অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

আবেগে-উদ্বেলিত হিলারি অঝোরে কাঁদলেন

Print

চিত্র ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে হিলারি ক্লিনটন বললেন, ছাদ যখন নেই তখন আকাশ হলো ঠিকানা। বৃহস্পতিবার ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্রেট দল থেকে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন গ্রহণ করে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে এমন কথা উচ্চারণ করলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ যাবতকালে বড় কোনো দল থেকে একজন নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন তিনি। এ সময় তার সামনে বসা সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, তার পাশে জামাই মার্ক মেজভিনস্কি, ক্লিনটনের বামে বসা হিলারির রানিংমেট টিম কেইন। মঞ্চে মাকে পরিচয় করিয়ে দেন মেয়ে চেলসি ক্লিনটন। হিলারি মঞ্চে এলেই তাকে জড়িয়ে ধরেন মেয়ে চেলসি। দু’জনে একে অন্যের চোখে চোখ রেখে স্বল্প সংলাপ সারেন। তখন বিল ক্লিনটন, মার্ক মেজভিনস্কিসহ ফিলাডেলফিয়ার পুরো হলঘর করতালিতে ফেটে পড়ছে। হিলারির জন্য এর চেয়ে সুখকর আর কি হতে পারে! মাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে চেলসি গিয়ে বসেন পিতা বিল ও স্বামী মার্কের মাঝখানে। সেখানে বসে বিস্ময়ভরা চোখে তিনি মাকে দেখতে থাকেন। এদিন হিলারি ক্লিনটন যেন তার এক নতুন মা হয়ে উঠেছিলেন। মা সম্পর্কে তিনি বলছেন, আমার মা চমৎকার এক মা। তিনি সব সময় আমার পাশে থেকেছেন। হিলারি ক্লিনটন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২৮ মিনিটে মঞ্চে আসেন। সিএনএন সরাসরি সম্প্রচার করছিল সে দৃশ্য। ৯টা ২৯ মিনিটের সময় সিএনএন চ্যানেলের পুরো স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এক সমর্থক যুবতীর মুখ। তিনি আবেগে, উদ্বেলিত হয়ে অঝোরে কাঁদছেন। অশ্রæ গড়িয়ে পড়ছে তার চোখ থেকে। তিনি কাঁদছেন। একই সঙ্গে হাসছেন। কান্না-হাসির এক অবিমিশ্র আবহ তৈরি হয় তখন। শুধু তিনি একই নন দর্শকসারিতে তখন আনন্দের অশ্রæ সমর্থকদের মাঝে। এমনই এক সমর্থক ১৬ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া সানচেজ। তিনি বলেন, আমি যা চিন্তা করতে পারতাম, এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। আমি জানি, আমি এই মাত্র ইতিহাস গড়তে দেখলাম। আমি তার পদচিহ্ন অনুসরণ করতে পারবো। এটা আমার পুরো জীবন পালটে দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে মনোনয়ন গ্রহণের বক্তৃতায় আবেগে স্পন্দিত হন হিলারি ক্লিনটন। তবে জাতিকে সতর্কও করে দেন তিনি। বলেন, অর্থনৈতিক যন্ত্রণা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের বিয়োগান্তক মুহূর্তে আছে দেশ। সাবেক ফার্স্ট লেডি, সিনেটর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার প্রতিদ্ব›দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন। তাকে চিত্রিত করেন এমন লোক হিসেবে, যে শ্রমিকদের ঠকিয়ে ধনী হয়েছে, ভয় ছড়িয়ে বেড়ায় এবং কমান্ডার ইন চিফ হওয়ার মতো ঠান্ডা মেজাজ যার নেই। ট্রা¤প স¤পর্কে তিনি ভোটারদের বলেন, ‘তিনি আমাদের বিভক্ত করতে চানÑ পুরো দুনিয়া থেকে এবং পরস্পরের কাছ থেকে।’ প্রাইমারি ও ককাস নির্বাচনের সময় মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ প্রস্তাবের জবাবে হিলারি বলেন, আমরা কোনো দেয়াল নির্মাণ করবো না। তার পরিবর্তে আমরা এমন একটা অর্থনীতি তৈরি করবো, যেখানে যারা কাজ করতে আসবেন তারা যেন কাজ করতে পারেন। হিলারি বলেন, এমন কাউকে বিশ্বাস করবেন না, যিনি বলেন, শুধু আমিই সব ঠিক করতে পারি। তিনি ৭০ মিনিট কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি কোনো সমাধান দিয়ে যেতে পারেননি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার খেলাপি ঋণের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। কারণ, ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারকে সেই অর্থ ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। হিলারি প্রশ্ন রাখেন, আমাকে বলুন আমেরিকা ফার্স্ট- এক্ষেত্রে কলোরাডোর পরিবর্তে চীনকে বেছে নেয়ার কারণ কি।
