অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার : পুঁজি মাত্র ২১৬ রান। লো স্কোরিংয়ের এমন ম্যাচেও দূর্দান্ত জয় তুলে নিতে পারে বাংলাদেশ। তা-ও আবার ৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে। তাই অনায়াসে বলা যায়- মঙ্গলবার অনেক রেকর্ডের দিনটি ছিল বাংলাদেশের। এদিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তুজা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০টি ওডিআই ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ডের মালিক ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন (২৯টি)। আর এদিন তামিম ইকবাল করেন দুটি রেকর্ড। যার একটি বিশ্ব রেকর্ড। নিজের মাঠে সর্বোচ্চ রান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। দ্বিতীয়টি- তামিম এদিন ওয়ানডেতে ৬ হাজার রানের ক্লাবে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম নাম লিখিয়েছেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ টানা তৃতীয় দাপুটে জয় পেয়ে পয়েন্টের শীর্ষে। তিনটি ম্যাচেই বোনাস পয়েন্ট পেয়েছে মাশরাফি বাহিনী। ২১৭ রানের মামুলি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে এমন নাকানিচুবানি খাবে জিম্বাবুয়ে তা কেউ ভাবতেও পারেনি। ৩৬.৩ ওভারে ১২৫ রান তুলেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ৭৬ রান করে ম্যাচ সেরা হন তামিম ইকবাল। সাকিব আল হাসান ৩টি, সানজামুল, মাশরাফি এবং মোস্তাফিজ দুটি করে উইকেট তুলে নেন। একটি উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন।
সিরিজে টিকে থাকতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ইনিংসে ওপেনিংয়ে নামেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং সলোমন মিরে। চতুর্থ ওভারে মাশরাফি ফিরিয়ে দেন ৫ রান করা মাসাকাদজাকে। দলীয় রান তখন ১৪। এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন সাকিব। পর পর দুই বলে উইকেট তুলে নেন তিনি। সলোমন মিরেকে (৭) সরাসরি বোল্ড করার পরের বলেই এলবির ফাঁদে ফেলে ব্রেন্ডন টেলরকে সাজঘরে ফেরান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। দলীয় ২০ রানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ৩৪ রানে আরভিনকে (১১) ফিরিয়ে দেন মাশরাফি। ইনিংসের ২৩তম ওভারের চতুর্থ বলে সানজামুল এলবির ফাঁদ পেতে ফেরান ৪২ বলে ১৪ রান করা পিটার মুরকে। পরের বলেই এলবির ফাঁদে ফেরেন ম্যালকম ওয়ালার। ৬৮ রানে পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ৯৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২৩ রান করা ক্রেমারকে এলবির ফাঁদে ফেলেন রুবেল হোসেন। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে থিতু হওয়া সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। দলীয় ১০৭ রানে জিম্বাবুয়ে ৮ম উইকেট হারায়। রাজা ফেরেন ৩৯ রানের ইনিংস খেলে। ১০৭ রানের মাথায় ৯ম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ৮ রান করা চাতারা ফেরেন সাকিবের শিকারে। শেষ উইকেটটি পান মোস্তাফিজ।
প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর ইতোমধ্যেই সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। তামিম-সাকিব দারুণ ব্যাটিং করলেও নিয়মরক্ষার ম্যাচে পরের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ২১৬ রান। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। বিজয়ের উইকেটের মধ্য দিয়ে দলীয় ৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাকিব ৫১ রানে সাজঘরে ফেরেন। সাকিব আউটের আগে তামিমের সঙ্গে জুটি গড়েন ১০৬ রানের। এরপর দলীয় ১৪৭ রানে ব্যক্তিগত ১৮ রান করে বিদায় নেন মুশফিক। দলীয় ১৫৬ রানে ক্রেমারের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে ব্যক্তিগত ২ রানে বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৯তম ওভারের প্রথম বলে ক্রেমারের বলকে সীমানা ছাড়া করতে এলে সাকিবের মতো তামিমও উইকেট বিলিয়ে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে ১০৫ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৭৬ রান। ১৬৭ রানে ব্যক্তিগত ৬ রান করে জারভিসের বলে আরভিনের ক্যাচে ফিরে যান সাব্বির। এরপর ব্যক্তিগত ২ রানে জারভিসের বলে টেলরের ক্যাচে ফিরে যান নাসির। ১ রানের ব্যবধানেই বিদায় নেন অধিনায়ক মাশরাফি। সানজামুল শেষ দিকে ২৪ বলে ১৯ রান না করলে ২০০’র আগেই গুটিয়ে যেত বাংলাদেশ। মোস্তাফিজ ২২ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। রুবেল হোসেন ৪ বলে একটি ছক্কায় ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.