অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

রোহিঙ্গা সংকটে চীন-রাশিয়া-ভারত-জাপানের ভ‚মিকা চান প্রধানমন্ত্রী

Print


বিশেষ প্রতিবেদক :
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল বলেছে, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি একটি মানবিক এবং মানবাধিকারের সংকট। এই সমস্যা এভাবে ফেলে রাখা যায় না। তাই যে বার্তা আমরা মিয়ানমার, রোহিঙ্গা শরণার্থী আর পুরো বিশ্বকে দিতে চাই, তাহলো এই সংকটের অবসান ঘটাতে এবং সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আর এ সংকট সমাধানে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের জোরালো ভ‚মিকা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ দেশের প্রতিনিধিসহ ৪০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল গত রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। গতবছর আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হওয়ার পর এই প্রথম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রতিনিধি দলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলো। সোমবার তারা রওনা হন মিয়ানমারের নেপিদোর উদ্দেশ্যে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যা-নির্যাতনের মুখে গত আট মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ বর্ণনা করে আসছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে এলেও এই সংকটে জাতিসংঘের এই পর্ষদ কীভাবে সম্পৃক্ত হবে তা নিয়ে মিয়ানমারের দুই মিত্র দেশ রাশিয়া ও চীনের ভিন্নমত ছিল। অন্যদিকে লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সংকটের দ্রæত সমাধানের উদ্যোগ নিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদকে। এই সংকট সময়মতো সামাল দেওয়া না হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করে আসছে বাংলাদেশ।
কুয়েতের প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, চীন বা রাশিয়ার দিক থেকে কোনো বাধা তিনি দেখেননি। তারা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য এবং তারাও আমাদের সাথে আছে। তাদের বক্তব্য আপনারা শুনেছেন। সোমবার তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং এই সংকটের সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অবশ্য তারা যে এ সমস্যার সহজ বা তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছেন না, সে কথাও বলেন মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি। তিনি বলেন, যত দ্রæত সম্ভব এই সমস্যার সমাধানে সব পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল রোববারও বলেছিল, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফেরত যেতে ও নিরাপদ জীবন দিতে হবে। তারা মিয়ানমার থেকে এসেছে, তাই যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে উচ্চপর্যায়ের এ প্রতিনিধিদলে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও চীনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমরা চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের জোরালো ভ‚মিকা প্রত্যাশা করছি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আরও জোরালো চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহŸান জানান প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের চেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কোনো সংঘাত চায় না বরং রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.