অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সম্পত্তি আত্মসাতে শালাকে হত্যার চেষ্টা

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট : অবৈধভাবে সাত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাত করতে আল ইমরান হোসেন (মানিক)-কে হত্যা চেষ্টা করছে তারই বড় সৎ বোন এলিজা মোমতাজ (কচি) ও তার স্বামী এস কে এম তাসাদুজ্জামান। এতিম মানিকের পিছনে ভাড়া করা সন্ত্রাসী লাগিয়ে দিয়েছে তারা। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মানিক স্থানীয় দুটি থানায় ৪টি সাধারণ ডায়রি (জিডি) এবং পরবর্তীতে আদালতে উল্লিখিত সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন পেতে ভাটোয়ারা দেওয়ানি মামলা এবং হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। এর পরও পুলিশ আসামীপক্ষকে গ্রেফতার তো দূরের কথা, তাদের বাড়িতে পর্যন্ত একবারও যায়নি। উল্টো বাদির বাড়িতে বারবার গিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছে। মানিকের সৎ বোন ও বোনাইয়ের কাছে আত্মসাৎকৃত বিপুল অর্থ থাকায় তা দিয়ে সব কিছুই তাদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও ভাড়া করা খুনীদেও হাত থেকে বাঁচতে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে মানিক। জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই নিরীহ ব্যক্তি।
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা মহানগরের ১/১, হাজী ইসমাইল লিংক রোড, সিদ্দিকীয়া মহল, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড, সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায়। জীবন বাঁচাতে খুলনা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন মানিক। বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের বটতলায় ‘বাঁচতে চাই’ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। অনেকে মনে করছিল শারীরিক অসুস্থতার কারণে হয়তো সে সাহায্য চাইছে। কথা বলে জানা গেল, মানিক বাঁচতে চায় কিলার আর পুলিশের এক এসআইয়ের হাত থেকে। কথা বলার এক পর্যায়ে আবেগ-আপ্লুত মানিকের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি বলেন, জীবনে কখনো ভাবিনি জীবন বাঁচাতে এভাবে রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হবে। গত এক বছর আগে মা মারা যাওয়ার আগেও সবাই তাকে কোটিপতির সন্তান হিসেবে জানতো।
মানিকেরা তিন ভাই-বোন। দুই ভাই-বোন জমজ এবং বড় বোনের মা এক হলেও বাবা আলাদা। তাদের খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্র ১২/১, খান-এ-সবুর রোড, ঘড়িমঞ্জির গলি, ডাকবাংলা, খুলনায় সাড়ে তিন কাঠার একটি বাড়ি, ১/১, হাজী ইসমাইল লিংক রোড, সিদ্দিকীয়া মহল, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ কাঠার একটি বাড়ি এবং এন/ডি ৫১, খালিশপুর হাউজিং স্টেটে একটি আড়াই কাঠার বাড়ি, হেলাতলার সোনাপট্টিতে সাবেক ক্যালকাটা মুসলিম জুয়েলার্স, হেলাতলার জিগজাগ রোডে একটি পালিশ ঘর ও একটি এনিমি প্রোপার্টি রয়েছে। এই পুরো সম্পত্তিই যে মায়ের নামে ছিল তা খুলনাবাসীর কারো অজানা নেই।
মানিকের মাতা মিসেস শিরিনা বেগম ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দীর্ঘ দুই বছর মায়ের অসুস্থতার সুযোগে তার নামের বাড়ির কাগজপত্র দেখাশুনা করার সুযোগ পায় বড় কন্যা এলিজা মমতাজ (কচি) ও তার স্বামী এস কে তাছাদুজ্জামান। এই সুযোগে এলিজা মমতাজ (কচি) তার স্বামী এস, কে, তাছাদ্দুজ্জামান মিলে সকল সম্পত্তির কাগজ চুরি ও জালিয়াতি করে। মায়ের মৃত্যুর পর সব সম্পত্তি তাদের বলে দাবি করে। বাকি দুই ভাই-বোনকে কিছু দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এমনকি মানিককে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এমন পরিস্থিতিতে মানিক ২০১৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় জিডি করে। এর পর থেকে মানিক ও হিরাকে মোবাইলে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। মায়ের নামে নানা জায়গায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে স্বামী-স্ত্রী দুইজন মিলে। বাধ্য হয়ে বিষয়টি সোনাডাঙ্গা থানাকে ২য় জিডির মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর অবগত করা হয়। এক পর্যায়ে কচি ও তার স্বামী মিলে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুর কাছে বিচার দেয়। টাকার বিনিময়ে বিচারের নামে হিরা-মানিকের ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। যে দুটি বাড়ি কচি দখল করেছে সেগুলো এবং মানিক যে বাড়িতে থাকতো সেখানেও কচি ও তার স্বামীকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের হত্যার পথ সুগম করে দেয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর। শুধু তাই নয়, বিচারের মধ্যে এলিজা মমতাজ ও তার স্বামী এস,কে,এম তাছাদ্দুরজ্জামান মৃত মাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাদের মাকে বাজারের মহিলা অপপ্রচার চালায়।
