অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে মহররম, ১৪৪১ হিজরী

পুনর্নির্বাচন, শপথসহ দুই দিনে সাত ধরনের কথা বললেন ভিপি নূর

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
পুনর্নির্বাচন, শপথসহ দুই দিনে সাত ধরনের কথা বলেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। এক্ষেত্রে তিনি এইচএম এরশাদকেও হার মানিয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ডাকসুর সকল পদে ৩১ মার্চের মধ্যে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ‘ক্লিয়ার মেসেজ’ পাওয়ার পরেই দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। বুধবার মুহসীন হলে সাংবাদিকদের সামনে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে ভোট দিয়েছেন। তারা চাইলে আমি শপথ নেব, না চাইলে শপথ নেব না। শিক্ষার্থীরা চায় এই নির্বাচন বাতিল করে ৩১ মার্চের মধ্যে পুনর্নির্বাচন হোক। আমি তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চাই।

দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নাকি অব্যাহতি নেবেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শপথ নেবেন কি না তা জানতে আরও দুএকদিন সময় লাগবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজানো ছকে নির্বাচনে এগিয়েছে। এখন পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসনের ‘ক্লিয়ার মেসেজ’ পাওয়ার পর ছাত্রদের চাওয়া পাওয়ার উপর ভিত্তি করে শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। অবশ্য মঙ্গলবার ডাকসুর ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া বাকি পদগুলোতে নির্বাচনের দাবি জানালেও বুধবার ডাকসুর সকল পদে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেন তিনি।

এর আগে পুনর্নির্বাচনের দাবিসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাত করেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা পাঁচটি প্যানেলের প্রতিনিধিরা। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ প্যানেল থেকে বিজয়ী ভিপি নুরুল হক নূর, স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান, বাম জোটের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী ও স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাত শেষে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অরণি সেমন্তি খান বলেন, উপাচার্য কোন আশ্বাস দেননি। আমরা পুনর্নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাব।
লিটন নন্দী বলেন, আমরা উপাচার্যকে তিন দিনের মধ্যে দাবি মেনে পুনর্তফসিল ঘোষণার আল্টিমেটাম দিয়েছি। তবে ভিসি আমাদের কোন কথা দেননি। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।

বেলা সাড়ে ১২টায় টিএসসি থেকে একটি মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্য কার্যালয়ে আসেন তারা। পরবর্তীতে দশজনের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের মৌখিক দাবি দাওয়া জানায়। তবে পুনরায় ডাকসু নির্বাচন অসম্ভব বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চারশত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রম-সময় ও মেধার যে খরচ হয়েছে, তার প্রতি অসম্মান জানানোর এখতিয়ার আমার নেই। একইসঙ্গে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সিনেট ভবনে উপাচার্য সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে ডাকসুর পুনর্নির্বাচনসহ চার দফা দাবিতে নির্বাচনে অংশ নেয়া পাঁচটি প্যানেলের প্রার্থীরা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। তিনি বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র কর্মকর্তাদের প্রয়াসে স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্বাচন হয়েছে। এটিকে অবজ্ঞা করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাদের বড় আকারের কর্মযজ্ঞের প্রতি অশ্রদ্ধা বা নস্যাত করার চেষ্টা করা হলে তা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীল, সুশৃঙ্খল ও ভাল একটি একাডেমিক পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে কেউ কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা সহ্য করবে না। অপরাধমূলক কোন কাজ সংঘটিত হলে, সেসবের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রোকেয়া হলের বিক্ষোভে সমর্থন তিন ছাত্রী হলের প্রতিনিধিদের ॥ রোকেয়া হলের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবির সঙ্গে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে উক্ত হলে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেছেন তিনটি ছাত্রী হল সংসদে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে কবি সুফিয়া কামাল হল, শামসুন্নাহার হল ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে কবি সুফিয়া কামাল হলের ভিপি তানজীনা আক্তার সোমা, জিএস মনিরা শারমিন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি তাসনীম আফরোজ ইমি, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাসনিম হালিম মিমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে শামসুন্নাহার হলের নব নির্বাচিত জিএস আফসানা ছপা বলেন, রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সারারাত ধরে চলা বিক্ষোভ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি যে, ৪০ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা নির্বাচিত হল সংসদ স্বতন্ত্র প্যানেল ও প্রার্থীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং তাদের দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সারারাত বিক্ষোভ করেছে উক্ত হলের শিক্ষার্থীদের একাংশ। স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে পরাজিত প্রার্থীরাই এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে বলে জানা যায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.