অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৮শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

ভাঙ্গা হচ্ছে ৬ মার্কেট, চিহ্নিত ৬ হাজার ভবন

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার দীর্ঘ ছয় বছর পর অবশেষে ৬ মার্কেট ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। জরাজীর্ণ এ ভবনগুলো ধসে পড়ে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে। ভবনগুলো হচ্ছে গাবতলীর আমিন বাজার ট্রাক টার্মিনাল বিল্ডিং, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচা ও পাকা মার্কেট, গুলশান ২-এ গুলশান কাঁচা মার্কেট, (উত্তর) গুলশান ১-এ গুলশান পাকা মার্কেট, (দক্ষিণ) কাওরান বাজার কাঁচা মার্কেট (কিচেন মার্কেট), কাওরান বাজার ১ নং ভবন মার্কেট, কাওরান বাজার ২ নং ভবন মার্কেট, কাওরান বাজার আড়ত ভবন ও রায়ের বাজার মার্কঘ্ন্। এছাড়া রাজধানীর ৬ হাজার ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই।
অপরদিকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ৬টি মার্কে ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে পারে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। সোমবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত সিটি কর্পোরেশনের কনডেমনেশন কমিটি এসব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এসব ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। অতি শীঘ্রই মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই।

এসব ভবনের কোনকোনটির উপরের ছাদে বাঁশ দিয়ে ঠিকা দিয়ে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃক পরীক্ষার পর মার্কেটগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দিলেও গত ৬ বছরেও এসব ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তান আমলে ও এরশাদ সরকারের আমলে তৈরি হওয়া এসব ভবনের বেশিরভাগই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব মার্কেটে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। যে কোন সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এসব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তা ভাঙ্গার কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটিতে জেলা প্রশাসক, মেয়রের প্রতিনিধি এক জন কাউন্সিলর সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে ৭ সদস্যের কমিটি এসব ভবনকে পরিত্যক্ত করে দ্রুত এসব ভবন ভাঙ্গাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়। জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত এই কমিটির সভার রেজুলেশন করে এসব ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে। এরপরই ভবনগুলো ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হবে। তবে অতি দ্রুতই ভবনগুলোও ভাঙ্গা হবে বলে জানা গেছে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ছয় বছর ডিএনসিসি কর্র্তৃপক্ষ এসব ভবন ভাঙ্গতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এসব ভবনের কয়েকটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। ভবনগুলোর দুরবস্থা দেখে কারণ জানতে চাইলে মেয়রকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। মেয়র আতিকুল ইসলাম এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এসব ভবন ধসে যে কোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উপলব্ধি করে এসব ভবনের বিষয়ে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের পূর্বের দেয়া প্রস্তাব অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি ভবনগুলো পরিত্যক্ত করে ভাঙ্গার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, বুয়েট কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হওয়ায় এসব মার্কেট থেকে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার রাজস্ব আহরণ করেন না। এমনকি এসব ভবন সংস্কারে কোন প্রকার অর্থ ব্যয় করা হয় না। এসব ভবন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগের মামলা থাকলেও বর্তমানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব ভবন ভাঙতে কোন প্রকার বাধা নেই বলে সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে। এরই প্রেক্ষিতে ভবিষ্যত কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বুয়েট কর্তৃক নাগরিক জীবনে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষিত কোন ভবন আমরা রাখতে চাই না। এই ৬ মার্কেট ভবনের কোন কোনটি ১৯৬২ সালে নির্মিত যেগুলো ভেঙ্গে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব মার্কেট থেকে সিটি কর্পোরেশন কোন প্রকার রাজস্ব আদায় করে না। জানমালের নিরাপত্তা বিধানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা অতি দ্রুত এসব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভাঙ্গার কাজ শুরু করব। পরবর্তীতে এসব স্থানে পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক স্থাপনা তৈরি করা হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.