয়েও বাঁচতে পারেননি লুইস। দ্রুতই লুইসকে হারিয়ে কুমিল্লাও যেন বিপাকে পড়ে। রানের গতিও কম থাকে। ৫ ওভারে গিয়ে ২৫ রান স্কোরবোর্ডে জমা হয়। খুবই ধীরগতিতে রান হতে থাকে। সাকিবের করা ষষ্ঠ ওভারে গিয়ে তা একটু বাড়ে। ওভারটিতে চারটি বাউন্ডারি হয়। তাতে পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৪০ রান হয়।

তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় মিলে ধুন্ধুমার ব্যাটিং করতে পারছিলেন না। তবে উইকেট যেন না হারাতে হয়, সেদিকটা বিবেচনায় রাখেন। তবে কাজী অনিকের করা অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলের ৪৫ রানে গিয়ে ১১ রানে থাকা বিজয় আউট হয়ে যেতে পারতেন। যদি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রুবেল ক্যাচ না ছাড়তেন। একই ওভারের শেষ বলে ঢাকার উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ মিসে ২৪ রানে থাকা তামিমও ‘নতুন জীবন’ পান। ৩৩ রানে গিয়ে আবারও ক্যাচ হওয়া থেকে বাঁচেন তামিম। একের পর এক ক্যাচ মিস হতে থাকে।

তামিম সুযোগ পেয়ে ব্যাটিং ঝড় তুলেন। ৩১ বলেই ৫০ রান করে ফেলেন। দেখতে দেখতে দলের রান ১১ ওভারে ৮৭ হয়। দলের যখন ৯৮ রান হয়, এমন সময়ে গিয়ে বিজয়কে (৩০ বলে ২৪ রান) এলবিডব্লিউ করে দেন সাকিব।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.