অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে মহররম, ১৪৪১ হিজরী

সিরিয়া থেকে শতাধিক আইএস বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
বাংলাদেশী ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশী শতাধিক নাগরিক আইএসে যোগদান করে সিরিয়ায় অবস্থান করছেন। সিরিয়ায় আইএসের ঘাটি ছিন্নভিন্ন হওয়ায় তারা এখন বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি আঁচ করতে সতর্কাবস্থায় আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিন।

এদিকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টারসার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী। আইএসআইর পরামর্শ অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী যেকোন পরিস্থিতিতে বিএনপির সঙ্গে জোট টিকিয়ে রেখে ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির নামে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়টি আশ্বস্ত করেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের জঙ্গী সংগঠন জইশ ই মোহাম্মদ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গী হামলা করে ভারতীয় সেনা ও আধা সেনা বাহিনীর সদস্যদের হতাহতের মাধ্যমে সেখানে যে অশান্ত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ঘটনার পর বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে আইএসআই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ভরাডুবির পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বিজয় ঠেকাতে না পেরে নানা ইস্যুতে দেশে অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সংস্থাটি ছক কষছে বলে ঢাকার গোয়েন্দা দাবি।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের আধা সেনা বাহিনীসহ বার বার জঙ্গী হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় মদদ দিয়ে চলেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে ভারত। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সেদেশের জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের জঙ্গীদের অর্থ, অস্ত্র, দিয়ে জঙ্গী হামলা চালানোর ঘটনায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে। অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য নাশকতাসহ নানা ধরনের হামলার ছক কষছে বলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। জামায়াত মিত্র বিএনপিও অবশ্য এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। রাজনীতিতে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতার মধ্যে আইএসআইয়ের সঙ্গে জামায়াতের পুরনো দোস্তি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জোরালো হয়ে সামনে এসেছে। বাংলাদেশ আইএসআইর সঙ্গে বরাবরই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্ব। তাদের মিত্র বিএনপিও অবশ্য এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই খুব একটা। ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন সময়ের নথিপত্র ঘেঁটে দেখে যেসব তথ্য পেয়েছে তাতে আইএসআই এদেশে জামায়াতকেই তাদের প্রধান মিত্র মনে করে। জামায়াত নেতারাও আইএসআইয়ের পরামর্শ মতো তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতার পক্ষের সরকার হিসাবে জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ আইএসআই খুবই নাখোশ।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের মাধ্যমে আইএসআই অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর নগ্ন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। বিষয়গুলো আমাদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বিগত নির্বাচনের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে এক আইএসআই কর্মকর্তার কথোপকথনের অডিও ফাঁসের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করেন ঢাকার গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানের সূত্রে হাতে পাওয়া একাধিক নথি থেকে জানা যায়, আইএসআই এজেন্টরা জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল পদবির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের জেদ্দায়। জাতীয় নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস আগে ওই বৈঠকে জেদ্দা জামায়াতের আমির শহীদ-উল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভবিষ্যত কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল পদবির এক কর্মকর্তা আইএসআইর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে আশ্বাস দেন। এছাড়া দলের আমিরের সঙ্গে আলাপ করে দলের আর্থিক চাহিদার বিষয়ে আবারও বৈঠকে বসার কথা জানান।

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথি থেকে জানা যায়, ওই বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনালের পদবির কর্মকর্তা বলেছেন তাতে ’১৩ সালে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত জামায়াতের কাদের মোল্লা অতীতে আইএসআইর আস্থাভাজন ছিলেন। অতীতে তার সঙ্গেই গোয়েন্দা সংস্থাটি যোগাযোগ রক্ষা করত। ওই বৈঠকে ডাঃ শফিকুর রহমান বাংলাদেশে তাদের লোকজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করতে আইএসআই এজেন্টদের অনুরোধ করেন। তিনি আইএসআই এজেন্টকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি যোগাযোগ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনও পরিস্থিতিতে বিএনপির সঙ্গে জোট টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে তিনি আইএসআইকে আশ্বস্ত করেন। এছাড়া নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির ব্যাপারে পাকিস্তানী সংস্থাটির সহযোগিতা যথারীতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, জামায়াত নেতা ওই বৈঠকে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর, জঙ্গী দমনের নামে জুলুম অত্যাচারের কড়ায়-গন্ডায় প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করা হয়। ইসলামিক সহযোগী সংস্থা ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তানের সমর্থনের জন্য আইএসআইয়ের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়া চীনসহ পাকিস্তানের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো যাতে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ দেয়, সে ব্যাপারে পাকিস্তানকে ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তাব করা হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.