অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

দুদকের জালে সারাদেশ, সাঁড়াশি অভিযানের ছক

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে সারাদেশ। এখন সাঁড়াশি অভিযানের ছক কষছে দুদক। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে একযোগে অভিযান চালিয়েছে। এক্ষেত্রে ৬২ ভাগ চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি পেয়েছে দুদক। শিগগিরই সারাদেশে সব সেক্টরে অভিযানে নামছে দুদক। জানা গেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশে দুদক এখন নড়েচড়ে বসেছে। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তালিকা করা হয়েছে। এখন হাতেনাতে ধরার পালা। একাধিক সরকারি অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এখন মহা আতঙ্কে রয়েছেন। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তারা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
বিভিন্ন মামলার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত চুনোপুঁটি আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও অধরা ছিল রাঘব-বোয়ালরা। এবার দুদকের তদন্তজালে অন্তত ৫ শতাধিক ভিআইপি নজরদারিতে রয়েছেন। সরকারি ও বিরোধী দলের এমপি, বিএনপি নেতা, সাবেক এমপি-মন্ত্রী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সরকারি অফিসের কেরানী পর্যন্ত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমপি, প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান অনমনীয়। দুদক একটি মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমনে নতুন করে ভূমিকা রাখছে তা খুবই ইতিবাচক।
দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে কমিশনে রূপান্তরের পর ওয়ান-ইলেভেনের দুই বছর বাঘের মতো জোরালো ভূমিকা পালন করেছিল দুদক, যদিও সে সময়ের দুদকের সব তৎপরতা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। এরপর আবার প্রায় নিস্ক্রিয় হয়ে যায় সংস্থাটি। ২০১৬ সালে কমিশন পুনর্গঠনের পর আবার জেগে ওঠার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি। কমিশন পুনর্গঠনের পর সারা দেশে জোরদার করা হয় গ্রেপ্তার অভিযান। তখন দুদকের অ্যাকশন দেখে জনপ্রশাসন, ব্যাংক ও সরকারি বিভিন্ন অফিসে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজন ব্যাংকার ও প্রকৌশলীর সঙ্গে একজন উপসচিব গ্রেপ্তার হওয়ার পর আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। এই অভিযানের পর দুর্নীতিবাজরা তটস্থ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পেশার সচেতন মানুষ স্বাগত জানিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানায়। দেখা গেল অভিযান নিয়মিত হয়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও আড়ালে রয়ে যায় সমাজে ভিআইপি হিসেবে পরিচিত দুর্নীতিবাজরা। আরো শঙ্কার ব্যাপার হলো, শতাধিক আসামি দুদকের অগোচরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে গেছে। নতুন করে দুদকের জেগে ওঠা নিয়ে আমরা আশাবাদী অনেকে। কারণ সরকার প্রধান সব কিছু দেখভাল করছেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। দুদকও ছক কষে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.