অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী

আরাফাত হত্যায় যেভাবে যুক্ত হয় ইসরায়েল

Print

অনলাইন ডেস্ক : ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাত। জনপ্রিয় এ নেতাকে হত্যার জন্য নানা কৌশল নিয়েছিল ইসরায়েল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সল্ট ফিশ কোডনামের একটি অভিজাত কমান্ডো ইউনিট। সেক্ষেত্রে এক ইহুদি সাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তু বানাতে চায় ইসরায়েল।

১৯৮২ সালে হওয়া ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধে এক দিনের বিরতি চলছিল। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে হাজার হাজার মানুষ শহরের পূর্ব ও পশ্চিমে আসা-যাওয়ার চেকপয়েন্টগুলোতে হাজির হন। ওইসব চেকপয়েন্ট, যেগুলো শহরটিকে পূর্ব-পশ্চিমে ভাগ করে। এদের একজন উরি আভনেরি। রূপালী চুলের ভদ্রলোকের ওপর আদেশ হয় বৈরুত জাদুঘরের কাছে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)’র একটি চেকপোস্টে স্বশরীরে হাজির হতে হবে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আভনেরি হবেন প্রথম ইসরায়েলী, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে দেখা করেন। নিজের দেশ যাকে সবচেয়ে বড় শত্রæ বলে মনে করে, তাঁর সঙ্গে যেভাবে দেখা হয়েছিল তা স্মরণ করেন আভনেরি।

তিনি বলেন, একটু বিপজ্জনক ছিল। একটি সাঁজোয়া মার্সিডিজ গাড়ি তাকে তুলে নেয়। এরপর একেবারে আকাবাঁকা পথ বেয়ে দক্ষিণ বৈরুতে পিএলও ভবনে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেও যায়। তিনি বলেন, আমরা কথা বলেছিলাম শান্তি নিয়ে- ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি। কিন্তু ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে বৈঠকটি আভনেরির বামপন্থি ম্যাগাজিনের জন্যে কেবল হৈচৈ ফেলা খবরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিন দশক পরে এই গল্পের আরও অনেক কিছু এখন বেরিয়ে আসছে- অভিযোগ উঠেছে যে, ইসরায়েলী কমান্ডোরা পিএলও নেতার সঙ্গে তাদের দেশি মানুষটির বৈঠকটি অনুসরণ করার চেষ্টা করছিল। তাদের প্রস্তুতিও ছিল একে লক্ষ্যবস্তু বানানোর।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিক রনেন বার্গম্যান পিএলও প্রধানকে হত্যার অনেক কথিত চেষ্টার কথা লিখেছেন। বইটিতে ইসরায়েল কর্তৃক সুনির্দিষ্ট হত্যাকাÐ ঘটানোর বিবরণ রয়েছে। বার্গম্যান ঘটনা জানতেন এমন অনেক মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তবে এটা বিতর্কও উস্কে দিয়েছে। কারণ পুরো বিষয়টি ইসরায়েলে মোটামুটি গোপনীয়। তিনি বলেন, তার গবেষণার সময় একজন সেনাপ্রধান তাকে ‘উত্ত্যক্তকারী গুপ্তচরবৃত্তি’র অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

বার্গম্যান লিখেছেন, ১৯৮২ সালে যখন বৈরুত অবরোধ করা হয়, তখন ‘সল্ট ফিশ’ কোডনামের একটি অভিজাত কমান্ডো ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়- উদ্দেশ্য ইয়াসির আরাফাতকে হত্যা করা। তিনি দাবি করেন, পিএলও নেতার সঙ্গে উরি আভনেরির বৈঠকের সুযোগ নিতে চেয়েছিল এই ইউনিট। তারা চেয়েছিল ওই সাংবাদিক ও তার দুই সহকর্মী অজান্তেই তাদেরকে ইয়াসির আরাফাতের সন্ধান দিক।

বার্গম্যান লিখেছেন, সল্ট ফিশ টিমের মধ্যে এমন একটি তর্ক বেধে যায় যে, ইসরায়েলি নাগরিকদের বিপদে ফেলা- যার পরিণতি সম্ভবত মৃত্যু- কতটা সঠিক? উত্তর ছিল- তাদের সিদ্ধান্ত মতে- হ্যাঁ সঠিক। তবে তার দাবি- সল্ট ফিশের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত বৈরুতের অলিগলিতে সাংবাদিকদের হারিয়ে ফেলেন। উরি আভনেরি এখনও ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে তার আলোচনার সবকিছু স্মরণ করতে পারেন। কারণ তিনি প্রতিটি শব্দ প্রকাশ করেন। তার বয়স এখন ৯৪। তেল আভিভে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট তিনি বিবিসির টম বেটম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। তার ওই অ্যাপার্টমেন্টের দেওয়ালে টাঙানো আরাফাত, বিল ক্লিনটন এবং হত্যাকাÐের শিকার ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইটজহাক রবিনের অনেক ছবি। ওইসব ব্যক্তি যারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে- ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে ওই বৈঠক এমন কি হয়েছে, যা তার প্রাণ সংহারের কারণও হতে পারতো?

আভনেরি বলেন, আমার অবশ্য এ ব্যাপারে খানিকটা সন্দেহ আছে। তার ব্যাখ্যা, তিনি বৈঠকটি হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে ফোন করে এটির আয়োজন করেন। তিনি বলেন, তারা যদি খুব দক্ষ হতো, তাহলে তারা ফোনে আমাদের কথা শুনতে পারতো, এরপর যেখানে আমি সীমানা পেরিয়েছি, সেখান থেকে তারা আমাদের গাড়ি অনুসরণ করতে পারতো। এটা সম্ভব ছিল। সল্ট ফিশ ইউনিটের প্রধান ছিলেন লেফটেনান্ট কর্নেল উজি দায়ান, যিনি এক সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হয়েছিলেন। তিনি বিবিসির টম বেটম্যানকে বলেন, তার টিম ৮ থেকে ১০টি চেষ্টা চালায় ইয়াসির আরাফাতকে হত্যা করতে। তবে কর্নেল দায়ান ‘গুপ্তহত্যা’ শব্দটি এড়িয়ে যান। তিনি বারবার বলেন, তার লক্ষ্য ছিল এটা নিশ্চিত করা যে আরাফাত ‘জীবিত থাকবেন না’। সূত্র: বিবিসি




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: