অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে মহররম, ১৪৪১ হিজরী

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকান্ড দুর্ঘটনা না নাশকতা

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা-এটা নিয়ে সর্ব মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। হাসপাতালের স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। স্টোর রুমে থাকা কেনাকাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন এ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তদন্ত নেমেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কাগজপত্রও চাওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে স্টোর রুমে আগুন সন্দেহের মাত্র বাড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল। তিন কোটি টাকার যন্ত্র ১৮ কোটি টাকায় ক্রয়েরও রেকর্ড আছে। যখন যে সরকার আসুক এই সিন্ডিকেট কেউ ভাঙতে পারে পারে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফায়ার সার্ভিসের মহাপিরচালক ব্রিগেডিয়ার আলী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব না। আগুনে হাসপাতালটির ১০ থেকে ১২টি ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান আলী আহমেদ। তিনি বলেন, ওষুধ, রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ থাকায় সহজেই আগুন এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আগুনে কাঁচ ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এখন সবকিছু নিরাপদ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কমিটি প্রতিবেদন দিলে আগুনের কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এছাড়া আগুন লাগার ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমারকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় ও নিচ তলায়। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরমধ্যেই খালি করা হয় হাসপাতাল। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগিদের স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিব। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সকলকে আতঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানান।

রোগীদের চরম দুর্ভোগ:
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের এই হাসপাতালে আগুন লাগার পর রোগীদের অনেকে আতঙ্কে বেরিয়ে আসতে থাকেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর সব রোগীকে বের করে আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ; তাদের রাখা হয় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও সামনের মাঠে। আইসিইউতে থাকা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের হাসপাতালগুলোতে। অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে সংসদ অধিবেশন থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। আগুনের সূত্রপাত ঘটার পরপরই হাসপাতালটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। সোয়া ৭টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আগুনে কারও হতাহতের খবর আমরা পাইনি। যত রোগী ছিল, তাদের সবাইকে বের করে আনা হয়েছে।” সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালটির মূল ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে সবার মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। তখনই রোগীদের অনেকে ভয়ে বেরিয়ে আসেন।

এক রোগীর স্বজনরা দৈনিক চিত্রকে বলেন, আগুনের কথা শোনার পর তিনি ধোঁয়া উড়তে দেখেন। এই পরিস্থিতি দেখে তিনি তার রোগীকে বাসায় নিয়ে গেছেন। ফেইসবুকে তোলা বিভিন্নজনের আগুনের ভিডিওতে সরকারি এই হাসপাতাল ভবনের নির্মাণাধীন অংশ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছিল।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক উত্তম বড়ুয়া দৈনিক চিত্রকে বলেন, হাসপাতালে ১১শ থেকে ১২শ রোগী ছিল, ১০ জন রোগী ছিলেন আইসিইউতে। এসব রোগীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাতেই চালু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল:
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রাতেই চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের ১২নং ওয়ার্ডসহ ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ড বাদ দিয়ে বাকিগুলো রাতেই চালু হবে। হাসপাতাল চালু রাখার স্বার্থে সকল চিকিৎসক, নার্সদের চলে আসতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী থেকে স্থানান্তর হওয়া রোগীরা আসতে চাইলে বাধার শিকার হবেন না, তারা আসতে পারবেন। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড চালু আছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুল হক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, হাসপাতাল পরিচালক উত্তম কুমার, কলেজ প্রিন্সিপাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ চিকিৎসক ও নার্সরা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.