অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

২৮ বছর পর ডাকসু ভোট

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবগুলো বাঁকে ছাত্র সমাজের অগ্রণী ভূমিকার কেন্দ্রে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে দীর্ঘ ২৮ বছর পর। সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। এরপর কয়েক দফায় নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এরপর নির্বাচন চেয়ে আদালতে রিট আবেদন হলে তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে এই নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ আসে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সৃষ্টি হলেও ২৮ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন ছিল কেবলই স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসেই পার হয়ে গেছে ২৮ বছর। তবে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির সূতিকাগার ডাকসু আজ কোন স্বপ্ন নয়। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার হতে যাচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। ১৯৯০-৯১ সেশনে সর্বশেষ নির্বাচনের ২৮ বছর পর ডাকসুর নেতৃত্বে কারা আসছেন তার উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। নির্বাচনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয়। ৪২ হাজার ৯২৩ ভোটারের জন্য ১৮ আবাসিক হলে প্রস্তুত ৫০৮ বুথ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শেষ মুহূর্তে বামপন্থী, কোটা সংস্কার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন দাবি তুললেও নির্বাচনের মাঠে আছেন সবাই।

নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দলমত-নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ক্যাম্পাসে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ যাতে কোনক্রমেই বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ করে প্রক্টরিয়াল টিম সতর্ক থাকবে। নির্বাচনের দিন এবং এর আগে ও পরে প্রক্টরিয়াল টিমকে বিশেষ সহায়তা প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

কিভাবে এলো ডাকসু ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদগুলোর ইতিহাস গৌরবের। জানা যায়, উপমহাদেশে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ছিল সবচেয়ে সুসংগঠিত। সেটি গঠনের পেছনে যাঁর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি তিনি সেখানকার ইতিহাসের শিক্ষক আহমদ ফজলুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি ইতিহাসের রিডার হিসেবে যোগ দেন এবং মুসলিম হলের প্রভোস্ট হন। তাঁকে উপাচার্য ফিলিপ জে হার্টগ ভেবে দেখতে অনুরোধ করেন আলীগড়ের মতো ছাত্র সংসদ ঢাকায়ও গঠন করা যায় কি না। দেড় মাসের মধ্যে তিনি তাঁর হলের ছাত্র সংসদ গঠনের উদ্যোগ নেন। নাম দেন ‘মুসলিম হল ইউনিয়ন সোসাইটি’। এক বছর পর ‘সোসাইটি’ শব্দটি বাদ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র সংসদটি গঠিত হয়েছিল গণতান্ত্রিক উপায়ে। প্যানেল ছিল তিনটি। সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনজন, আবদুল আজিজ, রহিমউদ্দিন শাহ ও সৈয়দ আলী। সাধারণ সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান, নেফাজউদ্দিন খান ও আশরাফ উদ্দিন আহমদ। নির্বাচনে জয়ী হন ভিপি পদে আবদুল আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

কয়েক মাস পর গঠিত হয় জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের উদ্যোগে ঢাকা হল ইউনিয়ন এবং রমেশচন্দ্র মজুমদার ও নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের উদ্যোগে জগন্নাথ হল ইউনিয়ন। ১৯২২-২৩ সালে মুসলিম হল ইউনিয়নের ভিপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর। সিরাজুল ইসলাম ছিলেন জেলা ও সেশন জজ, অবসর নেন অতিরিক্ত আইন সচিব হিসেবে। তাঁর ছোট ছেলে পদার্থবিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম।

ডাকসুর যাত্রা, কারা এলেন নেতৃত্বে ॥ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবজনক ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রছাত্রীরা। আর ছাত্র আন্দোলনে সবসময় সোচ্চার ছিল ডাকসু। নেতৃত্বের বিকাশও ঘটেছে ডাকসু মাধ্যমেই। ডাকসুর নেতৃত্ব দেয়া অধিকাংশ ছাত্র নেতাই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। অথচ দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হচ্ছে না সেই ডাকসু নির্বাচন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সৃষ্টি হয়। ডাকসুর প্রথম ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। এক বছর মেয়াদকালের জন্য নির্বাচিত কমিটিগুলোর সিংহভাগই নির্ধারিত সময়সীমার বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে।

