অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

১৪ দল ঐক্যবদ্ধ, কোনো বিভ্রান্তি নেই

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
কেন্দ্রীয় ১৪ দল নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ও সংশয় নেই এবং যে প্রাসঙ্গিকতায় ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেই প্রাসঙ্গিককতা এখনও বিদ্যমান। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন একথা বলেন। জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।
আলোচনায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ’৭০ এর নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ’৭০- এ মানুষ ‘নৌকা’ মার্কায় ভোট দিয়েছিল দেশ স্বধীনের জন্য। বঙ্গবন্ধু তখন সারাদেশ ঘুরে নৌকাকে বিজয়ী করেছিলেন। ’৭০ এ গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, আর এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এবার মানুষ নৌকাকে ভোট দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এবার যে নির্বাচন হয়েছে, জনগণ এমন একটি নির্বাচনেরই অপেক্ষায় ছিল, যেই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি সংসদ গঠিত হবে-যেখানে স্বাধীনতাবিরোধী ও কোনো খুনি থাকবে না। এবারের সংসদে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনি নেই।
শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মনসুর আলীর পুত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। আলোচন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর। তার অনুপস্থিতিতে তোফায়েল আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি সংসদে যাবে না। এটা ভুল। তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, এটাও ভুল। কারণ নিজে ভোটের মাঠে থেকে দেখেছি মা-বোন সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট জোট করেছে জামায়াতকে নিয়ে। দেশের তরুণ প্রজন্ম স্বধীনতাবিরোধীদের বিপক্ষে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যে ইশহেতার দিয়েছে তা ছিল অবাস্তব। আর আওয়ামী লীগের ইশতেহার ছিল বাস্তবধধর্মী। আমরা বলেছি- আমার গ্রাম আমার শহর। গ্রামগুলো ইতোমধ্যেই শহরে উন্নীত হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, আগে কী রাজনীতি ছিল চিন্তাই করা যায় না। বঙ্গবন্ধু সবসময় জাতীয় চার নেতার সঙ্গে পরামর্শ করতেন। শহীদ মনসুর আলী বঙ্গবন্ধুর কতটা বিশ্বস্ত ছিলেন তা আমি নিজে কাছ থেকে দেখেছি। বঙ্গবন্ধুর তার ছেড়ে দেওয়া মন্ত্রণালয়গুলো মনসুর আলীকেই দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তারই দিয়ে যাওয়া নির্দেশনা মোতাবেক চার নেতা মুক্তিমুদ্ধ পরিচালনা করেন।

১৪ দল আছে থাকবে, এনিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই: মোহাম্মদ নাসিম
সভাপতির বক্তব্যে ১৪ দল সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমাদের সামনে এখনও অনেক কাজ বাকি। ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই জোট গড়ে উঠেছে। ১৪ দল নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ও সংশয় নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল আছে এবং থাকবে। এখন ১৪ দলের কাজ তিনটি। আগামী দিনগুলোতে শেখ হাসিনার সরকারকে চোখের মণির মতো রক্ষা করা, সরকার কোনো ভুলত্রæটি করলে সেটি তুলে ধরা এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যদি কোনো চক্রান্ত হয় তাহলে মাঠে নেমে তা প্রতিহত করা।

নাসিম বলেন, খুনি মোশতাকের মতো বেইমানের সন্তান নই আমি। আমি একজন আদর্শবান নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর সন্তান, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থেকে মনসুর আলী তার ভরাট কণ্ঠ দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করেছিলেন। ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে মৃত্যুকে তিনি আলিঙ্গণ করেছিলেন, ক্ষমতার লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ অনেক লোভ-লালসা আছে। কিন্তু চার নেতার জীবন ছিল আদর্শিক, নেতৃত্বের প্রতি তাদের আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত। মনসুর আলীর সন্তান হিসেবে আমি ও আমার পরিবারও কখনও শেখ হাসিনার সঙ্গে বেইমানি করতে পারবো না। কারণ এই দুটি পরিবারের সম্পর্ক রক্তের।

১৪ দলের প্রাসঙ্গিকতা এখনও বিদ্যমান: মেনন

আলোচনা সভায় ১৪ দল নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের নিরঙ্কুশ বিজয় এসেছে, এতে সন্দেহ নেই। তবে এই বিজয় সহজে এসেছে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। এই ধরনের বিজয় অনেক সময় আত্মম্ভরী করে তোলে, মনের মধ্যে এককেন্দ্রিক চিন্তা এসে যায়। আমাদের মনে রাখতে হবে, জনগণ সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এই ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমরা যেন আত্মম্ভরী না হই। ১৪ দল আমরা এই সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে মাঠে লড়াই করেছি। যেসব ইস্যুতে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা এখনও বিদ্যমান। এটা মনে রেখেই আমাদেরকে জনগণের সঙ্গে চলতে হবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, যুক্তান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, শহীদ মনসুর আলীর নাতি ও মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র তানভির শাকিল জয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা প্রমুখ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.