অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

Print

অনলাইন ডেস্ক: দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করা গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা কোনো ভোগের বস্তু নয়, জাতির প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনের। তিনি বলেন, কারো কাছে ক্ষমতা হচ্ছে ভোগের বস্তু আর কারো কাছে ক্ষমতা হচ্ছে কর্তব্য পালন করা। আমাদের চিন্তা হচ্ছে, জাতির প্রতি কর্তব্য পালন। দেশের প্রতি, তার মানুষের প্রতি কর্তব্য পালন করা। মানুষ যে আমাকে একটা ভোট দিলো, তার বদলে সে কি পেলÑ এটাই তখন বিবেচ্য হয়ে দাঁড়ায়। প্রধানমন্ত্রী মানুষকে সুন্দর আগামীর জন্য স্বপ্ন দেখার আহŸান জানিয়ে বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নের যে চেতনা তা জনগণের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে পারলেই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার তেজগাঁও কার্যালয়ে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে হবে যে, তার জীবনটাও উন্নত হবে, হাহাকার থাকবে না, জীবনমান উন্নত হবে। সবসময় তাদের ভেতরে একটা চেতনা জাগরূক রাখতে হবে, তবেই উন্নয়নের কাজটা ত্বরান্বিত হবে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বক্তৃতা করেন। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় এবং সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলমও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু আমাদের রাজনীতি। আমরা নানা ধরনের রাজনীতি অতীতে দেখেছি। কিন্তু যে দলটা একবারে তৃণমূল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে গঠিত হয় এবং মানুষের জন্য কাজ করতে পারে, ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, তাদের মানুষের জন্য চিন্তা-ভাবনাটা অন্যরকম থাকে। হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসলে তাদের চিন্তাটা অন্যরকম। তিনি আরো বলেন, ভোটের অধিকারটাও কিন্তু আমাদের অর্জন করতে হয়েছেÑ অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে। সেটাও আমাদের মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, পাঁচ বছর ক্ষমতার মেয়াদে কতটুকু কাজ করতে পারবো সেটা সুনির্দিষ্ট করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়ানো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকেই দেশে শুরু হয় হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলেই যেনো বিপদ বেশি হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সেজন্যই প্রাণ দিতে হয়েছিল। এমন হত্যার ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আমরা দেশে আরো দেখেছি। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাজেট বৃদ্ধি করেছি। এতো বিশাল আকারে বাজেট বাংলাদেশে আর কেউ দেয়নি। তিনি বলেন, এক সময়ের প্রচলিত চিন্তা-ভাবনা ‘সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল’ থেকেও তিনি জনগণকে বেরিয়ে আসার আহŸান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের মানুষকেও ভাবতে হবে যে, সরকারের সম্পদ হচ্ছে জনগণের। জনগণেরই কল্যাণে কাজ হবে, ব্যয় হবে। এটা দরিয়ামে ঢালার জন্য না। ২০১৬-১৭ অর্থবছর নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর হলো। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সিনিয়র সচিব এবং সচিবগণ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও বিভাগের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সঙ্গেও এই চুক্তি হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: