অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : প্রধানমন্ত্রী

Print

অনলাইন ডেস্ক : অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রæটি শুধরে আমরা সামনে এগিয়ে যাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাবো না। উন্নয়নের যে মহাসড়কে আমরা যাত্রা শুরু করে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি- এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।
শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে দুটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। দেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব, ইনশাল্লাহ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও একযোগে সম্প্রচার করে।
ভাষণের শুরুতেই শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়ে তাকে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, জনগণ তার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন তার মর্যাদা রক্ষা করার জন্য। কতটুকু সফল কিংবা ব্যর্থ হয়েছেন, সে বিচার জনগণই করবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন। ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সেই আকাঙ্খা পূরণ করাই তার (প্রধানমন্ত্রী) একমাত্র ব্রত। ‘বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়- জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা তার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা তার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ এবং স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে পঁচাত্তরের সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা, পরবর্তী ছয় বছর বিদেশের মাটিতে তার নির্বাসিত জীবন কাটানো এবং ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক, ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে তার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের বিবরণও তুলে ধরেন।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.