অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

বালিয়াকান্দির প্রতারক মালেক হাতিয়ে নিয়েছে এক বিধবার ১২ লক্ষ টাকা

Print

বালিয়াকান্দি অফিস :রাজবাড়ীতে বালিয়াকান্দিতে একশ্রেণীর প্রতারক চক্র বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেবার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব টাকা নেওয়ার কথা বললে ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে থাকে প্রতারক চক্রটি। এ কারনেই মুখ খুলতে সাহস পায়না অনেক ভুক্তভোগী।
জানাগেছে, কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের শিবানন্দপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃত যতিন্দ্রনাথ মৌলিকের স্ত্রী নমিতা রানী মৌলিক বিধবা হওয়ার সুবাদে তার একমাত্র ছেলে দেব প্রসাদ মৌলিককে সচিবালয় অথবা জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ে ভালো পদে চাকুরী পাইয়ে দেবার কথা বলে একজন পীরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ফেরতও দিয়েছে এই চক্রটি।
ভুক্তভোগী নমিতা রানী মৌলিক ও তার ছেলে ওই পীরের ব্যবহার ও তার মুখে ভালো ভালো কিছু কথা শূনে তার ভক্ত হয়ে যান। এ সুবাদে প্রায়ই রাজবাড়ী জেলার ওই পীরের বাড়ীতে যাতায়াত করতে থাকে। সেখানেই পরিচয় হয় বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের আব্দুল মালেক শেখ ও শেকাড়া গ্রামের খন্দকার মোঃ রেজাউল হকের সাথে। খন্দকার রেজাউল হক সচিবালয়ে চাকুরী করেন পরিচয় দিয়ে বলেন, আপনার ছেলে যেহেতু শিক্ষিত তবে তাকে আমি সচিবালয়ে অথবা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিতে পারি। এর জন্য আপনাকে কিছু টাকা খরচ করতে হবে। কথা শুনে অসহায় নমিতা রানী প্রশ্ন করেন, আপনাদেরকে কত টাকা দিতে হবে। ওই ব্যক্তি ১২ লাখ টাকা দাবী করেন। সেখানে পীরও নমিতাকে টাকা দিয়ে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। নমিতা রানী ১২ লাখ টাকার মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ টাকা তাদের পীরের হাত দিয়ে দেন এবং সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেন খন্দকার রেজাউল হক ও পীরের পোষ্যপুত্র বলে পরিচিত বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নারায়নপুর গ্রামের মোঃ আ্ব্দুল মালেক ওরফে নীল মালেকের হাতে। এরপর দীর্ঘ চারটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও তার ছেলে দেবপ্রসাদ মৌলিককে চাকুরী দেওয়াতো দুরের কথা তার সঙ্গে যোগাযোগ বি্িছন্ন করে দেন। এ অবস্থায় অসহায় নমিতা টাকার শোক সইতে না পেরে পাগল প্রায়। যেখানে সেখানে টাকার কথা তুলে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চাকুরী দিতে না পেরে সম্প্রতি তাদের পীর এর কথা মতো খন্দকার রেজাউল হক ও নীল মালেক জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর বাজারের জনৈক প্রসিদ্ধ মুদি ব্যবসায়ী‘র সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে‘র হিসাব থেকে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান একপর্যায়ে নমিতা রানীর ছেলে দেবপ্রসাদের বিয়ের মধ্যে গিয়ে ২৫ হাজার টাকা নগদ ফেরৎ দিয়ে আসে। এ দিয়ে ১২ লাখ টাকার মধ্যে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ফেরৎ পেয়েছেন নমিতা। আর ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকার কোন হদিস নেই। সম্প্রতি পীরের বাড়ীতে ভক্ত নমিতা রানী মৌলিক গেলে পীর তার পোষ্যপুত্র মালেকের কথা মতো নমিতাকে মারধর করে তারিয়ে দেয় এবং বলে তুই আর আমার দরবারে আসবি না। তোর মতো ভক্ত আমার প্রয়োজন নেই।
শুধু টাকা নিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি এই প্রতারক চক্র। যতিন্দ্রনাথের বাড়ীর একটি ৫৫ বছর বয়সী মেহগনী গাছ যার বাজার মূল্য সোয়া লাখ টাকা সেটাও এই প্রতারকচক্র পীরের বাড়ী আসবাবপত্র তৈরীর জন্য কেঁটে নিয়ে আসে। এই চক্রটি শুধু এখানেই নয় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রকৃয়ায় মানুষের সঙ্গে প্রতারনা করাসহ ঘর ছাড়া করেছে অনেকের। সংসার ভেঙ্গেছে বেশ কিছু। সাধারন মানুষের জিজ্ঞাসা এটাও কি ওই পীরের কথা মতো হয়। এইসব প্রতারক ভক্ত বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পীরের বিষয়ে অনেক বড় বড় কথা বলে। সেখানে ভক্ত সৃষ্টি করে। আবার তারা বলে থাকেন, আমাদের দয়াল মানুষের মনের কথা মুখ দেখে বলে দিতে পারেন। যদি কোন ব্যক্তি তার দরবারে কোন খারাপ উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে তবে তাকে আগে থেকেই বের করে দেন। ওই পীরের বাড়ী যেতে হলে আগে তার ভক্তদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। প্রতারক ভক্তগণ আগে থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পীরকে ওই নতুন ভক্তের ব্যাপারে বলে রাখেন। কোন পরিচিত ভক্তের মাধ্যমে দরবারে পাঠিয়ে থাকেন। পীর আগে থেকেই ওই ভক্তের সব কিছু অলৌকিকভাবে বলতে থাকেন। ভক্ত তার এ অলৌকিক অবস্থা দেখে বিশ্বাসে গলে পড়েন। আর যদি কোন ভক্ত তার মোবাইল ফোনে না জানিয়ে তার দরবারে যান তবে তাকে খেতে হয় লাঠির দাবর। ্এ ভাবে ওই পীরের উত্থান হয়েছে। আর এর সুযোগ গ্রহন করে প্রতারকচক্রটি বিভিন্ন সাধারন মানুষের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর বাড়ী, ঘর, সংসার ছাড়া করছে অনেকেরই। ভন্ড পীরের গিয়ে অনেকেই স্বামী ছেড়ে ধরেছে অন্য পুরুষের হাত। আর স্বামীরা স্ত্রী হারিয়ে একাই দিনাতিপাত করছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন স্ত্রী, সংসার হারিয়ে মৃত্যূবরণ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটির আবেদন এ প্রতারকচক্র কিভাবে এহেন কর্মকান্ড চালাচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার। তাহলেই সাধারন মানুষগুলো প্রতারনার হাত থেকে রক্ষা পাবে।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.