অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

সেই মসজিদে জুমার নামাজ হয়নি

Print

বগুড়া সংবাদদাতা: শিবগঞ্জের হরিপুরে শিয়া সম্প্রদায়ের আল-মোস্তফা জামে মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলিতে মোয়াজ্জিন নিহত এবং অপর তিনজন মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শুক্রবার ওই মসজিদে জুমার নামাজ হয়নি।

তদন্ত এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা মসজিদটি ঘিরে রাখায় সেখানে জুম্মার নামাজ আদায় হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। তবে মসজিদের উত্তর পাশে হরিপুর গ্রামে শিয়া সম্প্রদারে ইমামবারা পাঠাগারে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করেছেন।

স্থানীয় মুসল্লি রজমান আলী, আলী আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় ওই মসজিদে মাত্র দুইজন নামাজ আদায় করেছেন।

ওই মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়কারী আলী আহম্মেদ জানান, প্রতিদিন মসজিদে ৩০-৩৫ জন নামাজ আদায় করলেও আতঙ্কে লোকজন মসজিদে আসছেন না। বৃহস্পতিবার মসজিদে হামলার সময়ও তিনি মসজিদে অবস্থান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি ঘটনার বর্ণনা করে বলেন, ‘তিন যুবক মসজিদ প্রবেশ করে প্রথমে গ্রিলের দরজাটি বন্ধ করে দেয় এরপর মসজিদের প্রধান দরজা থেকে গুলি করে। মসজিদে প্রবেশের প্রধান দরজা বন্ধ থাকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা মসজিদের দক্ষিণ পাশে অজুখানার প্রাচীর টপকিয়ে মাঠের মধ্যে দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।’

স্থানীয় আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাবিনা আকতার জানান, ওই তিন যুবক আসরের নামাজের সময় থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে মসজিদের আশেপাশে চলাফেরা করছিল। সন্ধ্যার আগেও তাদের মসজিদের পিছনে মাঠে গল্প করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর মসজিদে গুলি করে দৌড়ে পালানোর সময় নারীরা ধর ধর বলে চিৎকার করলেও কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় তাদের ধরা যায়নি।

সাবিনা আকতার ছাড়াও অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা নারীরা জানান, ওই তিন যুবক মসজিদের পিছনের মাঠ দিয়ে দৌড়ে জয়পুরহাট সড়ক দিয়ে পালিয়ে গেছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে শুধু হরিপুরে নয়, জেলার ৭টি স্থানে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন শিয়া সম্প্রদায় পরিচালিত আল মাহাদি শিক্ষাকেন্দ্রের পরিচালক মাওলানা মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি জানান, বগুড়া শহরের সবুজবাগে ২টি মহাস্থান গড় এলাকায় ১টি শিবগঞ্জের কিচক হরিপুর এবং বেলাই গ্রামে ৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের। এসব প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি স্থানীয় প্রশাসন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, হরিপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.