অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

আত্মঘাতী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫ জঙ্গি পুলিশের কব্জায়

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: রাজধানীর টেকনিক্যাল এলাকা থেকে জেএমবি’র ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা আত্মঘাতী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং হামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকায় এসেছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে টেকনিক্যাল মোড় এলাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের অভিযানে বিস্ফোরকসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ আতিকুর রহমান আতিক, আবদুল করিম বুলবুল, আবুল কালাম আজাদ, মো. মতিউর রহমান ও শাহীনুর রহমান হিমেল। এ সময় নান্নু, সজীব, ইমরান ও জিপসি নামে তাদের আরো চার সহযোগী পালিয়েছে। জঙ্গিদের কাছ থেকে ৮৭৫ গ্রাম জেল বিস্ফোরক ও ২৫টি ডেটোনেটর পাওয়া যায়। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, কল্যাণপুরের ঘটনায় নয়জন নিহত হওয়ার পর ঢাকায় জেএমবির কর্মী সংকট দেখা দেয়। তাই এদেরকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় আনা হয়। মূলত প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করতেই তাদের ঢাকায় আনা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে। আটক পাঁচজন কয়েক মাস আগে গৃহত্যাগ করেছে বলে আমাদের জানিয়েছে। আমরা তাদের দেয়া ঠিকানা পেয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হতে পারবো। ২০০৫ সালের ২১শে ফেব্রæয়ারি সরকার জেএমবি’র কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই বছর ১৭ই আগস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শক্তির জানান দেয় সংগঠনটি। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টানা অভিযানে দুর্বল হয়ে পড়া সংগঠনটি গত দুই বছরে নতুন করে সংগঠিত হয়ে একের পর এক হত্যাকাÐ ও হামলা চালাচ্ছে বলে পুলিশের ভাষ্য। নতুন করে সংগঠিত এই জেএমবিকেই ‘নিউ জেএমবি’ বলে অভিহিত করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ১লা জুলাই ঢাকার গুলশানে ও ৭ই জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার জন্যও ওই দলের সদস্যদের দায়ী করছে পুলিশ। গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর গত ২৬শে জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। তারাও জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি করছে পুলিশ। এদেরকে কেন ‘নিউ জেএমবি’ বলা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমাদের ব্রিফিং যদি ফলো করেন, তাহলে দেখবেন আমরা বলে আসছি যে জেএমবি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। তারা মাওলানা সাইদুর রহমানের জেএমবিতে অনুপ্রবেশ করলেও এখান থেকে একটি গ্রæপ বের হয়ে যায়। ওই গ্রæপটিই নিউ জেএমবি। তিনি বলেন, গুলশানের ঘটনার পর কল্যাণপুর ছাড়াও বিভিন্ন স্থানের অন্তত দশটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: