অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

মেডিক্যাল ভর্তি কোর্চিংয়ের নামে বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার কোনো গ্রহণযোগ্য কৌশল নির্ধারণ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই প্রতিবছরই মেডিকেলে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বহন করতে হচ্ছে কোচিংয়ের বাড়তি বোঝা। অনেক অভিভাবককে জমি বিক্রি করে হলেও গুনতে হচ্ছে ছেলে-মেয়ের কোচিংকালীন অর্থ। কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার সামর্থ না থাকায় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটি অনেক গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর কাছে স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। জানা গেছে, প্রতি বছর মেডিক্যাল ভর্তি নিয়ে ৩২ হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্য হয়। আর ছেলে-মেয়ের এসব বাড়তি খরচের বোঝা বহন করে অনেক অভিভাবককেরই হতে হয় নিঃস্ব।

চলতি বছর যারা মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন তাদের কাছ থকে নানা উপায়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোচিং সেন্টারগুলো। একটা মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং সেন্টারে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয় প্রতিবছর। প্রতি বছর কোটি টাকার বাণিজ্য তারা করে আসছে। প্রশ্নফাঁস করা হবে বলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিবছর বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি যেন দেখার কেউই নেই। সবাই যেন ওই কোচিং সেন্টারের কাছে অসহায়। ভর্তি কোচিংয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে প্রায় সারা বছরই তারা চালিয়েছেন কোচিং বাণিজ্য।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হরেক রকম বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন এসব কোচিং ব্যবসায়ীরা। কোনো অভিভাবকই তার সন্তানকে পিছিয়ে রাখতে চান না। যতই কষ্ট হোক প্রয়োজনে জমি বিক্রি করে হলেও কোচিংয়ের টাকা যুগিয়ে সন্তানকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাতে পিছপা হতে চান না তারা। সন্তানের প্রতি অভিভাবকের এই দুর্বলতা চিরন্তন, তাই চটকদার বিজ্ঞাপনে অভিভাবকদের আকৃষ্ট করতে কষ্ট হচ্ছে না কোচিং বাণিজ্যে জড়িতদের। তাই যতই কষ্ট হোক কেউ কেউ ভর্তি হচ্ছেন একাধিক কোচিংয়ে।
কোচিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও নানা রকমের বাণিজ্যের জন্য এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে রাজধানীর সুবিধাভোগী আরও কিছু ব্যবসায়ীরা। হোস্টেল বাণিজ্যও যেন পিছিয়ে নেই। ফার্মগেট এলাকায় কোচিংয়ে ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরবে বিভিন্ন হোস্টেলের দালালরা। তারা বিভিন্ন রংয়ের লিফলেট দিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে। এসব হোস্টেলে থাকতে গেলেও অভিভাবকদের গুনতে হবে অনেক টাকা। হোস্টেলে থাকতে হবে ন্যুনতম ছয় মাস।

মেডিকেল কোচিংয়ে এককালীন জনপ্রিতি ১৪-২০ হাজার টাকা লাগার পাশাপাশি হোস্টেলে প্রতি মাসে দিতে হবে অন্তত ৬-৮ হাজার টাকা। এছাড়া হোস্টেলে ওঠার সময় গুনতে হবে সার্ভিস চার্জ বাবদ আরও অন্তত ৫ হাজার টাকা। এছাড়া নিশ্চিত ভালো রেজাল্ট করার জন্য কোচিংয়ের পাশাপাশি এর পরিচালকের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পড়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে (মাসে অন্তত ৬ হাজার টাকা করে)।
উত্তর চক্রবর্তী নামক এক অভিভাবক দৈনিক চিত্রকে বলেন, বর্তমানে মেডিকেলে চান্স পেতে গেলে টাকা খরচ না করে উপায় নেই। তিনি গত বছর তার এক মেয়েকে কোচিং করানোর পাশাপাশি ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালকের কাছে মাসে ৬ হাজার টাকা দিয়ে প্রাইভেটও পড়িয়েছেন বলে জানান।

এক অভিভাবক দৈনিক চিত্রকে বলেন, কোনো ব্যক্তির পক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু এসব কোচিং সেন্টার যাদের কোটি কোটি টাকা মুনাফা তাদের পক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা একটি সহজ কাজ। ব্যক্তির চেয়ে কোনো কাজ প্রতিষ্ঠান সহজে করতে পারে বলে তিনি যুক্তি দেন। তাছাড়া অনেক টাকা পেলেই কোনো ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি নেয়। আর এ কারণেই সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে রাখা যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে ভর্তি পরীক্ষা ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের মেডিকেলে ভর্তি করানো হলে কোচিং করানোর সুযোগ থাকবে না।

এদিকে উচ্চশিক্ষায় কোচিং বাণিজ্যের প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা নেওয়া হয়, ‘সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা’র। কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.