অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

আবদুল আলীমের জন্মদিন আজ

Print

বিনোদন রিপোর্ট : প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী আবদুল আলীমের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। প্রয়াত এ শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সংগঠন আয়োজন করেছে বেশ কিছু অনুষ্ঠান।

ভারতের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই আবদুল আলীমের জন্ম। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই মেধাবী শিল্পীর দুটি গানের রেকর্ড প্রকাশ করে গ্রামোফোন কোম্পানি। দেশ বিভাগের সময় ঢাকায় চলে আসেন তরুণ আবদুল হালিম। ঢাকায় এসে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যোগ দেন পূর্ব পাকিস্তান রেডিওতে।

সঙ্গীত শিক্ষার জন্য আবদুল আলীম সংস্পর্শ পান মুমতাজ আলী খান এবং মোহাম্মদ হোসাইন খসরুর মতো উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতবিদদের। স্বতন্ত্র গায়কী আর অসাধারণ কণ্ঠের জন্য তিনি প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন পল্লীকবি জসীম উদদীন, কানাই লাল শীল, আবদুল লতিফ, খান শমসের আলীসহ অসংখ্য দেশবরেণ্য ব্যক্তির।

সংগীত জীবনে তার দুই শতাধিক রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এ দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের শতাধিক ছবিতে প্লে-ব্যাক করেছেন আবদুল আলীম। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ৫০টি ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আবদুল আলীম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুখ ও মুখোশ, এদেশ তোমার আমার, জোয়ার এলো, সুতরাং, নদী ও নারী, কাগজের নৌকা, নবাব সিরাজউদ্দৌলা, সাত ভাই চম্পা, স্বর্ণকমল, গাঁয়ের বধূ, লালন ফকির, দস্যুরানী, উৎসর্গ, তীর ভাঙা ঢেউ। এসব ছবিতে শিল্পীর গাওয়া গান এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।

অনন্য দরদী কণ্ঠের অধিকারী আবদুল আলীম মানুষের ভালবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি নানা স্বীকৃতি-সম্মাননা-পদক/পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক, পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার এবং অসাধারণ পারফর্ম্যান্সের জন্য লাহোরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান মিউজিক কনফারেন্সে ৫টি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

তিনি ঢাকা মিউজিক কলেজের লোকগীতি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের অনেক খ্যাতিমান লোকগীতি শিল্পী তাঁর ছাত্র। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলা লোকসঙ্গীত কুঞ্জের ‘কালো কোকিল’ আবদুল আলীম দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

আবদুল আলীমের গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম হলো– দুয়ারে আইসাছে পালকি, হলুদিয়া পাখি, সর্বনাশা পদ্মা নদী, পদ্মার ঢেউরে, প্রেমের মরা জলে ডুবে না, উজান গাঙ্গের নাইয়া, আমারে সাজাইয়া দিও, মনে বড় আশা ছিল, বাবু সেলাম বারে বার, সব সখিরে পার করিতে, মনপবনের নাও আমায় লইয়া যাও প্রভৃতি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: