অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

বিশ্বব্যাপী বড়দিনের আয়োজন

Print

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান ধর্মাবল্বীরা এই দিনটি বড়দিন বা যিশুর জন্মদিন হিসেবে পালন করে। বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই বড়দিন একটি প্রধান উৎসব হিসেবে পালিত হয়। আর এই দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। খ্রিস্টধর্মে ক্রিসমাস বা বড়দিন হচ্ছে যিশুর জন্মোৎসব। আদি বাইবেলে একাধিক ভবিষ্যতবাণীতে বলা হয়েছিল কুমারী মেরির গর্ভে তাঁদের মসিহা বা ত্রাণকর্তার জন্ম হবে। অবশেষে ফিলিস্তিন অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে অবস্থিত পবিত্র শহর বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন ত্রাণকর্তা যিশু।

বড়দিনের প্রার্থনা
যিশুর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে নানা দেশে নানা ধরনের বিচিত্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যিশুর জন্মস্থান বেথলেহেমে যেমন বড়দিনের আয়োজন নিয়ে কোনো কার্পণ্য করা হয় না তেমনি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। ক্রিসমান ট্রি, শান্তা ক্লস, নানা রকম খাবার দিয়ে বড়দিনের আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ক্রিসমাসকে বলা হয় নোয়েল। সান্তা ক্লজকে তারা বলে পেরি নোয়েল। ফ্রান্সে সব সময় একই ভাবে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়। ট্রির ওপর লাল রঙের রিবন মুড়িয়ে তার সঙ্গে সাদা মোম বাতি দিয়ে সাজানো হয়।এরপরেই নিউইয়র্ক শহরের আয়োজন। শহরের আনাচে কানাচে বড়দিনের আনন্দের হাওয়া লেগেছে। ক্রিসমাস নিয়ে সব বয়সীদের আনন্দে মেতে উঠে। এছাড়া ভালো খাবার দাবার, গিফট আর বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া তো আছেই।

প্যারিসে বড়দিন
তবে বড়দিন উদযাপনে সবচেয়ে এগিয়ে বোধহয় ইতালি। তারা ৮ ডিসেম্বর থেকেই বড়দিনের আয়োজন শুরু করে। এইদিন থেকে অনেক বাড়িতেই বড়দিন উদযাপনও শুরু হয়। সেখানে বড়দিনের উৎসব চলে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের পাশাপাশি ২৬ ডিসেম্বর সেইন্ট স্টিফেনস ডে পালন করা হয় দেশটিতে।

ইতালির রোমে বড়দিন
ব্রাজিলের তুষারপাত না হওয়ায় ক্রিসমাস ট্রি’র উপরে তুলো দিয়ে বরফের মতো বানিয়ে রাখা হয়। সান্তা ক্লজকে পাপাই নোয়েল নামে ডাকা হয় দেশটিতে। এই দিনে চকলেট ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে ব্রিগেডেইরো নামে এক ধরনের খাবার দেশটিতে বেশ জনপ্রিয়। ২৫ ডিসেম্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্চগুলোতে ‘মিসা দ্য গ্যালো’ উদযাপনে মেতে উঠে সব বয়সের মানুষ।

ব্রাজিলে বড়দিনের আয়োজন
ভারতও কোনো দিক দিয়ে কম নয় বড়দিনের আয়োজনে। দেশটিতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা খুবই কম। তবুও খ্রিস্টানরা বড়দিন বেশ ঘটা করেই পালন করছে। ভারতে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়। সেখানে সান্তা ক্লজকে ডাকা হয় ক্রিসমাস বাবা। এছাড়া তামিলনাড়ু, কেরালা,কর্ণাটকা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ঘরের ছাদে ছোট ছোট মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয় বড়দিনে।

ভারতের বড়দিন
বড়দিন উপলক্ষে পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়কে ‘মত্ত’ হওয়া বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটারস ব্যাসিলিকায় ৭০০ বছরের পুরনো গির্জায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের মাঝে শুক্রবার ক্রিসমাস উপলক্ষে তার প্রথাগত ভাষণ দিয়েছেন। এখানেই যিশু খ্রিস্টের জন্ম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। পোপ বলেন, ‘আমরা কারা? এই বিষয়টা নতুন করে আমরা আবিস্কার করতে পারি ক্রিসমাসেই।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.