অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের দাম কমলো

Print

 

সাহিদা পারভীন : জনপ্রিয় করার স্বার্থে আরো একধাপ দাম কমলো বসুন্ধরা এলপি গ্যাস এর । বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং এম এম জসীম উদ্দীন দৈনিক চিত্রকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এখন গ্রামে-গঞ্জেও রান্নার কাজে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে এ গ্যাস। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাসকে জনপ্রিয় করে তোলার প্রতিশ্রুতি থেকে ভোক্তা সুবিধার কথা চিন্তা করে সম্প্রতি পণ্যটির দাম আরেক দফা কমিয়েছে বসুন্ধরা।
গত ডিসেম্বরেএর সর্বশেষ দাম কমানো হয়েছিল । এখন থেকে বসুন্ধরার ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ২০ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৫০ টাকা ও ৪৫ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৭৫ টাকা করে কমানো হয়েছে বলে জানালেন এম এম জসীম উদ্দীন।
তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করছে বসুন্ধরা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট শেয়ার ৩০ শতাংশেরও বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কোম্পানির গ্যাস বাজারে ঢুকেছে। প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে বসুন্ধরা তার অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে । এ জন্য যে, প্রতিষ্ঠানটি ন্যায্যমূল্যে পণ্যটি বিক্রি করে আসছে। আমাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষেরও একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, গত ৪-৫ বছর ধরে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সরকার এলপি গ্যাসকে উৎসাহিত করছে। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ৮ লাখ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এখন নীতি হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে গৃহস্থালির ব্যবহারে এলপি গ্যাসকে উৎসাহিত করা। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বসুন্ধরা গ্রুপ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।

’ গত এক বছর ধরে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় বসুন্ধরা ৫০-৬০ টাকা কমে এলপি গ্যাস বিক্রি করেছে জানিয়ে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের হেড অব মার্কেটিং বলেন, ‘আমরা দেখেছি স্বল্প মুনাফা করে আরও কিছুটা দাম কমানো সম্ভব। সে কারণে আরেক দফা দাম কমানো হলো। এর আগে দাম কমানো হয়েছিল গত ৫ ডিসেম্বর।’ বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপি গ্যাস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সরকারের জ্বালানিবান্ধব নীতিমালা মেনে চলার চেষ্টা করছে।

দেশে এখন প্রতি মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন এলপি গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা বরাবরই সরকারের কাছে একটি দাবি করে আসছে, তা হলো সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক
ছাড় দেওয়া। গ্যাস সিলিন্ডার আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলেও সিলিন্ডারের কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানো হয়নি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও রয়েছে কেবল ৭ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে গ্রামেগঞ্জে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে পারলে জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার কমবে এবং বনভূমি রক্ষা পাবে। আর এ কাজটি করতেই এলপি গ্যাসের দাম কমিয়ে এক ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করছে এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা।
মূলত কাঁচামালের দরের ওপরই ভোক্তামূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। এখানে সরকারের কোনো ভর্তুকি নেই। এটা সম্পূর্ন রূপে একটি ভোগ্যপণ্য। এর দাম কেরোসিন বা ডিজেলের মতো বেঁধে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ খাতের উদ্যোক্তারা সবসময় চেষ্টা করছেন সরকারের নীতিকে সমর্থন দিয়ে দামটা যতটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়।
দাম কমায় এর ব্যবহার বাড়বে বলে মনে করছে ভোক্তারা। তাছাড়া জনপ্রিয়তায়ও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.