অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

অমরত্বের জন্য আর কী চাই!

Print

স্পোর্টস ডেস্ক: ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’Ñ বাংলায় এ প্রবাদের মতো অলিম্পিকে এখন দুই শক্তি। জলে মাইকেল ফেলপস আর ডাঙায় উসাইন বোল্ট। রিও অলিম্পিকের প্রথম সপ্তাহ চললো জীবন্ত কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপসের কীর্তি। এবার শুরু হয়েছে ডাঙার আসল লড়াই। স্প্রিন্টে জীবন্ত কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের শো শুরু হয়ে গেছে। শুরুতেই আরেক ইতিহাস গড়লেন জ্যামাইকার এ দৌড়বিদ। ইতিহাসের প্রথম দৌড়বিদ হিসেবে অলিম্পিকের তিন আসরে ১০০ মিটারে সোনা জিতলেন তিনি। বেইজিং ও লন্ডনের পর এবার তিনি রিও’তেও জিতলেন সোনা। হারালেন তার প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী জাস্টিন গ্যাটলিনকে। এবার ১০০ মিটারের সোনা জিততে বোল্ট সময় নিয়েছেন ৯.৮১ সেকেন্ড। টুর্নামেন্টের আগে বারবার চ্যালেঞ্জ জানানো যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাটলিন রূপা জিতেছেন ৯.৮৯ সেকেন্ড নিয়ে। আর ৯.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন কানাডার আন্দ্রে ডি গ্রাসি। সোনা জিতে নিজের ‘অমর’ হওয়ার বাসনার কথা জানালেন। ইতিমধ্যে তিনি যা অর্জন করেছেন তাতে তিনি কিংবদন্তি পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু নিজের মুখে বললেন, ‘অনেকে বলেছেন, আমি অমর হতে পারি। আরো দুইটা মেডেল জিতে তবেই আমি শেষ করবো, অমর হবো।’
বছর তিনেক ধরেই নানা চোটে আক্রান্ত বোল্ট। অনেকটা সময়েই থাকেন মাঠের বাইরে। তবে ফিরেই বিদ্যুতের মতো চমকে ওঠেন। এবারও তাই করলেন। চোটের কারণে দেশের মাটিতে চ্যাম্পিয়নশিপেও দৌঁড়াতে পারেননি। মাস খানেক আগের ঘটনা। অনেকেই ভেবেছিলেন তার সময় শেষ। বয়সও মন্দ নয়। ৩০ ছুঁই ছুঁই। তবুও শেষ মুহ‚র্তে দ্যুাতি ছড়ালেন ঠিকই। দৌড় শুরুর আগে সাধারণত তাকে দারুণ ফুরফুরে দেখা যায়। কিন্তু এবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। তার চেহারায় স্পষ্ট ছিল চিন্তার রেখা। ক্যারিয়ারের শেষ অলিম্পিক খেলছেন বলে আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। বিদায়ী অলিম্পিক বলেই সম্ভবত তার মধ্যে চিন্তা কাজ করছিল। দৌড় শুরু হওয়ার পর অনেকেই অবাক। প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত বোল্ট ছিলেন অনেক পিছিয়ে। জাস্টিন গ্যাটলিন সবার আগে। তার পেছনে আরো তিনজন। তারপর বোল্ট। অনেকেই মনে করছিলেন, এবার বোল্ট শেষ। গ্যাটলিনের কাছে তার রাজত্ব হারাতে হচ্ছে। কিন্তু ৫০ মিটার পর দৃশ্যপট পাল্টে গেলো ভোজবাজির মতো। এবার যেন ক্ষীপ্র চিতা হয়ে উঠলেন বোল্ট। মুহূর্তের মধ্যে গ্যাটলিনসহ অন্য তিনজনকে টপকে গেলেন। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়ে আরো একটি সোনা জিতলেন স্প্রিন্টের জীবন্ত এই কিংবদন্তি। অবশ্য দৌড়ের শুরুতে বোল্টের পিছিয়ে পড়া নতুন কিছু নয়। ক্যারিয়ারে যত সোনা জিতেছেন প্রায় সব প্রতিযোগিতায় শুরুতে তিনি পিছিয়ে থাকেন। এটাই তার কৌশল। এবার আগের দুবারের চেয়ে বেশি সময় নিয়েছেন। কিন্তু সোনা তার হাতছাড়া হয়নি। এখন তিনি দাঁড়িয়ে অন্য এক ইতিহাসের সামনে। আগের দুই আসরে তিনি ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ১০০ মিটার রিলেতে সোনা জেতেন। এবার তার লক্ষ্য হ্যাটট্রিক সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: