অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’র সেইদিন শেষ

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
‘মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’র দিন শেষ। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে বদলে গেছে প্রকৃতির অনেক নিয়ম। মাঘ মাসেই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠেছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকায় ধুলোময় হয়ে উঠেছে রাজধানীর পরিবেশ। ধুলো ধূসর পরিবেশে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, এ্যাজমা ও ফুসফুসে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী।
রাজধানীতে দীর্ঘদিন বৃষ্টি নেই। সামান্য বাতাসেই বিশেষ করে যানবাহন চলাচলের গতিবেগেই উড়তে থাকে ধুলো-ময়লা। প্রতিনিয়ত এমন পরিবেশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নাক-মুখ বন্ধ করে পথ চলতে হয়। সারাবছর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে জমে থাকা মাটি শীতকালে ধুলো হয়ে উড়ে। আর সাধারণ মানুষ
ধুলার রাজত্বে অসহায় হয়ে মুখে অনেকেই মুখোশ পড়ে। এই ধুলায় একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে রোগবালাই। পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন দূষণের মধ্যে ধুলোর দূষণের অবস্থান শীর্ষে। এজন্য জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতির প্রভাব বাড়ছে। জীবাণুমিশ্রিত ধুলোয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগব্যাধি। গবেষণায় দেখা গেছে, ধুলার কারণে রাজধানী ঢাকাবাসীর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের প্রতিমাসে কমপক্ষে ৪ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এর কারণে পরিধেয় কাপড় চোপড়সহ ঘরের আসবাবপত্র ধুলায় ভরে যায়। এগুলো পরিষ্কার করতে উল্লেখযোগ্য সময় ও অর্থ নষ্ট হয়। এতে পানি ও বিদ্যুতেরও অপচয় বাড়ে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার কিংবা উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে উন্মুক্তভাবে। নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণ এলাকা ঘেরাও করে কাজ করার কথা থাকলেও তা না করে মাটি, বালি, পাথর ইত্যাদি রাস্তার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে দিনের পর দিন। গাড়ির চাকায় সেগুলো পিষ্ট হয়ে ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ধুলার মাধ্যমে বাতাসে নানা রোগের জীবাণু ছড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যাদের এলার্জি রয়েছে তাদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। এছাড়া শিশু ও বৃদ্ধরা সর্দি-কাশিসহ ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত ধুলায় পথচারী এবং যানবাহনের যাত্রীদের অনেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মাসের পর মাস নগরীর কেন্দ্রস্থলে এই ধুলার মহোৎসব হলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। বাড়ছে রোগবালাই।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.