১৯২৮-২৯ সেশনে ভিপি ও জিএস হিসেবে নির্বাচিত হন এ এম আজহারুল ইসলাম ও এস চক্রবর্তী, ১৯২৯-৩২ সময়কালে রমণী কান্ত ভট্টাচার্য ও কাজী রহমত আলী ও আতাউর রহমান, ১৯৪৭-৪৮ সেশনে অরবিন্দ বোস ও গোলাম আযম, ১৯৫৩-৫৪ সালে এস এ বারী এটি ও জুলমত আলী খান, ফরিদ আহমেদ।

এরপর ভিপি ও জিএস নির্বাচিতদের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছেন নিরোদ বিহারী নাগ ও আব্দুর রব চৌধুরী, একরামুল হক ও শাহ আলী হোসেন, বদরুল আলম ও মোঃ ফজলী হোসেন, আবুল হোসেন ও এটিএম মেহেদী, আমিনুল ইসলাম তুলা ও আশরাফ উদ্দিন মকবুল, বেগম জাহানারা আখতার ও অমূল্য কুমার, এস এম রফিকুল হক ও এনায়েতুর রহমান, শ্যামা প্রসাদ ঘোষ ও কে এম ওবায়েদুর রহমান, রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরী, বোরহানউদ্দিন ও আসাফুদ্দৌলা, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ও শফি আহমেদ, মাহফুজা খানম ও মোরশেদ আলী, তোফায়েল আহমেদ ও নাজিম কামরান চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২-৭৯ সময়কালে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে দায়িত্ব পালন করেন ছাত্র ইউনিয়নের মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মাহবুব জামান। ১৯৭৯, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল। প্রথম দুটি নির্বাচনে যথাক্রমে জাসদ-ছাত্রলীগের এবং বাসদ-ছাত্রলীগের প্রার্থী হয়ে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জিতেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও আখতারুজ্জামান।

একনাগারে দুই মেয়াদে ডাকসুর ভিপি-জিএস পদে নির্বাচিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আখতারুজ্জামান। যে দুটি মেয়াদে তারা নির্বাচিত হন সে দুটি মেয়াদ ছিল (১) ১৯৭৯-৮০, ১৯৮০-৮১ এবং ১৯৮১-৮২। ১৯৮২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৮৯ পর্যন্ত ভিপি ও জিএস পদে যথাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন আখতারুজ্জামান ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। ১৯৮৯-৯০ সেশনে দায়িত্ব পালন করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মুশতাক আহমেদ। ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৯০-৯১ সেশনের জন্য ভিপি ও জিএস পদে যথাক্রমে নির্বাচিত হন ছাত্রদলের আমানউল্লাহ আমান ও খায়রুল কবির খোকন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও আর নির্বাচন হয়নি। তবে আদালতে বিভিন্ন পক্ষের জোরালো অবস্থানসহ নানা কারণে এবার নির্বাচন নিয়ে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।

কী আছে ডাকসুর গঠনতন্ত্রে ॥ গঠনতন্ত্রের এক নম্বর অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ‘সংসদকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ নামে ডাকা হবে। দুই নম্বর অধ্যায়ে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের চারটি উপধারায় বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন হলের ছাত্রদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা উৎসাহিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বহির্ভূত সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া, প্রকৃত নাগরিক এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার উপাদানকল্প কলেজসমূহ ও দেশী-বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা উৎসাহিত করা।

ডাকসুর কাজ কি? তৃতীয় অধ্যায়ে বলা আছে, ‘সংসদ কমনরুম রক্ষণাবেক্ষণ করবে, বছরে অন্তত একবার জার্নাল ও অন্যান্য বুলেটিন প্রকাশ করবে, মাঝে মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে, বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের অংশ হিসেবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিধি প্রেরণ অথবা প্রতিনিধিদের ডাকবে, সমাজসেবা কর্মকান্ডের মাধ্যমে সদস্যদের মাঝে সমাজসেবার চেতনা বৃদ্ধি করবে।

