অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মহররম, ১৪৪০ হিজরী

‘পদ্মাবতী’ আগুনে ঘি ঢালল প্রথম প্রাণহানি

Print

বিনোদন ডেস্ক : পদ্মাবতীর রেশ শেষ পর্যন্ত যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এ মুহূর্তে তা বলা কঠিন। ভারতের ১৮ রাজ্যের মধ্যে তিনটির দরজা ইতোমধ্যে পদ্মাবতীর জন্য বন্ধ। রাজপুত-রোষের কারণে মরু শহর রাজস্থান আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। মধ্যপ্রদেশের ক্ষত্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান তাঁর রাজ্যে পদ্মাবতীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির কণ্ঠেও একই সুর। তাঁর যুক্তি, রাজপুত গরিমার স্বার্থে তাঁর রাজ্যে পদ্মাবতী নিষিদ্ধ। ১৯০ কোটি টাকায় তৈরি ‘পদ্মাবতী’ এখনো ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়নি। ‘পদ্ধতিগত ত্রæটি’র কারণে সেন্সর বোর্ড ছবিটি প্রযোজকের ঘরে ফেরত পাঠিয়েছে। অথচ গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বোর্ড অব ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন পদ্মাবতীকে বিনা প্রশ্নে ‘আনকাট’ ছাড়পত্র দিয়েছে। ইতিহাস বিকৃতি অথবা রাজপুত জাত্যভিমানে আঘাত লাগা নিয়ে কোনো প্রশ্নই তোলেনি তারা। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি অবশ্য এই আনন্দে বানভাসি নন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর মন্তব্য- আগে দেশ, পরে বিদেশ। ভারতে না দেখিয়ে বিলেতকে তিনি খুশি করবেন না।
এই যখন অবস্থা তখন তা ছাপিয়ে প্রাণহানিও ঘটে গেল। এটাই পদ্মাবতী নিয়ে জটিলতায় প্রথম মৃত্যু। গতকাল শুক্রবার সকালে দেখা যায়, রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের বিখ্যাত নাহারগড় দুর্গের বুরুজ থেকে একটি শরীর ঝুলছে। মৃতদেহের পাশে পাথরে কালি দিয়ে হিন্দিতে লেখা, ‘আমরা শুধু কুশপুতুল লটকাই না’। আর একটি পাথরে লেখা, ‘পদ্মাবতীর বিরোধিতা’। লোকটির পরিচয় পাওয়া গেছে। নাম চেতন সাইনি। বয়স ২৩। জয়পুরে তাঁর গয়নার ব্যবসা। এ মৃত্যু ঘিরে অনেক প্রশ্ন। রয়েছে অনেক রহস্যও। তবে একে বাড়িয়ে দিয়েছে ওই পাথরের ওপর লেখা। কাজেই, এটি খুন না আত্মহত্যা, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। তারা বলছে, তদন্ত শেষ না হলে কোনো অনুমান নয়। পদ্মাবতী নিয়ে সেই প্রথম দিন থেকেই যারা উত্তেজিত, সেই করণি সেনার নেতা লোকেন্দ্র সিং কালভি শুধু বলেছেন, ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। এমন হওয়া উচিত ছিল না।
বানসালির বদান্যতা অবশ্য কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের মন গলাতে পারেনি। তাদের মনোভাব এখনো মারমুখি। রাজস্থানের করণি সেনা কিংবা যারা দীপিকা পাড়ুকোন ও বানসালির মাথার দাম কুড়ি কোটি টাকা ধার্য করেছে, তাদের দাবি, আগে তাদের সিনেমাটা দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে হবে, তারপর অন্য কথা। এতসব বিতর্ক ও বিরোধের ফলে ছবির মুক্তি পিছিয়ে দিয়েছেন বানসারি। ১ ডিসেম্বরের জায়গায় এখন জানুয়ারি। তবে তার আগে প্রয়োজন সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র। ফলে একটা কী হয় কী হয় ভাব।
রাজনৈতিক গুঞ্জন অবশ্য পল্লবিত হচ্ছে। হিন্দুস্তানের সম্মান যে একমাত্র বিজেপির হাতেই সুরক্ষিত, এই বিতর্কের ফলে তা ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে গুজরাটে শাসক দল ভালোভাবে উতরে যাবে। তা ছাড়া নড়বড়ে রাজস্থানেও রাজপুত গরিমাকে হাতিয়ার করে বিজেপি আগামী বছর ভোটের আগে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক কেল্লা ফতে। তবে এর মধ্যে অন্য গুঞ্জনও যে নেই তা নয়। দেশে-বিদেশে বিনা পয়সায় পদ্মাবতীর প্রচার হয়ে গেল। ছবির প্রমোশনে একটা পয়সা তাঁদের খরচ করতে হলো না! কাজেই বানসালীরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি মনে হলেও তারা মোটেও বসে নেই। ইতোমধ্যে পদ্মাবতীর বিমা করে ফেলেছেন। ১৯০ কোটির সিনেমার বিমা ১৪০ কোটি টাকায় হয়েছে এমনটাই খবর মিলেছে! তবে সিনেমাটি নিষিদ্ধ হয়ে গেলে বিমার টাকা পাওয়া যাবে না।
এদিকে করণি সেনাপ্রধান লোকেন্দ্র সিং কালভি দিল্লি এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলেছেন, সরকার গোটা দেশেই ‘পদ্মাবতী’ নিষিদ্ধ করে দিক। বিজেপি, বজরঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্বঘোষিত সমাজপতিদের যুক্তি, এই ধরনের সিনেমা ‘লাভ জিহাদ’কে নাকি উৎসাহিত করে। অতএব গোড়া ধরে মুড়িয়ে ফেলাই মঙ্গল।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.