অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪০ হিজরী

পাঁচ বছরে দেশে বিনিয়োগ এসেছে ২৮ হাজার মিলিয়ন ডলার

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) হতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিগত ৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ হতে বাংলাদেশে আগত বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮ হাজার ৫৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে সর্বাধিক ৮ হাজার ১০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, দেশটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে ৭ হাজার ৮৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারী দলের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি জানান, বর্তমানে আমাদের কূটনৈতিক মিশনসমূহ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বহুজাতিক কোম্পানিসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

তিনি জানান, নতুন নতুন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিবেশী এবং এ অঞ্চলের দেশসমূহের সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্পর্ক বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও কার্যকরী ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বহির্বিশ্বে দশ বছর পূর্বের সাহায্য এবং দানের পরিবর্তে বর্তমানে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

সরকারী দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমানা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাত হতে দু’দেশের ছিটমহল বিনিময়ের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহলে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে ৯৯১ জন ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রেখে ভারতে ফেরত যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই তারা ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন। তাদের ইচ্ছানুযায়ী ভারতীয় ছিটমহলবাসীদের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব ও বাংলাদেশের ছিটমহলবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ৭২ জন ভারতীয় নাগরিক তাদের ভারতে ফেরত যাওয়ার ইচ্ছা পরিবর্তন করে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার আবেদন করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ৬২ জনকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে যখন অভিবাসন একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, মানুষ তার নিজ দেশ থেকে উৎখাত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের নাগরিককে নিজেদের নাগরিক বলে গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী সুলভ সুসম্পর্কের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা যে কোন দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্কের নজির হিসেবে বিরাজমান থাকবে। এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ দিক নির্দেশনা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.