গঠনতন্ত্রে বলা আছে, উপাচার্য সংসদের সর্বোচ্চ স্বার্থে যে কোন সময় যে কোন কার্যনির্বাহীকে অথবা সদস্যকে অপসারণ করতে পারবেন। এছাড়া তিনি চাইলে নির্বাহী সংসদকেই বাতিল করতে পারবেন এবং নতুন নির্বাচন ঘোষণা করতে পারবেন অথবা সংসদ গতিশীল রাখার জন্য তিনি যা উপযুক্ত বলে মনে করেন তাই করতে পারবেন। এছাড়া উপাচার্য সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে যতকাল পর্যন্ত উপযুক্ত মনে করবেন সংসদকে স্থগিত করার কর্তৃত্ব রাখবেন।

পদাধিকারবলে উপাচার্য সংসদের প্রেসিডেন্ট হবেন। ছাত্রসংসদের উদ্যোগে যতগুলো সভা হবে (নির্বাহী কমিটির সভসহ অন্যান্য) তিনি সেসব সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এছাড়া তিনি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে সংসদ চলছে কি না সেটা দেখবেন, জরুরী অবস্থায়, অচল অবস্থায় অথবা গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনে উপাচার্য সংসদের যথাযথ ভূমিকা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এছাড়া উপাচার্য এসব নিয়মের ব্যাখা দিতে পারবেন এবং তার ব্যাখাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট বা ডাকসুর ভিপি হবেন সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট এবং কোষাধক্ষ্যের অনুপস্থিতিতে তিনি সকল সভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন। আর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক বা জিএস সংসদের সকল সম্পত্তির ইনচার্জ থাকবেন। সংসদের পক্ষে তিনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। নির্বাহী ও সংসদের সভা ডাকবেন এছাড়া নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে সকল কর্মকান্ড সংগঠিত করবেন।

১৮ হলে প্রস্তুত ৫০৮ বুথ, প্রতি ভোটার দেবেন ৩৮ ভোট ॥ এবারের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে ২১ ও জিএস পদে ১৪ জনসহ বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২২৯। এজিএস পদে ১৩, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১, ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক পদে ১০, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪, ও সদস্য পদে ৮৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত চলবে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। ১৮ হলে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫০৮ বুথ। ৪২ হাজার ৯২৩ ভোটারের জন্য এসব বুথ তৈরি করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে বুথ ৩৫, শহীদুল্লাহ হলে ২০, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫, অমর একুশে হলে ২০, জগন্নাথ হলে ২৫, কবি জসীমউদ্দীন হলে ২০, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩২, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৩০, রোকেয়া হলে ৫০, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪৫, শামসুন্নাহার হলে ৩৫, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ২০, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ১৯টি, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ২১, স্যার এ এফ রহমান হলে ১৬, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ২৪, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ২০ এবং বিজয় একাত্তর হলে ৪০ বুথ থাকবে।

কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫ ও হল সংসদের তেরোটিসহ মোট ৩৮ পদের জন্য ভোট দেবে শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫ পদের বিপরীতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ২২৯। আর প্রতিটি হল সংসদে ১৩ পদের জন্য ১৮ হলে ৫০৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কোন প্যানেলে কারা লড়ছেন ॥ ডাকসু নির্বাচনে প্রায় দশটি প্যানেল আত্মপ্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ, ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলোর জোট, কোটা আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-বিসিএল, ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মুক্তিজোট, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন।

ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ থেকে ভিপি প্রার্থী হয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, জিএস পদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, এজিএস পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক সাদ বিন কাদের, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, কমনরুম ও ক্যাফেটরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্নি, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামস্-ই-নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহামদ তানভীর, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক রাকিব হাওলাদার, সমাজসেবা সম্পাদক আজিজুল হক সরকার। ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে রয়েছেন চিবল সাংমা, নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত, রাইসা নাসের, সাবরিনা ইতি, ইশাত কাসফিয়া ইরা, নিপু ইসলাম তন্বী, হাইদার মোহাম্মদ জিতু, তিলোত্তমা শিকদার, জুলফিকার আলম রাসেল এবং মাহমুদুল হাসান।

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ছাত্রলীগের পরেই আলোচনায় আছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার প্যানেলটি। এই প্যানেলে ভিপি পদে প্রার্থী হয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, জিএস পদে রাশেদ খান ও এজিএস পদে মোঃ ফারুক হোসেন। বাকি পদগুলোর মধ্যে রয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে নাজমুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মোঃ সোহরাব হোসেন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে শেখ জামাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে হাবিবুল্লাহ বেলালী, সাহিত্য সম্পাদক পদে আকরাম হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ নাহিদ ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মামুনুর রশীদ।

ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে রাজিবুল ইসলাম ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে আখতার হোসেন। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনে সদস্য হিসেবে লড়বেন উম্মে কুলসুম বন্যা, রাইয়ান আবদুল্লাহ, সাব আল মাসানী, ইমরান হোসেন ও শাহরিয়ার আলম সৌম্য।

বয়সের বাধ্যবাধকতার কারণে ছাত্রদলের চার শীর্ষ নেতার কেউই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ছাত্রদলের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, জিএস পদে আনিসুর রহমান এবং খোরশেদ আলম সোহেল এজিএস পদে প্রার্থী হয়েছেন।

প্রগতিশীল ছাত্রজোট সংগঠনগুলোর ব্যানার থেকে ভিপি পদে প্রার্থী হয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। তবে স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচন করছেন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর। অন্যদিকে স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ জিএস পদে লড়ছেন এ আর এম আসিফুর রহমান।

ছাত্রীরা হিসেব বদলে দিতে পারেন ॥ ছাত্রীদের পাঁচটি হলে ১৬ হাজারের বেশি ভোট। এ ভোটগুলোই পাল্টে দিতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ। বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রার্থীদেরও। ছাত্রী হলের ভোটগুলো বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। তবে ছাত্রীদের হলে ছাত্রলীগের অবস্থান ছেলেদের হল থেকে দুর্বল। মূলত সাধারণ ছাত্রীদের রাজনীতির প্রতি অনীহা থাকায় এসব হলে ছাত্রলীগের প্যানেলও ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিটি হলে রয়েছে ছাত্রলীগের বিপক্ষে সাধারণ ছাত্রীদের স্বতন্ত্র প্যানেল আছে। মেয়েদের হলগুলোতে বামপন্থীদের বাইরেরও জামায়াতের সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতারও তথ্য মিলছে। যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনেও এসব হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সক্রিয় হয়েছিল।

নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩। এর মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৭৭২ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ১৪৫। হলভিত্তিক পাঁচটি ছাত্রী হলের ভোটার সংখ্যা হচ্ছে- রোকেয়া হলে ৪ হাজার ৫৩০, শামসুন্নাহার হলে ৩ হাজার ৭৩৭, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৩৭১০, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে ১ হাজার ৯২০ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ২ হাজার ২৪৮।

রাতেই ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ॥ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ব্যালট ও ব্যালট বাক্স রাতেই হলগুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলেছেন, ভোট শুরু হবে সকাল আটটায়। সেক্ষেত্রে হল প্রশাসনেও কিছু কাজ রয়েছে। তাই রাতেই ব্যালট আর ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। রাতেই ব্যালট বাক্স পাঠানোর প্রতিবাদে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও বাম জোটের প্যানেলের প্রার্থীরা। এ সময় তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। নির্বাচনে ব্যালট বাক্স হিসেবে স্টিলের বাক্স ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন দাবি করে এই স্টিলের ব্যালট বাক্স দিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সিনেট কমিটি, সিন্ডিকেট, রেজিস্ট্রার গ্র্যাজুয়েট নির্বাচন হয়।