মানিক জানান, বিচারের নামে ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুকৌশলে ১/১ হাজী ইসমাইল লিংক রোড, সিদ্দিকিয়া মহল্ল¬ার চার রুম বিশিষ্ট বাড়ির এক রুম আমাকে এবং একটি রুম আমার সৎ বোনকে দেয় এবং বাকি দুই রুমের চাবি ওয়ার্ড কাউন্সিলর তার কাছে রেখে দেয়। বিষয়টি জিডির মাধ্যমে সোনাডাঙ্গা থানাকে অবগত করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাদের নামে হেলাতলা, সোনাপট্টিতেও অভিযোগ করা হয়। তাদের অংশের টাকা স্বামী-স্ত্রী দুইজন মিলে আমাদের দুই ভাই বোনকে না দিয়ে একাই ভোগ-দখল করে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। কারণ হেলাতলায় যে শো-রুম ও পালিশ ঘর আছে তার মালিক মিসেস শীরিনা বেগমের। বাধ্য হয়ে মানিক ও হিরা ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ আদালতে দেওয়ানী বাটোয়ারা মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৩৫/১৫। মায়ের নামে ১২/১ খান-এ-সবুর রোড, ঘরিমঞ্জিল গলি বাড়িটিও এই তাছাদ ও কচি দুই জন মিলে কাগজপত্র জালিয়াতি করে। ১২/১ এর পরিবর্তে ১০৫ নতুন হোল্ডিং পরিবর্তন করে যেখানে শুধু এই এলিজা মমতাজ নাম রয়েছে। যেখানে এই এলিজা মমতাজের পিতার নাম, মাতার নাম নাই, স্বামীর নাম নাই, নানার নাম নেই।
মানিক বলেন, ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে জামশেদ সাহেবের নামে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে পৌরকর বিল দেন দেখানো আছে। ২০০৯-১০ সালে এসে এই এলিজা মমতাজের নামকরণ করা হয়। মাঝখানে ১৫-২০ বছর এর কোন ডকুমেন্ট বা ভলিয়াম বই শিরিনা বেগমের নামে দেয়া হয়েছিল সেটা ডকুমেন্ট এই এস,কে,এম তাছাদ্দুজ্জামান চাকরি করার সুবাদে নষ্ট করে ফেলে। বাধ্য হয়ে আল-ইমরান হোসেন (মানিক) ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর দরখাস্ত মারফত জানান, অন্য দুই ওয়ারেশদেরকে না জানিয়ে অবৈধ হোল্ডিং পরিবর্তন করে জবর দখল করে মায়ের টাকায় বাড়ি বানিয়ে এই সৎ বোন এলিজা মমতাজ কোচি ও তার স্বামী তাছাদ জোর করে ভোগদখল করছে। অথচ সে বলছে এটা তার বাপের বাড়ি। এই জামশেদ আলী ১৯৭৫ সালে ৬ই আগস্ট মারা যান। খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে দরখাস্তের মাধ্যমে আমাকে জানানো হয় যে, ১২/১ নামের হোল্ডিংটি কোনদিনই খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ছিল না। দরখাস্তের তারিখ হচ্ছে ২৭/০১/১৫ ইং এর পরে আমার বড় সৎ বোনের আইডি কার্ড দেই যাতে ১২/১ খান-এ-সবুর রোড ঠিকানা রয়েছে। বর্তমানে বাড়ির সাইনবোর্ডে নিজের নামে নতুন ১০৫ এবং পুরাতন ১২/১ হোল্ডিং লক্ষ্যনীয়। দেওয়ানী মামলায় বিবাদী সৎ বোন এলিজা মমতাজ (কচি) চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর একটা জবাব আদালতে দাখিল করে। তার সেই জবাব আদালত খারিজ করে দেয়। যাহার বাদী হইতেছে ১। আল-ইমরান হোসেন (মানিক) ২। নুর ইয়াছমিন (হীরা)। আদালতের নামঞ্জুর কপি সাথে দেওয়া হয়। যার তারিখ ০১-০৯-১৫ ইং সৎ বোন এলিজা মমতাজ (কচির) জবাব আদালতে খারিজ হওয়ার পর থেকে সে ও তার স্বামী তাছাদ্দুজ্জামানকে দিয়ে মানিক ও হিরাকে মেওে ফেলা, নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়াসহ নানা প্রকার হুমকি সহ খুন করার কথা বলে আসছে। মানিক থানায় জিডির কোন প্রকার উপকারিতা না পেয়ে আদালতে ১০৭/১৭ ফৌঃ কাঃ ৭-ধারা মামলা দায়ের করেন। মানিক জানান, সৎ বোন এলিজা ও তার স্বামী তাছাদ এর নামে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ৭-ধারা মামলা করার পর মেয়র মহোদয়কে দরখাস্ত বরাবর এস,কে,এম তাছাদ্দুুজ্জামান (সহকারী কনজারভেন্সী অফিসার) এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন জানাই। একই সঙ্গে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে আদালতের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। খুলনা শহরে মৃত শিরিনা বেগমের নামে তিনটা বাড়ি একটা শো-রুম, একটা পালিশ ঘর যা আছে আদালতকে অবগত করে বাদী বিবাদী সাইনবোর্র্ড দেই। আইনী লড়াইয়ে পরাজয় জেনেই তারা এখন ভিন্নপথ অবলম্বন করছে। সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশের এসআই বুলবুল আর অস্ত্রধারী কিলার মানিককে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে সোনাডাঙ্গা থানার এসআই বুলবুল মীমাংসা না করলে মানিককে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.