সিএনএন’র খবরে বলা হয়, বক্তৃতা শেষে হতাশ বার্নি স্যান্ডার্স সমর্থকদের কাছেও ছুটে যান তিনি। প্রতিদ্ব›িদ্বতায় ঠাসা দুই প্রার্থীর প্রাইমারির গভীর ক্ষত উপশমের চেষ্টা চালান তিনি। দর্শক সারি থেকে তখন দেখছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স। স্যান্ডার্সের সমর্থকদের ক্লিনটন বলেন, ‘আমি আপনাদের শুনেছি। আপনারা যা নিয়ে লড়ছেন, তা আমাদেরও লড়াই। আসুন আমরা একসঙ্গে প্রচারণা চালাই এখন। আমাদের সামনে বিশাল সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শক্তিধররা আমাদের আলাদা করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।
হিলারির বক্তৃতার প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। টুইটারে তিনি বলেন, ‘দারুণ ভাষণ। তিনি পরীক্ষিত। কখনই পালান না। এ কারণে হিলারির হওয়া উচিত আমাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। (আমার এই টুইটার অ্যাকাউন্টটাও তিনি পাবেন।)’
তবে প্রতিদ্ব›দ্বী ট্রা¤প এক টুইটে বলেন, হিলারির ভাষণে মৌলবাদী ইসলামের হুমকি নিয়ে কিছু ছিল না। এ কারণে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিতে অক্ষম।
রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা বলছেন, হিলারি ক্লিনটন আসন্ন নির্বাচনকে তার পক্ষে নেয়ার জন্য নিজেকে সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরেছেন ওই রাতে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সময়কে তিনি তার বক্তব্যে স্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে তার প্রতিদ্ব›দ্বী রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে এটা ছিল না। হিলারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সমঝোতা, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভীত নই। আমরা চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এগুবো, যেমনটা আমরা সব সময়ই করি। আমেরিকার সমৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি হলো অসাঞ্জস্যতা, সীমাবদ্ধ সামাজিক গতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থবিরতা, দেশে ও বিদেশে হুমকি। বক্তব্যে তিনি আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রæতি দেন। বেতন সমতার কথা বলেন। আর্থিক সংস্কারের প্রচারণার কথা বলেন। বলেন, তিনি ভোটের অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্য লড়াই করবেন। পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি নীতির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবিলা করার কথা বলেন হিলারি। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে যেসব অভিবাসী আছেন তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ তৈরির প্রতিশ্রæতি দেন তিনি। জাতীয় সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রতিশ্রæতি দেন। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ‘কমন সেন্স’ ব্যবহারের কথা বলেন। অন্যায্য বাণিজ্যিক চুক্তি প্রত্যাখ্যান ও দেশে তৈরি শিল্পোৎপাদনকে সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেন হিলারি। তিনি আস্থা প্রকাশ করেন, আমেরিকার মূল্যবোধের সঙ্গে, স্বাধীনতা, সমতা, ন্যায়বিচার ও সুযোগকে ব্যবহার করে এসব চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করতে পারবেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: