অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

বিলুপ্ত মুসলিম লীগের পথেই এখন বিএনপি

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন সাবেক চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পীকার অধ্যাপক আলী আশরাফ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার ও সরকারী দলের বেনজীর আহমেদ।

আলোচনার সূচনা করে অধ্যাপক আলী বলেন, সংসদে রাষ্ট্রপতি একটি অমূল্য ভাষণ দিয়েছেন। দেশের মালিক জনগণ, সেটি বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে একটি পক্ষের কী আস্ফালন দেখলাম। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, সেখানেও নির্বাচন বিঘ্ন ঘটানোর নানা প্রচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু জনগণ নির্বিঘ্নেই ভোট দিয়ে নতুন সরকার গঠন করেছে।

সরকারের উন্নয়ন-সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রাম তো শহরে রূপান্তর হয়েই গেছে। কোথাও এখন তেমন কাঁচা রাস্তা নেই, প্রত্যেক ঘরে ঘরে এখন বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। দেশ শুধু খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, খাদ্য, মাছ, সবজি উৎপাদনেও উদ্বৃত্তের দেশ এখন বাংলাদেশ। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশ থেকে জঙ্গীবাদ নির্মূল করে সারাবিশ্বে প্রসংসিত হয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বের অনেক বড় দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশকে সব দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হয়েছে।

শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু দেশের সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের কারণে। পুরো দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ব্যাপক ভরাডুবির কারণে বিএনপি এখন হতাশায় ভুগছে। বিলুপ্ত হওয়া মুসলিম লীগের অবস্থা হয়েছে এখন বিএনপির। সত্তরের নির্বাচনে মুসলিম লীগ ৯টি আসন পেয়েছিল। এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট ৮টি আসন পেয়েছে। ঠিকই তো আছে তারা একই লিগেসি বহন করছে। তাদের পাওয়া আসনও কাছাকাছি। এখানে বিএনপির এত হতাশ হওয়ার কী আছে? এটা ইতিহাসের শিক্ষা। বাংলার জনগণ এখন শেখ হাসিনার উন্নয়ন-সমৃদ্ধির নেতৃত্বের সঙ্গে একাট্টা।

সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়নের সাফল্য গাঁথা বস্তুনিষ্ঠভাবে উঠে এসেছে।

সরকারি দলের সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দিয়েছেন তা দেশের সার্বিক চিত্রের প্রতিফলন। তিনি সরকারের বিগত ১০ বছরের আর্থ-সামজিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঘটনা প্রবাহে এদেশের যে রূপান্তর হয়েছে এটাকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে বিগত ১০ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে হত্যার পর ২১ বছর এদেশের মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে কাটিয়েছে। দেশের সাফল্যের সবগুলো দ্বার যেন তখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই অবস্থা থেকে দেশকে তুলে এনে দারিদ্র্যমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা স্বল্পোন্নত দরিদ্র দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।
সরকারি দলের মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, এবারের নির্বাচনে এদেশের মানুষ ’৭০-এর নির্বাচনের মতো ফলাফল প্রত্যাশা করেছিল। নির্বাচনের ফলাফলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান এদেশে খুন, হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি চালু করেছিলেন। তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশীদার করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে এদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করেছেন।
বিএনপিকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহবান জানিয়ে সরকারি দলের শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ পেয়েছিল ৯টি আসন। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট পেয়েছে ৮টি আসন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.