অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

ফাগুনের ছোঁয়ায় জীবনকে রাঙিয়ে দেয়ার দিন আজ

Print

অনলাইন ডেস্ক : আহা আজই এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে কত বাঁশি বাজে…। আজ বসন্ত। পহেলা ফাল্গুন। জীবনকে রাঙিয়ে দেয়ার দিন। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে এসেছে ঋতুরাজ। কবি শামসুর রাহমান বসন্তের মায়ায় লিখেছেন, ‘গাছের শাখায় ফুল হাওয়ার সংস বে/যখন নীরবে দিব্যি সানন্দে দুলতে/ থাকে, পথচারী/ অথবা জানালা-ধরে-থাকা যুবতীর চোখ পড়ে/ কে জানে কী ছবি সব দোলে কিছুক্ষণ!/ বসন্তের মায়া রয়ে যায় বাস্তবিক নানাভাবে।’
আজ বসন্তের আগমনে কোকিলের কুহুতানে মুখরিত শ্যামল সবুজ প্রান্তর। বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে এই শহরেও। শুকনো পাতা ঝরে জন্ম নেবে কচি নতুন পাতা। সেই পত্রপল্লবে, ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকা আর ওই পাহাড়ে অরণ্যে বসন্ত আজ দেবে নবযৌবনের ডাক।
আজ প্রাণে প্রাণে মিলবে প্রাণ। ফুলের সৌরভে মেতে উঠবে চারিপাশ। বসন্তের রং ‘বাসন্তী’কে সঙ্গে নিয়েই শুরু হয়েছে দিন। গাঁদা ফুলের রঙে সেজেছে তরুণ-তরুণীরা। পরেছে বাসন্তী রঙের শাড়ি। খোঁপায় ফুল, মাথায় টায়রা আর হাতে কাচের চুড়ি। তরুণরা বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে বাংলার পথে-ঘাটে ঋতুরাজকে বরণ করছে। বসন্ত মানেই কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়া নেই মানা। তাই তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন বসন্তের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে। রাজধানীর বুকে বাসন্তী সাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শাহবাগ, চারুকলা আর টিএসসিতে। সকাল থেকেই অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিণত হয়েছে বাসন্তী রঙের বাগানে। রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ এলাকা, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, চারুকলার পেছনের সবুজ প্রাঙ্গণে ঘুরছে রাজধানীবাসী। আজ ঘরকুণো মানুষটিও ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়েছেন। প্রত্যাশা- প্রকৃতির সঙ্গে পলাশ-শিমুলের রঙে নিজেকেও রাঙিয়ে নেবেন।

বসন্ত শুধু আনন্দ-উচ্ছ্বাসের রঙ ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তরঙিন স্মৃতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গ–ন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ারও মিলেমিশে একাকার। তাই বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। এ উৎসবটির রয়েছে এক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন। এর মধ্যে অন্যতম- বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম ও উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই বসন্ত উৎসব শুধু উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.