অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

তারেক রহমানের ওপর বিএনপির সিনিয়র নেতারা ক্ষোভ বাড়ছে

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
লন্ডনপ্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ওপর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ক্ষোভ বাড়ছে। তারেক রহমান বিদেশে বসে যেভাবে দল চালাতে চাচ্ছেন সেভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কিছু সিনিয়র নেতা ইতোমধ্যেই তাকে জানিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে তারেক রহমানও সিনিয়র নেতাদের প্রতি অনেকটা ঠান্ডা লড়াই চলছে। তবে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিল না। এ পর্যন্ত দলের সিনিয়র নেতাদের কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিটি বৈঠকেই তারেক রহমান স্কাইপিতে তাদের সঙ্গে কথা বলে কিছু দিক নির্দেশনা দেন। কিন্তু তারেক রহমান যেভাবে দল পরিচালনা করতে চাচ্ছেন সেভাবে দল পরিচালনা করতে সিনিয়র নেতারা একমত পোষণ করতে পারেননি। এ নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ায় বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা বলেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু এ বিষয়টি এখনও ফয়সালা করেননি তারেক রহমান। মহাসচিব পরিবর্তন করতে হলে জাতীয় কাউন্সিল করতে হবে বিধায় তিনি এখনও তাতে সায় দেননি। এছাড়া কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও আপাতত মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব পদ থেকে সরানোর বিষয়ে সায় দিচ্ছেন না।

সূত্র জানায়, বিএনপির সিনিয়র নেতারা চাচ্ছেন, সর্বস্তরে দল গুছিয়ে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে। কিন্তু তারা যেভাবে দল গুছাতে চাচ্ছেন, সেভাবে তারেক রহমান চাচ্ছেন না। তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে তার নিজের মতো করে দল পরিচালনা করতে চান। আবার তিনি দেশে না ফিরে বিদেশে বসেই দল পরিচালনা করতে চান। কিন্তু বিএনপির অন্য সিনিয়র নেতারা চান তারেক রহমান যদি তার মায়ের অনুপস্থিতিতে পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দল পরিচালনা করতে চান সেক্ষেত্রে যেন দেশে ফিরে তা করেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই বিএনপির কোন কোন নেতা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তারেক রহমান এতে অসন্তুষ্ট হয়ে দলে ওইসব নেতাদের কোণ্ঠাসা করার চেষ্টা করেছেন।

জানা যায়, লন্ডনে বসে তারেক রহমানের দল পুনর্গঠনের কৌশল নিয়ে চরম নাখোশ বিএনপির অন্য সিনিয়র নেতারা। বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে মিডিয়াকে না জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে দলের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে স্কাইপিতে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তারেক রহমান দল পরিচালনার বিষয়ে একের পর এক নির্দেশনা দিতে থাকেন। দলের সিনিয়র নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে এভাবে একতরফা নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ায় সবাই ক্ষুব্ধ ও তার প্রতি নাখোশ হন। তবে জোরালো গলায় কেউ তারেক রহমানের নির্দেশনার প্রতিবাদ করেননি। তবে তার এসব নির্দেশনায় তারা যে নাখোশ এ বিষয়টি নরম গলায় কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিএনপির সিনিয়র নেতারা দল পুনর্গঠনের যে ঘোষণা দেন তার বিরোধিতা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দলে এত বড় বড় নেতারা থাকতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন হয় না। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নিলেন এত খারাপ ফল হলো কেন? তাহলে আপনারা দলের জন্য কি কাজ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানকে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে কিছু করার ছিল না বলে জানালে তারেক রহমান রেগে যান। এ পরিস্থিতিতে তারেক রহমানকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে সিনিয়র নেতারা ক্ষুব্ধ হন।

জানা যায়, লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমান এখন তার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়মিত স্কাইপিতে কথা বলেন। তিনি সিনিয়র নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে তার অনুসারীদের মতামতকেই প্রাধান্য দেন। কিন্তু এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না সিনিয়র নেতারা। এ নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ চলছে। ইতোমধ্যেই বিএনপির কয়েকটি অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলেও বাকি অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কাজ থেমে গেছে। তারেক রহমান চান না বলেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থেমে গেছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দলের সর্বস্তরে অসন্তোষ চলছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর পরই তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সারাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সফর করে নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানের সে নির্দেশ উপেক্ষা করায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। মূলত তখন থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আর সর্বশেষ বুধবার রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে স্কাইপি বৈঠকের পর এ দূরত্ব আরও বাড়ে বলে জানা যায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.