অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী

৫ লাখ কোটির বাজেট, টার্গেট নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নকে মূল টার্গেট হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট এবারের বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানে। গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে থাকছে বিশেষ পদক্ষেপ। এজন্য আমার গ্রাম আমার শহর দর্শন দেয়া হয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে। এই দর্শনের ভিত্তিতে বাজেটে গ্রামীণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। সামাজিক সুরক্ষার আওতায় সমাজের পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে দৈনিক চিত্রকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে আগামী বাজেট প্রণয়নে। এছাড়া বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে দুই বছরের মধ্যে রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে। ওই সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র্য দূর করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে নতুন সরকার। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারী বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রূপকল্প-২১ এর মতো ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা এবং সুখী সমৃদ্ধি দেশ গড়তে সুদীর্ঘ ১০০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে ডেল্টা প্লান-২১০০ ঘোষণা করা হয়েছে। গত দশ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০১৯-২০ সালের অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়ানো হবে। সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি সচিবালয়ে জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাজেট বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়নের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিগত দশ বছরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে বাজেটে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বাজেট প্রণয়নে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যতœবান হওয়া প্রয়োজন। সরকারের আয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জনগণকে স্বস্তির মধ্যে রেখেই সরকারের আয় বাড়ানো হবে। এক্ষেত্রে কর না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। পদ্মা সেতুসহ দশ মেগা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগের দশ প্রকল্প এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দ্রুত বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়ন শাখা থেকে এ ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী বাজেটে দশটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের কর্মকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার অবসান, বিদ্যুত ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও আইসিটি খাত উন্নয়ন, বৃহৎ প্রকল্প (মেগা প্রজেক্ট) বাস্তবায়ন, ব্লু-ইকোনমি-সমুদ্র সম্পদভিত্তিক উন্নয়ন, বেসরকারী খাত ও বাজার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ ও গণমুখী দক্ষ জনপ্রশাসন নিশ্চিত করা। এর ফলে সর্বস্তরে উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদলটির সর্বশেষ সম্মেলনের ঘোষণা পত্রেও বলা হয়- দেশের সব উন্নয়ন হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অগ্রগতি অব্যাহত রাখা হবে।

আমার গ্রাম আমার শহর ॥ ডিজিটাল বাংলাদেশের মতো আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়ের নাম হচ্ছে আমার গ্রাম আমার শহর। আমার গ্রাম আমার শহর কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের গ্রাম উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। এজন্য কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, গ্রামের স্কুল-কলেজগুলো আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, কৃষি ভর্তুকি বাড়ানো ও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যদাম নিশ্চিত করা, ব্যাংকের শাখা বাধ্যতামূলকভাবে গ্রামে চালুকরণ, সহজশর্তে ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণপ্রাপ্তি, ঘরে ঘরে বিদ্যুত সংযোগ, স্বল্প খরচে ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, এলপি গ্যাস সহজলভ্য করা, ভূমিহীনকে খাসজমি বরাদ্দ, গৃহহীনকে ঘর প্রদান, আধুনিক বাজার ব্যবস্থা চালুকরণ, সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে দূরীকরণ এবং লাঙ্গল যার জমি তার, জাল যার জল তার নীতি চালুকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে প্রতিটি গ্রামে। এই দর্শন বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর করা সম্ভব। ফলে দেশের ৮৭ হাজার গ্রামে শহরের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান ?দৈনিক চিত্রকে বলেন, আমার গ্রাম আমার শহর এটি একটি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দর্শন। ফলে কাঁচা রাস্তা পাকা হবে, থাকবে বিদ্যুত ও ইন্টারনেট সুবিধা। এই দর্শনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে। তিনি বলেন, শহরের মতো গ্রামের মানুষ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, এটি একটি প্রশংসীয় ও ভাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। এদিকে গত নবেম্বর মাসে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির এক বৈঠকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের একটি রূপরেখা প্রাক্কলন করা হয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.