অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

আফগানদের হারিয়ে শিরোপা ভারতের

Print

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট: ফাইনালটা হলো ফাইনালের মতোই। প্রথমার্ধ গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধে দুই মিনিটের ব্যবধানে স্কোর ১-১। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হলো সমতায়। ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে। আর সেখানেই চমকটা দেখালো স্বাগতিক ভারত। সুনীল ছেত্রীর অসাধারণ এক গোল। সেই সঙ্গে ২-১ গোলের দারুণ এক জয়। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগােনো আফগানিস্তানকে হারিয়ে রোববার সাফ সুজুকি ফুটবলের শিরোপা জিতেছে ভারত। সাফ ফুটবলে ভারতের এটি রেকর্ড সপ্তম শিরোপা।

সাফ ফুটবলের গত দুই আসরেও (২০১১ ও ২০১৩) ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আফগানিস্তান ও ভারত। একবার ভারত, আরেকবার আফগান শিবির চুমু আঁকে শিরোপায়। প্রথমবার ঘরের মাঠে আফগানিস্তানকে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জেতে ভারত (২০১১)। ফাইনালে ভারত জিতেছিল ৪-০ গোলে। এর শোধ আফগানিস্তান অবশ্য তোলে পরের আসরেই (২০১৩, নেপালে)। ফাইনালে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রতিশোধের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাফ ফুটবলের শিরোপাও জেতে আফগান শিবির। এবার ঘরের মাঠে নেপাল সাফ ফুটবলে ফাইনালে হারার শোধটা ভালোমতোই নিল ভারত।

ভারতের কেরালার ত্রিবান্দ্রাম স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল জমাট লড়াইয়ের আভাস। কখনো ভারত কখনো বা আফগান শিবির করেছে আক্রমণ। কিন্তু গোল যেন ছিল সোনার হরিণ। বেশকটি সুযোগ পেলেও তা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি আফগানিস্তান। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে নতুন রণ কৌশলে প্রতিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই দলই। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছিল না। তবে ৭০ মিনিটের পর হঠাত ঝড়ে স্কোর ১-১। প্রথম আক্রমণ আফগানিস্তানের। ৭০ মিনিটে ফয়সালের পাসে দেয়া বলে খুব সহজেই ভারতের জাল কাঁপান আফগানিস্তানের জুবায়ের আমিরি।

১-০তে লিড নেয়া আফগান শিবির তখন উল্লাসে মত্ত। তবে এই উল্লাস মিনিট দুয়েক পর দেখা যায় ভারত শিবিরে। ৭২ মিনিটে গোল করে ভারতকে সমতায় ফেরান জেজে লালপেখলুয়া। নারজারি ক্রসে হেড নিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী। বক্সের ভেতর থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জেজে (১-১)।

৮৭ মিনিটে গোল পেতে পারত ভারত। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্রি কিক নিয়েছিলেন ভারতের সুনীল ছেত্রী। কিন্তু আফগান গোলরক্ষক চিতার মতো লাফিয়ে বিপদমুক্ত করেন। আফসোস স্বাগতিক শিবিরে।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে বাজিমাত করতে পারত আফগান শিবির। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া আলিখিলের ভলি চলে যায় পোস্টে বাতাস লাগিয়ে। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে সমতায়।

ম্যাচ গড়া অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। শুরুর দিকেই বাজিমাত করে ভারত। অতিরিক্ত সময়ে ১১ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে লম্বা পাস বক্সের কাছাকাছি পেয়ে শুয়ে শট নে সুনীল ছেত্রী। ঠেকাতে পারেনি আফগান গোলরক্ষক, গোওওওল। ২-১ এ লিড নেয় স্বাগতিক ভারত। শেষের দিকে কপাল খারাপ আফগানিস্তানের। আফগানদের নেয়া একটি শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। না হলে নিশ্চিত ম্যাচ গড়াতো টাইব্রেকারে।তবে তা হয়নি। ভাগ্য ভালো ভারতেরই। আর শেষবারের মতো সাফ ফুটবল খেলতে আসা আফগানদের স্বান্তনা পেতে হচ্ছে রানার্স আপের ট্রফি নিয়েই।

তবে অতিরিক্ত সময়ের শেষের দিকে বাজে রেফারিংয়ে বিরক্ত ছিল আফগান শিবির। আফগানিস্তানের কোচতো ক্রোধে ছটফট করলেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গেও রেফারির হলো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করেন রেফারি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: