অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

প্রেমাদাসায় টাইগারদের সামনে নতুন ইতিহাসের হাতছানি

Print

স্পোর্টস প্রতিবেদক : শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসায় কি হবে আজ। বাংলাদেশের সামনে ইতিহাসের হাতছানি। নিদাহাস (স্বাধীনতা) ট্রফিতে প্রথমবারের মতো আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাসহ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতও অংশ নিয়েছে। গ্রুপ পর্বের খেলায় চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের হারিয়ে আজকের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। বেশ কয়েকবার ফাইনাল খেললেও শিরোপা অধরাই রয়েছে বাংলাদেশের। আজ কি পারবে নতুন ইতিহাস রচনা করতে টিম টাইগার। এ প্রশ্ন ১৬ কোটি ক্রিকেট মহলের।
বাংলাদেশের তুলনায় ভারত অনেক এগিয়ে। শক্তি-সামর্থ্য আর সাফল্যে ভারতীয়রা যোজন-যোজন এগিয়ে। তবুও প্রায় এক যুগ হতে চললো বাংলাদেশ আর ভারত একদিনের সীমিত ওভারের ম্যাচ মানেই বাড়তি আকর্ষণ, উত্তেজনা ও প্রাণচাঞ্চল্য। কেন এমন বাড়তি আকর্ষণ, প্রতিদ্ব›দ্বীতার বাতাবরণ ও প্রাণ চাঞ্চল্য?
কারণ একটাই, এই বাংলাদেশের কাছে হেরে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়েছিল ভারতের। এরপর থেকে একদিনের সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশ অন্যরকম প্রতিপক্ষ ভারতের। দু’দেশের ক্রিকেটার, ভক্ত ও সমর্থকদের কাছেও ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ একটা ধুন্ধুমার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
ভারতীয়রা যেমন ২০০৭ বিশ্বকাপের গ্রæপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারটাকে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গের ম্যাচ ধরে বসে আছে, একইভাবে বাংলাদেশের কাছেও ভারত একবার নয়, বারবার কোন বড় সাফল্যের মঞ্চে ওঠার বাঁধা হয়েই দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হেরেই প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভাঙ্গে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ণের সেই ঘটনাবহুল কোয়ার্টার ফাইনাল অনেক কারণেই বাংলাদেশ দল ও সমর্থকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। প্রশ্নবিদ্ধ আম্পয়ারিং ওই সেরা আটের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের পর দু’দেশের ক্রিকেটার ও ভক্তদের মধ্যে একটা অন্যরকম বৈরি মানসিকতাও জন্মেছে। ভারতের বিপক্ষে খেলা হলেই বাংলাদেশ শিবিরে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রসঙ্গ আলেচিত হয়। আর গত বছর এই ভারতীয়দের প্রবল প্রতিরোধের মুখেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে খেলার স্বপ্নও চুরমার হয়। সে কারণেই আজকের নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে টাইগারদের বিপক্ষে ভারতীয়দের ম্যাচটি পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
কিন্তু এর বাইরে আজকের ফাইনালের আরও একটি অন্তর্নিহীত তাৎপর্য ও গুরুত্ব আছে। তাহলো, এখনো কোন আন্তর্জাতিক আসরে ট্রফি অধরাই রয়ে গেছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মানেই ব্যর্থতা। আর যদিও বা ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া; কিন্তু শেষ অবধি রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের কোন আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে না পারার পথেও ভারত পুরনো বাধা। আইসিসির বিশ্ব আসরগুলোয় শেষ হাসি হাসার সম্ভাবনা জাগাতে না পারলেও, এর আগে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলে মোট চারটি আসরের ফাইনালে পৌঁছেও শিরোপা জেতা হয়নি টাইগারদের।
ইতিহাস জানাচ্ছে, টাইগাররা প্রথম কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে ২০০৯ সালে। তাতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্যায়ে জিতলেও ফাইনালে গিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে প্রথম ট্রফি জেতার সুযোগ হাতছাড়া করে টাইগাররা। ২০১২ সালে ৫০ ওভারের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানের পরাজয় বড় এক আক্ষেপ। আর এ বছরের ২৭ জানুয়ারি শেরে বাংলায় তিন জাতি ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে সেই শ্রীলঙ্কার কাছে আবার ৭৯ রানের হার ট্রফি জয়ে কুঠারঘাত হয়েই আছে।
এতো গেল, ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টের ফাইনালে না পারা আর ব্যর্থতার সাতকাহন। টি-টোয়েন্টি আসরেও ট্রফি না জেতার অনুশোচনা কম নয়। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ভারতের কাছে ফাইনালে ৮ উইকেটের পরাজয় এখনো স্বপ্ন ভঙ্গের প্রতীক হয়ে রয়েছে টাইগারদের। দুই বছর পর সেই ভারতের বিপক্ষে আরও একটি ফাইনাল। কাকতালীয়ভাবে সে ফাইনালটিও ছিল এই মার্চ মাসে (২০১৬ সালের ৬ মার্চ, শেরে বাংলায়)। প্রবল ঝড়ো বাতাস ও ভারি বর্ষণে ১৫ ওভারে গড়ায় খেলা। তাতে ১২০ রান করে ৮ উইকেটে হার মানে বাংলাদেশ।
২৪ মাস ১২ দিন পর সেই ভারতের বিপক্ষে আবারও ফাইনাল। শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। এর মধ্যে ফাইনালে দেখা না হলেও ভারতের বিপক্ষে দু’দুটি বিশ্ব আসরের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ইতিহাস সাক্ষী- ভারতের সাথে তিনবার নক আউট পর্বে দেখা হয় বাংলাদেশের; প্রতিবার ভারতই জিতেছে।
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্ব›দ্বীতা হয়েছে। আর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। প্রতিবারই হার।
ক্রিকেট বিশ্বে ভারত সব হিসেব-নিকেশে বাংলাদেশের চেয়ে সমৃদ্ধ দল। র‌্যাংঙ্কিং, রেটিং আর অবস্থান- যাই বলা হোক না কেন, ভারত অনেক ওপরে; কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ থেকে ভারত আর বাংলাদেশ ক্রিকেট লড়াইয়ে এসেছে অন্য মাত্রা। বাংলাদেশের সাথে খেলা হলেই নড়ে চড়ে বসে ভারতীয়রা। ভারতের প্রচার মাধ্যম সরব হয়ে ওঠে। টিম ইন্ডিয়াও অনেক বেশি ফোকাস ও সিরিয়াস থাকে।
নক-আউট পর্বে বার বার ভারতের সামনে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়া টাইগাররা। এবার মাথা তুলে দাড়াতে পারবে তো? অনেক কারণে এরই মধ্যে ‘নিদাহাস ট্রফি’ স্মরণীয় হয়ে গেছে। হয়ত থাকবেও।
কিন্তু টাইগারদের দীর্ঘ দিনের সাফল্যর খরা কি কাটবে এ আসরে? সাকিব, তামিম, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহরা কী এবার শেষ হাসি হাসতে পারবেন? ট্রফি জিততে না পারার আক্ষেপ-অনুশোচনা কাটিয়ে এবার ট্রফি হাতে নিয়ে দেশে ফিরবে তো টাইগাররা? দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এবার বাংলাদেশের হাতে ট্রফি দেখার স্বপ্নে বিভোড়।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.