অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪০ হিজরী

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সর্বদলীয় কমিটি গঠনের দাবি ১৪ দলের

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বদলীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে এ নিয়ে সংসদে একদিন বিস্তারিত আলোচনার দাবী জানিয়েছেন ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা। তাঁরা বলেন, ইউরোপের ধনী দেশগুলো একজন শরণার্থী নিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সেখানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আর কতদিন এই বোঝা আমরা বহন করব। তাই সমস্যা সমাধানে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন করে ভারত, চীন, মিয়ানমার ও জাতিসংঘে গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব করেন তাঁরা।
ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে বুধবার মাগরিবের নামাজের বিরতীর পর সংসদ অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ ইস্যুতে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত্র করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তাঁর প্রস্তাবটি সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট উত্থাপন করে বলেন, সারা বিশ্বের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করছেন। মিয়ানমারের পর এখন সৌদি আরব থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন। তিনি বলেন, ইউরোপে একজন শরণার্থী নিতে ধনী দেশগুলো ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। এখন বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। কিন্তু আর কতদিন এই বোঝা আমরা বহন করব।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বের অনেকেই আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু সমাধান হয়নি। যেহেতু সংসদ চলছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরে একটি দিন নির্ধারন করুন, যেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমাদের করণীয় কি, সেটি নিয়ে আমাদের আলোচনা করা দরকার। এ পর্যন্ত মাত্র তিনজন রোহিঙ্গা ফিরে গেছে। প্রয়োজনে সংসদীয় কমিটি করে সব দল থেকে প্রতিনিধি নিয়ে ভারত, চীন এবং মিয়ানমারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে না।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ফ্লোর নিয়ে এ প্রস্তাবকে সমর্থন করে বলেন, আমি রোহিঙ্গাদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও কথা বলেছেন। যারা আজকে সংসদে বসে আছেন বিশ্ববাসীর কাছে বলা দরকার রোহিঙ্গাদের বিষয়টি নিয়ে আমরা কিভাবে দেখছি। সেই জন্য আমি মনে করি মোহাম্মদ নাসিম সাহেবের যে প্রস্তাব- একটা দিন ধার্য করুন।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তথা জনপ্রতিনিধিদের রোহিঙ্গা সংক্রান্ত বিষয়ে কী দৃষ্টিভঙ্গি, তা দেশবাসীকে বলা উচিত এবং বিশ্ববাসীকে জানানো উচিত। নতুন সরকার নতুন সংসদ কি মনে করছে সেটা বিশ্ববাসীর জানা উচিত। একই সঙ্গে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের সর্বদলীয় কমিটি করে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দেশে ও জাতিসংঘ সফর করে সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে পেশ করা হোক।

একই ইস্যুতে রাশেদ খান মেনন ফ্লোর নিয়ে বলেন, একাদশ সংসদ কি মনে করে সেটি উপস্থাপন করা প্রয়োজন মনে করি। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছিলাম, সেটি কতটুকু যথাযথ হয়েছিল সেটি খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করি। চুক্তিতে স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেই তারা ফিরে যাবেন, সেখানে স্বেচ্ছায় শব্দটি যখন যুক্ত করা হয়েছে, সেটি বাংলাদেশের পক্ষে গেছে বলে আমি মনে করতে পারি না।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যে বন্ধুরা যারা মনে করেছিলেন এই পরামর্শ দিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন, তারা তাদের রাজনীতি করেছেন। আমাদের রাজনীতি করেননি। এই সমস্যা চলতে পারে না। আমি মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীরও এ ইস্যুতে মোহাম্মদ নাসিমের প্রস্তাব সমর্থন করে এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনার দাবী জানান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.