৭ দফা দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি ॥ ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দিয়েছে নির্বাচনের অংশ নেয়া কয়েকটি জোট। স্মারকলিপিতে তারা ৭ দফা দাবি জানায়। এ সময় তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

রবিবার বিকেল চারটার দিকে ডাকসু নির্বাচনে নানা অস্বচ্ছতার অভিযোগে উপাচার্যের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন। এ সময় স্বাধিকার পরিষদের জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমান, বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর ও জিএস প্রার্থী রাশেদ খান, স্বতন্ত্র জোটের অরণী সেমন্তি খান ও জিএস প্রার্থী ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর উপস্থিত ছিলেন।

তাদের ৭ দফা দাবিগুলো হলো- ভোট গ্রহণের সময় আরও চার ঘণ্টা বাড়ানো, পুলিং বুথ ছাড়া নির্বাচনী এলাকা ও ভোট কেন্দ্রের সব তথ্য সংগ্রহে জন্য সাংবাদিকদের সুযোগ দেয়া, অবাধ ভোট গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগের অনুমতি প্রদান, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যালট পেপার সকালে ভোট কেন্দ্রে পাঠানো এবং প্রতিটি রুটে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

স্মারকলিপি দেয়া শেষে স্বাধিকার পরিষদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মনে এখনও শঙ্কা কাটেনি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। আমরা সবাই শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতে এসেছি।

ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। আপনারা সবাই ভোট দিতে আসবেন। স্বতন্ত্রজোট থেকে ভিপি প্রার্থী অরণী সেমন্তি খান বলেন, আমরা জেনেছি যে রাতের মধ্যে হলের ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পাঠানো হবে। তার মানে রাতব্যাপী একটা কারচুপি হবে। একজন ভোটারও যদি ভোট দিতে বাধা পায়, ভোটে যদি কারচুপি হয়, আমরা সবাই মিলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করব।

স্বাভাবিক নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল বাস ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলের বাইরে অবস্থান করে। নির্দিষ্ট সিডিউল অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন রুটে এসব বাস শিক্ষার্থীদের আনা নেয়া করে। তবে নির্বাচন উপলক্ষে আলাদা কোন বাস সংযুক্ত করা হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন ম্যানেজার আতাউর রহমান বলেন, গতানুগতিক সিডিউল অনুযায়ী বাস চলবে। কোন রুটে আলাদা বাস সংযুক্ত করা হচ্ছে না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দলের শিক্ষকদের অভিযোগ ॥ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিরোধী মতের কোন শিক্ষককে যুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দল। এছাড়া বিরোধীছাত্র সংগঠনগুলোর কোন দাবি গঠনতন্ত্র সংশোধন ও আচরণবিধিতে প্রতিফলিত না হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, এ নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার স্বার্থে নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত কমিশনসহ বিভিন্ন কমিটিতে ভিন্নমতের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা করেনি। হলে হলে শিক্ষার্থীদের সহাবস্থান নেই দাবি করে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন দেশের বিপন্ন নির্বাচন পদ্ধতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে। সব ভয়-ভীতি ও চাপ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য আহ্বান জানাই।

সতর্ক আইশৃঙ্খলা বাহিনী ॥ নির্বাচন উপলক্ষে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্যাম্পাসে প্রবেশমুখে থাকবে সাত চেকপোস্ট। ১৮ হলে বাসানো হয়েছে ১১৩ সিসিটিভি ক্যামেরা। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা যানবাহন ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া ঢাবির প্রত্যেকটি হলে সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। প্রত্যেককেই মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে দেহ তল্লাশির পর আর্চওয়ে ভেতর দিয়ে ঢুকতে হবে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, নির্বাচনের দিন ১৮ হলে ১১৩ সিসি ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরায় সর্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ হবে। কেউ যেন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সেজন্য আমরা সব প্রস্তুত সম্পন্ন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, হাউস টিউটর, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, প্রক্টরিয়াল বডি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোবাইল টিম, মোবাইল পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.