অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

বাণিজ্য মেলায় ছাড়ের হিড়িক

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শেষ সময়ে ছাড়ের ছড়াছড়ি চলছে। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই মেলার শুরুতে যে ছাড় দিয়েছিলো, শেষ সময়ে এসে তার পরিমাণ আরো বাড়িয়েছে। বাড়তি ছাড় পেয়ে খুশি ক্রেতা-বিক্রেতারা। মেলায় অংশগ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রির পরিমাণ ও কেনাকাটায় ক্রেতাদের আগ্রহ দেখেই তা বোঝা যায়। মঙ্গলবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন ছাড়ের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। কেউ দিচ্ছে শেষ অফার, কেউ ধামাকা অফার, কেউ গোল্ডেন অফার, আখেরি অফার, আবার কেউ দিচ্ছে কাড়াকাড়ি অফার। আর তাতেই প্রতিটি স্টলে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।
বাড্ডা থেকে আসা ইমরান বলেন, ৭-৮ বছর ধরে দেখছি মেলার শেষদিকে প্রায় সব পণ্যেই ছাড় দেওয়া হয়। তাই শেষদিকে কিছু কেনাকাটা করলাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলার প্রচার কেন্দ্র থেকে মাইকে বিভিন্ন স্টলের অফার প্রচার করা হচ্ছে। ১৭৩ নম্বর স্টলের ইনচার্জ বাবুল বলেন, প্রথমদিকের চেয়ে এখন সব পণ্যে ২০ ভাগ বেশি ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ঢাকাই জামদানি ৩ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। টাঙ্গাইল শাড়ি ও অন্যসব শাড়িতেও শেষ সময়ে বেশি ছাড় দেওয়া হচ্ছে। রূপ টেক্সটাইল দিচ্ছে কাড়াকাড়ি অফার। এখানে ৭৫০ টাকার থ্রি পিস দেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকায়, আবার একসঙ্গে ৩টা কিনলে ১৫শ টাকায় দেওয়া হচ্ছে।
আপন টেক্সটাইলের ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বলেন, আর মাত্র ৫ দিন বাকি। তাই থ্রি পিসে অফার দিচ্ছি। ৬শ টাকা দামের ২ সেট থ্রি পিস কিনলে ১ সেট ফ্রি দিচ্ছি। টিএস ফ্যাশন স্টলে বেøজারে শেষ সময়ে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিকে যে বেøজার ২২শ টাকা ছিল, তা এখন দিচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। বড় প্যাভিলিয়নগুলোতেও শেষ মুহূর্তের ছাড় নিয়ে টাঙানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন।
বেস্ট বাইর প্যাভিলিয়ন থেকে পণ্য ক্রেতা মিরপুরের বাসিন্দা রোকসানা আক্তার বলেন, মেলার প্রথমদিকে এখান থেকে কিছু পণ্য কিনেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন আগে একটি সংবাদ দেখলামÑ বেস্ট বাইর স্টলে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় আরো কিছু কিনতে চলে এলাম। প্যাভিলিয়নটি থেকে আগে যে পণ্য কিনেছিলাম, এখন আবার সেই পণ্য কিনেছি। তবে ছাড় আগের চেয়ে বেশি পেয়েছি।
ধানমন্ডি থেকে আসা রাফিয়া বলেন, প্রতিবারই বাণিজ্য মেলার শেষ সময়ে ছাড়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় বিক্রেতারা। তাই এবার মেলার শেষ সময়ে এসেছি। আমার বান্ধবীরা আগে যে বেসলেট ২০০ টাকা দিয়ে কিনেছে, একই বেসলেট এখন ১২০ টাকা দিয়ে কিনেছি। খিলগাঁওর বাসিন্দা মো. শাওন বলেন, মেলার প্রথমদিকে পরিবার নিয়ে একবার ঘুরতে এসেছিলাম। সেই সময় কোনো কেনাকাটা করিনি। তাই সংসারের প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনলাম। প্রথমদিকে এসব পণ্যের যে দাম চাওয়া হয়েছিল এখন তার থেকে অনেক কম দামে কিনেছি। এমন ছাড় পেয়ে আমি খুশি।
১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ১৮-১৯ দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকায় ক্রেতা-দর্শক কম আসে। এজন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধে চারদিন বাড়ানো হয়।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.