অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

আবারো এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: মন্ত্রণালয় মানতে নারাজ (ভিডিও)

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রীর কড়াকড়ি নির্দেশনার পরও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রের বহুনির্বাচনি অভিক্ষার ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই ফেসবুকে এসেছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও ফাঁস হওয়ার বিষয়টির কথা মানতে নারাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তারা জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ফাঁসের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছে সংস্থা দুটি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখে সাংবাদিকদের জানান, মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এরপর ফাঁস হওয়া অন্য একটি সেট মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে জানিয়ে সেটি মিলিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয় মন্ত্রীকে। সকাল ১১টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুকে ছড়ানো প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল নেই। আমি মিলিয়ে দেখেছি। বিষয়টি মিথ্যা ও গুজব। তবে যে ব্যক্তি এই প্রশ্নটি পোস্ট করেছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। তারা এরই মধ্যে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে।’ জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব চৌধরী মুফাদ আহমেদ বলেন, ‘ফাঁস হয়ে থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
এদিকে গতকাল সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বাংলা প্রথমপত্রের ‘খ’ সেটের এই প্রশ্নটি ফেসবুকে পাওয়া যায়। প্রশ্নটি এরপর থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়াতে থাকে। পরে তিন ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফেসবুকে আসা প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। গতকাল সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এসএসসিতে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে হচ্ছে সব বোর্ডের পরীক্ষা। গত বছর এসএসসির পর জেএসসি এমনকি প্রাথমিক সমাপনীর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত কিছু দিন ধরে কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা থেকে ২৫ মিনিট আগে একাধিক ফেসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রুপে উত্তরসহ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পাওয়া যায়। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো নিউজ পাইনি। আমার কাছে কোনও অথেন্টিক খবর নেই।’ পরীক্ষা শুরুর ঠিক ২৪ মিনিট আগে ‘@@@@ bangla 2nd Paper @@@@@’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে ইমেজ আকারে আসে বাংলা প্রথম পত্র ‘খ’ সেট বহুনির্বাচনী প্রশ্ন। তা বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবার পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলেও তাতে শৈথিল্যই দেখা গেছে। গতকাল সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে সরকারি ল্যাবরেটরি বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ‘সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। নাহিদ বলেছিলেন, আমরা খুবই ডেসপারেট, খুবই অ্যাগ্রেসিভ এ (প্রশ্ন ফাঁস) বিষয়ে। যদি কোথাও কেউ কোনোভাবে প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করে, তিনি কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না। কী হবে, আমিও সেটা ধারণা করতে পারি না। চরম একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুপুরে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমারকে প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, নিউজ করতে চাইলে করেন, যা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই নিয়েছি। আমরা জানি প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আর কোনো মন্তব্যই করতে রাজি হননি তিনি।
অপরদিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া প্রশ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট উপসচিব আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি শিক্ষাবোর্ডকে জানানো হবে। আমাদের কাছে প্রশ্নপত্র নেই। প্রশ্নপত্র এনে তা মিলিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা পুলিশকে ফেসবুকের লিংক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।
ফেসবুকে যেভাবে এলো প্রশ্ন : ‘PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center’ নামক একটি ফেইসবুক গ্রুপে ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা ৪৯ মিনিটে Sadia Islam Setu নামক ফেইসবুক আইডি থেকে প্রশ্ন ফাঁসের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পোস্টে লেখা হয় “SSC Q 2018 BANGLA 1ST PAPER FREE TE DIBO JADER LAGBE INBOX ME।”
ওই ফেইসবুক আইডিতে রাত ১২টা ৫০ মিনিটে মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে “@@@@ bangla 2nd Paper @@@@@” নামক একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে যুক্ত হতে বলা হয়। গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর, সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে MD Tamim Khan নামক এক আইডি থেকে ‘খ’ সেটের প্রশ্নের ছবি দেওয়া হয়। একইসাথে হাতে লেখা দুটি উত্তরপত্রের ছবিও দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে Sadia Islam Setu নামের সেই ফেইসবুক আইডি থেকে পরবর্তী প্রশ্ন ফাঁসের কথা জানিয়ে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। “শুনো সবাই আজকে আমরা জাস্ট দেখলাম যে কাজ হবে কি না, এখন শিওর যে কাজ হবে। আর আজকে রাতে তোমাদের ৩ সেট রিটেন দিয়া দিমু ওইগুলা পড়লেই কমন আর MCQ সকালে ৮.৩০ থেকে ৯টার মধ্যে আনসারসহ দিমু।।।। আশা করি সবাই বুঝতে পারছো।।।।।।।।

প্রশ্ন মূল্য ৩০০/- মাত্র
প্রশ্ন নিতে চাইলে ADMIT CARD ER ছবি দেন
অথবা ২০০/- ADVANCE”




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.